• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [197] টি | অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ | দেখানো হচ্ছে   [31]  থেকে  [40]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ১১ | 11 | ۱۱

১১। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর দক্ষিণ হস্ত সর্বদা পরিপূর্ণ; দিবা-নিশির বর্ষার ন্যায় ব্যাপক দান তাতে কোন ঘাটতি সংযোজন করতে পারে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, তোমরা কি লক্ষ্য করে দেখ না যে, এই আকাশ ও মৃত্তিকার সৃষ্টিলগ্ন থেকে কী পরিমাণ দান আল্লাহ করেছেন। কিন্তু তাতেও তাঁর দক্ষিন হস্তের ভান্ডার ঘাটতির সম্মুখীন হয়নি। তিনি আরও বলেন, আল্লাহর মহান আরশ হচ্ছে পানির উপর, এবং তাঁর অপর হস্তে বয়েছে মীযান বা মানদন্ড যা তিনি উঁচু ও নীচু করে থাকেন। (অর্থাৎ তাঁর করুণার ভান্ডার অফুরন্ত এবং তাঁর কুদরতের মানদন্ড সর্বদা ক্রীয়াশীল।) [বুখারী, মুসলিম, বায়হাকী ও অন্যান্য]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ১১ | 11 | ۱۱

১১। তালহা বিন ‘উবাঈদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা এক বেদুঈন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমীপে উপস্থিত হয়ে বললো, ইয়া রাসুলুল্লাহ! ইসলাম কি? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দিবা-রাত্রিতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। সে বললো, এ ছাড়া আমার উপর আরও কিছু সালাত আছে কি? তিনি বললেন, না। সে সিয়াম সম্পর্কেও প্রশ্ন করলো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রমযানের সিয়াম। সে বললো, এ ছাড়া আমার উপর আরও কিছু সিয়াম আছে কি? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না। সে যাকাত প্রসঙ্গেও জানতে চাইলো এবং বললো, যাকাত ছাড়া আমার উপর আরও কিছু কর্তব্য আছে কি? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না। সে বললো, আল্লাহর শপথ, আমি এর উপর কিছু অতিরিক্ত করবো না এবং এর থেকে কিছু কমও করবো না। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, লোকটি যদি সত্যি বলে থাকে, তবে সে নিশ্চিত মুক্তি লাভ করেছে। (বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ ও অন্যান্য)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ১১ | 11 | ۱۱

১১। ইমাম জুহরী (রহ) এর বর্ণনা থেকে জানা যায়, তিনি আবূ খুযা‘আর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি (একদা) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললাম এবং সুফিয়ান বলেন, (মধ্যবর্তী একজন বর্ণনাকারী) একদা আমি আল্লাহর রাসূলকে জিজ্ঞেস করলামঃ আমরা চিকিৎসা ক্ষেত্রে যে ঔষধ ব্যবহার করি, ঝাড়ফুঁক ব্যবহার করি এবং তাবিয তুমার গ্রহণ করে কষ্ট থেকে বাঁচতে চাই এ সবের ব্যাপারে আপনার মতামত কী? এটা কি আল্লাহর ভাগ্যলিপি থেকে কিছু পরিবর্তন সাধন করতে পারে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটাও আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা’আলার কদরে (লিপিতে) বিদ্যমান। ইবনুু্ মাজাহ, তিরমিযী তিনি এ হাদীসটিকে সহীহ্ ও হাসান আখ্যায়িত করেছেন। হাকিমও হাদীসটি বর্ণনা করে সহীহ্ বলে দাবী করেছেন, আর যাহাবী তাঁর বক্তব্য সমর্থন করেছেন।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ১২ | 12 | ۱۲

১২। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিবসে আল্লাহ ভুমিকে কবজা করবেন এবং আকাশকে তাঁর দক্ষিণ হস্তে গুটিয়ে নিবেন। অতঃপর (সদর্পে) ঘোষণা করবেন, আমিই (সার্বভৌম ক্ষমতাধর) সম্রাট (আজ) পৃথিবীর (তথাকথিত)সম্রাটরা কোথায়? [বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ১২ | 12 | ۱۲

