• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [46] টি | অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ | দেখানো হচ্ছে   [31]  থেকে  [40]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ৩১ | 31 | ۳۱

৩১। আবূ আবদুর রহমান আস-সুলামী, আলী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, একদা আল্লাহর রাসূল বসে আছেন, তাঁর হাতে ছিল একখন্ড কাষ্ঠ, যা দিয়ে মাটি পেটানো যায় (মুগুর ধরনের)। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি মস্তক উত্তোলণ করে ইরশাদ করলেন, তোমাদের প্রত্যেকের আত্মাকে জান্নাত অথবা দোযখে নিজ নিজ ঠিকানা অবগত করানো হয়েছে। . আলী (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে আমরা আমল করবো কেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমল করে যাও, যাকে যে কর্মের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তা তার কাছে সহজ করা হয়েছে। (অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র কুরআনের এই আয়াত পাঠ করেন “অতএব, যে দান করে এবং আল্লাহকে ভয় করে এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে; আমি তাকে সুখের বিষয়ের জন্য সহজ পথ দান করবো; আর যে কৃপনতা করে ও বেপরওয়া হয় এবং উত্তম বিষয়কে মিথ্যা মনে করে; আমি তাকে কষ্টের বিষয়ের জন্য সহজ পথ দান করবো।” (সূরা আল-লায়ল, ৫-১০) (একই বর্ণনাকারী থেকে অপর বর্ণনায় আছে) আলী (রাঃ) বলেন, আমরা একদা ‘বাকীউল গারকাদ’ নামক একটি জানাযার সাথে ছিলাম। এমন সময় সেখানে আমাদের কাছে আল্লাহর রাসূল আগমন করলেন এবং বসলেন; আমরাও তাঁর চারপাশে বসে গেলাম। তাঁর সাথে ছিল একটি লাঠি যার উপর ভর করা যায়। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দৃষ্টি উত্তোলন করলেন এবং বললেন, তোমাদের প্রত্যেকের আত্মার জন্য জান্নাত অথবা দোযখে তার ঠিকানা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে; আরও লিপিবদ্ধ করা হয়েছে-(প্রতিটি) আত্মার বদকার অথবা নেককার হওয়ার বিষয়। উপস্থিত জনতা বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাহলে আমরা কি আমাদের কিতাবের (তাক্দীর) উপর ভরসা করে আমল বা কর্ম পরিত্যাগ করব না? কারণ যে নেককার হবে, সে নেকীর (কল্যাণ) দিকে ধাবিত হবে এবং যে বদকার হবে, সে বদির (অকল্যান, অশুভ ও ভয়াবহতার) প্রতি ধাবিত হবে? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না তোমরা আমল করে যাও, প্রত্যেকেই সহজ পন্থা পাবে। সুতরাং যে বদকার হবে, তার জন্য অশুভ ও বদকাজ সহজ করা হবে; আর যে কল্যানকামী ও নেককার হবে, তার জন্য কল্যানময় কর্ম সহজ করা হবে। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ পাঠ করেন ( ) (বুখারী, মুসলিম, আবূ ইয়ালা।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ৩২ | 32 | ۳۲

৩২। ইবনুু্ উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদা) উমর (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা যে আমল করি এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? (অর্থাৎ) যে বিষয় সম্পন্ন করা হয়েছে, তার ভিত্তিতে, নাকি শুরু থেকে নতুন করে করছি তার (ভিত্তিতে)? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যা সম্পন্ন করা হয়েছে, (তার ভিত্তিতে)। অতএব, ওহে খাত্তাব তনয়! তুমি আমল করতে থাক, কারণ প্রত্যেকের জন্য কর্ম (ভাল কিংবা মন্দ) সহজ করা হয়েছে, সুতরাং যে ব্যক্তি নেককার হবে, সে কল্যাণের জন্য আমল করবে আর যে বদকার, সে অকল্যান ও বিপর্যয়ের জন্য কর্ম করবে। (তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ্ ও হাসান আখ্যায়িত করেছেন।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ৩৩ | 33 | ۳۳