১২। মু‘আবিয়া বিন হায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আল্লাহর শপথ, আমি আপনার নিকট আসার পূর্বে এর (দশবারের) অধিক শপথ পাঠ করেছি যে, আপনার নিকট আসবো না এবং আপনার দ্বীনও গ্রহন করবো না, এ সময় বাহায (একজন রাবী) তাঁর হাত দুটি একত্রিত করেন। অন্য বর্ণনায় আমরা এই অঙ্গুলি সমান সংখ্যকবার শপথ করেছি যে, আপনার কাছে আসবো না এবং আপনার দ্বীনও গ্রহন করবো না। আমি প্রায়শ এমনসব লোকের সাক্ষাৎ পাই (যাঁদের কাছ থেকে দ্বীন সম্পর্কে) কিছুই বুঝতে পারি না, তবে হ্যাঁ, যা আমাকে আল্লাহ ও রাসুল শিক্ষা দিয়েছেন (তা ব্যতিত)। আমি আল্লাহর ওয়াস্তে আপনাকে প্রশ্ন করছি, আমাদের প্রভু আপনাকে আমাদের কাছে কি দিয়ে প্রেরণ করেছেন? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইসলাম দিয়ে। মু‘আবিয়া বললেন, ইসলামের চিহ্ন কি ইয়া রাসুলুল্লাহ (অন্য বর্ণনায়, ইসলাম কি?)? তিনি বললেন, তা হচ্ছে এই যে, তুমি বলবে, আমি আমার মুখমন্ডল (নিজ সত্তা) সমর্পণ করলাম (আল্লাহর নিকট) এবং যাবতীয় শিরক থেকে নিজেকে মুক্ত করলাম এবং সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং (জেনে রেখ) প্রতিটি মুসলিমের জন্য অপর মুসলিমের জীবন (হরণ) হারাম। তারা পরস্পর সহযোগী, ভাই। ইসলাম গ্রহণ করার পর কেউ মুশরিকসুলভ শিরক করলে আল্লাহ তার কোন নেক আমল গ্রহণ করেন না যতক্ষন না সে তওবা করে মুসলিমের দলে ফিরে আসে এবং মুশরিকদের মধ্যে ভাঙ্গন ধরায়। তোমাদের এ কী অবস্থা যে, যে আমি তোমাদেরকে তোমাদের কোমরের রশিতে ধরে অগ্নি থেকে ফিরিয়ে রাখার চেষ্টা করছি, আর তোমরা ফসকে (নরকে) পতিত হচ্ছ? মনে রেখ, আমার প্রভু আমাকে আহ্বান জানিয়ে জিজ্ঞেস করেছেন, তুমি কি আমার বান্দাদের কাছে (আমার বার্তা) পৌঁছে দিয়েছো? আর আমি উত্তরে বলেছি, ইয়া রব, নিশ্চিত আমি তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। সাবধান, তোমাদের মধ্যে উপস্থিতজন যেন অনুপস্থিতকে (আমার বার্তা) পৌঁছে দেয়। এরপর তোমাদেরকেও (আল্লাহর পক্ষ থেকে) ডাক দেওয়া হবে (জওয়াবদিহির জন্য) এবং (সেই দিন) তোমাদের মুখে (জিহ্বায়) ছাঁকনি (আঁটি) লাগিয়ে দেওয়া হবে এবং তোমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করবে এবং সর্বপ্রথম অঙ্গ সাক্ষ দিবে তা হচ্ছে, একথা বলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে তাঁর রানের উপর মৃদু আঘাত করেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, নিশ্চয়ই সর্বপ্রথম যে অঙ্গ তোমাদের সম্বন্ধে সাক্ষ্য দেবে তা হচ্ছে তোমাদের উরু এবং হাতের তালু। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! এই কি তবে আমাদের দ্বীন? তিনি বললেন, এই তোমাদের দ্বীন, তোমরা এর যত সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে তা-ই কাজে আসবে। (হাকিম ও নাসাঈ)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ১২ | 12 | ۱۲