৩৩। আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর বিন আল’আস (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সম্মুখে উপস্থিত হলেন। তাঁর হাতে দুটি কিতাব। বললেন, তোমরা জান কি এ দু‘টো কিতাব কী? আমরা বললাম, জ্বি না, তবে আপনি যদি বলে দেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি তাঁর ডান হাতের কিতাব সম্পর্কে বললেন-এটি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর পক্ষ থেকে, এতে লিপিবদ্ধ আছে জান্নাতবাসীগণের নাম, তাদের পিতার নাম এবং তাদের গোত্রের নাম। জান্নাতবাসী সর্বশেষ ব্যক্তির নামে (এই কিতাব) শেষ করা হয়েছে; এদের সংখ্যা আর কখনও বৃদ্ধি করা হবে না এবং হরাসও করা হবে না। এরপর তিনি (রাসূল) তাঁর বাম হাতে রক্ষিত কিতাব সম্পর্কে বললেন, এটি নরকবাসীদের কিতাব। এতে লিপিবদ্ধ আছে তাদের নাম, পিতার নাম ও গোত্রের নাম এমনিভাবে সর্বশেষ ব্যক্তির নাম দিয়ে (এই কিতাব) সমাপ্ত করা হয়েছে। এদের সংখ্যাও আর কখনও বৃদ্ধি করা হবে না এবং হরাস করা হবে না। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, বিষয়টি যদি এমনই নিষ্পত্তি (বা সম্পন্ন) হয়ে গিয়ে থাকে, তবে আর আমরা আমল করবো কিসের জন্য? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা দৃঢ় প্রত্যয় ও বাসনা নিয়ে কর্মে (আমল করতে) প্রবৃত্ত হও। (অর্থাৎ সৎকর্ম সম্পাদন করতে থাক)। কারণ, জান্নাতবাসীকে জান্নাতের কর্মের মাধ্যমে মৃত্যু দেওয়া হবে। যদিও সে অন্য কর্মও করে (অর্থাৎ কোন কোন সময় জান্নাতের পরিপন্থী কর্ম করলেও।) আর জাহান্নামবাসীকে নরকবাসীর কর্মের মাধ্যমে তুলে নেয়া হবে যদিও সে অন্য কর্মও করে থাকে। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত মুষ্ঠিবদ্ধ করে বললেন, তোমাদের মহাপ্রভু (আল্লাহ) বান্দাদের সম্পর্কে ফায়সালা চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। এরপর তাঁর ডান হাত সম্প্রসারিত করে বললেন, একদল প্রবেশ করবে জান্নাতে এবং বাম হাত সম্প্রসারিত করে বললেন অন্য একদল প্রবেশ করবে ‘সায়ীর’ জাহান্নামে। (বায্যার নাসাঈ, তিরমিযী। তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ৩৪ | 34 | ۳٤

৩৪। আবদুর রহমান ইবনুু্ কাতাদাহ আস্-সুলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা’আলা আদম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে সৃষ্টি করার পর তাঁর পৃষ্ঠদেশ থেকে অন্যান্য সমগ্র সৃষ্টিকুল (মানব সন্তান) বের করে আনলেন এবং বললেন, এরা জান্নাতে যাবে এবং আমি কারো পরওয়া করি না। আর এরা জাহান্নামে যাবে এবং আমি কোন কিছুর পরওয়া করি না। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় জনৈক প্রশ্নকারী প্রশ্ন করলেন, তাহলে আমরা কিসের উপর ভরসা করে আমল করবো? ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তিনি বললেন, তাকদীরের প্রতিফলনের উপর (ভরসা রেখে)। (অর্থাৎ তোমার আমল বা কর্মই বলে দেবে কোন ধরনের তাকদীর তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।) (হাকিম ও আহমদ এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ৩৫ | 35 | ۳۵

৩৫। ইমরান ইবনুু্ হুসাইন (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, (একদা) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্ন করা হয় অথবা বলা হয়, জান্নাতবাসীগণের মধ্য থেকে নরকবাসীদের কি চিনা যায়? তিনি বললেন, হ্যাঁ। প্রশ্নকারী বললেন, তাহলে আমলদার লোকগণ কোন আমল করবেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রত্যেকে সেই আমলই করে, যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে অথবা যা তার জন্য সহজ করা হয়েছে। (বুখারী, মুসলিম ও আবূ দাউদ।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ৩৬ | 36 | ۳٦

৩৬। আবূল আসওয়াদ আদ্ দুয়ালী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা প্রত্যুষে ‘ইমরান ইবনুু্ হুসাইন (রাঃ) এর কাছে গমন করি। তিনি ‘ইয়া আবাল আসওয়াদ’ বলে আমাকে সম্বোধন করে তারপর (সেই) হাদীস বর্ণনা করেন। (একদা) জুহাইনা অথবা মুযাইনা গোত্রের জনৈক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সমীপে উপস্থিত হন এবং জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মানুষ আজকের দিনে যে আমল করছে এবং তাকে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, সে সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? অর্থাৎ এই আমল কি পূর্বে নির্ধারিত তাকদীরের ভিত্তিতে যা তাদের জন্য অতিবাহিত ও সম্পন্ন করা হয়েছে। নাকি তারা ভবিষ্যতে যা করবে তাই হবে এর ভিত্তিতে? (অর্থাৎ) যা তাঁদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য নিয়ে এসেছেন এবং যে বিষয়ের উপর তাদের কাছ থেকে প্রতিশ্র“তি গ্রহণ করা হয়েছিল (আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘আমি কি তোমাদের প্রভু নই’ বিষয়ক) সেই ভিত্তিতে (আমল করবে এবং তদানুসারে ফলাফল ভোগ করবে)? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বরং যা তাদের জন্য বিগত ও সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে সেই বিষয়ের উপর (বিশ্বাস রেখে কর্ম করবে)। প্রশ্নকারী বললেন, তা-ই যদি হয় তবে তারা কেন কর্ম বা আমল করবে, ইয়া রাসূলাল্লাহ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দু‘টি ঠিকানার (জান্নাত ও নরক) মধ্যে যাকে যেটির জন্য আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টি করেছেন, তাকে সেটির জন্য কর্ম করার জন্য প্রস্তুত করে দেন। এ বিষয়টির সত্যয়ন রয়েছে আল্লাহ তা‘আলার কিতাবে ( )(বুখারী, মুসলিম ও আবূ দাউদ)।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ৩৭ | 37 | ۳۷

৩৭। আবূদ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা লোক সকল জিজ্ঞেস করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আমরা যে আমল করছি এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? এটা কি নিষ্পন্ন হওয়া কোন বিষয়, না কি যা আমরা এখন শুরু থেকে করছি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বরং তা (আমল) নিষ্পন্ন হওয়া বিষয়ের ভিত্তিতে। তারা বললো, তাহলে কর্মের বিষয়টি কীভাবে (দেখা হবে)? ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন, প্রত্যেক মানুষ প্রস্তুত (এমন কর্ম করার জন্য) যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। (হাকিম ও তাবরানী। হাদীসটির পাশে সহীহ্ হবার প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ৩৮ | 38 | ۳۸

৩৮। আবদূল্লাহ ইবনুু্ উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে একদল ‘মাজূস’ বা (অগ্নি উপাসক) রয়েছে আমার উম্মতের মধ্যে ‘মাজূস’- হচ্ছে ঐসব লোক যারা বলে তাকে ‘তাকদীর নেই’। ঐ সব লোক পীড়িত হলে তোমরা দেখতে যাবে না। মৃত্যু হলে জানাযায় হাযির হবে না। (একই বর্ণনাকারী থেকে অন্যভাবে) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রত্যেক উম্মতে অগ্নিপূজকদল রয়েছে, আমার উম্মতের অগ্নিপূজক হচ্ছে তাকদীরের অস্বীকারকারীর দল। এরা মৃত্যুমুখে পতিত হলে, তোমরা জানাযায় শরীক হবে না এবং পীড়িত হলে তাদের দেখতে যাবে না। অর্থাৎ অগ্নিপূজা বা সূর্য উপাসনা যেমন শিরকের মধ্যে অন্যতম নিকৃষ্ট বা গর্হিত কাজ, তাকদীর অস্বীকার করাও মূলত যারপর নাই গর্হিত কাজ ও বেঈমানীর প্রধান লক্ষণ।) (আবূ দাউদ, হাকিম, হাদীসটি সহীহ্)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ৩৯ | 39 | ۳۹

৩৯। আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল কে বলতে শুনেছি যে, এই উম্মতের মধ্যে অচিরেই মাস্খ (বা আকৃতিগত বিকৃতি) দেখা দিবে। সাবধান, জেনে রাখ, ওরা হচ্ছে তাকদীর অস্বীকারকারীর দল ও যিন্দীকের দল (যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, অথবা বাহ্যত ঈমানদার বলে দাবী করলেও অন্তরে কুফর লালন করে।) (আবূ দাউদ ও তিরমিযী, তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ্, গরীব।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ৪০ | 40 | ٤۰

৪০। হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয় প্রত্যেক উম্মতের মাজূস (বা অগ্নি উপাসক) বিদ্যমান। আর আমার উম্মতের মধ্যে মাজূস হচ্ছে যারা বলে, ‘তাকদীর নেই’। তাদের মধ্যে কেউ পীড়িত হলে তোমরা তার পরিচর্যা করবে না এবং তাদের কেউ মৃত্যুবরণ করলে তার জানাযায়ও শরীক হবে না। এরা হচ্ছে দাজ্জালের অনুসারী। আল্লাহর দায়িত্ব হচ্ছে এদেরকে দাজ্জালের সাথে মিলিয়ে দেয়া (অর্থাৎ রোজ হাশরে এরা দাজ্জালের দলভুক্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে।) (আবূ দাউদ, এ হাদীসের সনদে অপরিচিত এক রাবী আছে)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [31]  থেকে  [40]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [46]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।