১২। ইবনুু্ আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে সওয়ারীতে উপবিষ্ট হন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেন, ওহে বৎস! আমি তোমাকে কিছু সংখ্যক কালেমা (উপদেশ বাণী) শিক্ষা দিচ্ছি (এ সবের মাধ্যমে আল্লাহ তোমার মংগল করবেন) আল্লাহর বিধান মেনে চলবে আল্লাহ্ তোমাকে হিফাযত করবেন। আল্লাহর বিধান মেনে চলবে তাতে আল্লাহকে তোমার দিকে সদয় পাবে। যখন কোন কিছু যাঞ্ছা করবে, তখন আল্লাহর নিকটই যাঞ্ছা করবে। আর যখন সাহায্য প্রার্থনা করবে, তখন আল্লাহরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করবে। জেনে রাখ, সমগ্র উম্মত যদি তোমার উপকার করার নিমিত্ত একত্রিত হয়, তবুও আল্লাহ যা তোমার জন্য লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন তার বাইরে তারা তোমার কোন উপকার করতে পারবে না। অপরদিকে তারা যদি তোমার কোন ক্ষতি সাধন করার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়, তবু আল্লাহ তোমার জন্য যা লিখে রেখেছেন তার বাইরে কোন ক্ষতি করতে পারবে না। (মনে রাখবে) কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং (রেজিষ্টার) বহিসমূহ শুকিয়ে গিয়েছে (অর্থাৎ উপকার বা অপকার যা কিছু হওয়ার তা আল্লাহর রেকর্ডে লেখা সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে।) ইবনুু্ আব্বাস (রাঃ) থেকে দ্বিতীয় একটি বর্ণনা ধারায়) এরূপই বর্ণিত হয়েছে। তবে তাতে অতিরিক্ত আছে (তোমার সুসময়ে আল্লাহকে চিনার চেষ্টা কর, আল্লাহ তোমাকে তোমার কষ্টের সময়ে চিনে নিবেন)। (এতে আরও আছে) যদি সমগ্র সৃষ্টিকুল তোমার সামান্য উপকার করতে ইচ্ছুক হয়, যা আল্লাহ তোমার জন্য লিপিবদ্ধ করেন নি, তবে তারা তা করতে সক্ষম হবে না এবং যদি তারা তোমার এমন কোন অনিষ্ট করতে চায়, যা আল্লাহ তোমার জন্য লিখেন নি, তবে তারা তা করতে পারবে না। জেনে রাখ! দুঃসময়ে ধৈর্যধারণ করার মধ্যে বহুবিধ কল্যাণ নিহিত এবং ধৈর্যের সাথেই থাকে (আল্লাহর) সাহায্য আর বিজয়। বিপদের সাথেই থাকে প্রশান্তি এবং কষ্টের পরেই আসানী বা সুখ। (হাকিম ও তিরমিযী, তিনি হাদীসটি হাসান ও সহীহ্ বলে মন্তব্য করেছেন।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ১৩ | 13 | ۱۳

১৩। আবূ যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’আমি এমন কিছু দেখতে পাই যা তোমরা দেখতে পাও না, এবং এমন কিছু শুনতে পাই, যা তোমরা শুনতে পাও না। (আমি দেখতে ও শ্রবণ করতে পাই যে,)আকাশ ফিরিশতাদের পদচারণায় ভারাক্রান্ত হওয়াই উচিত। সেখানে চার আঙ্গুল পরিমাণ এমন কোন স্থান নেই, যেখানে একজন করে সিজদারত ফিরিশতা নেই। আমি যা জানি, তা যদি তোমরা জানতে, তবে তোমরা হাসতে কম কাঁদতে বেশী, আর বিছানার উপরে (আরাম করে) নারী সম্ভোগে সময় কাটাতে না; এবং অবশ্যই গৃহ থেকে বের হয়ে সুউচ্চ রাস্তায় (কিংবা বন-বাদাড়ে) ঘুরে বেড়াতে - আল্লাহর সান্নিধ্য ও করুণা প্রাপ্তির অন্বেষায়। ’ . আবূ যর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ, আমি মনে-প্রাণে কামনা করছিলাম আমি যদি একটি বৃক্ষ হতে পারতাম যাকে কর্তন করা হবে। [ইবনুু্ মাজাহ্ ও তিরমিযী তিনি বলেন হাদীসটি হাসান ও গরীব]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ১৩ | 13 | ۱۳

১৩। আবূ রাযীন আল ‘উকাবলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে আরয করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ, ঈমান কি? তিনি বললেন, তুমি সাক্ষ্য দেবে যে, একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তাঁর কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার নিকট অন্য সকলের চেয়ে প্রিয়তম হবে এবং আল্লাহর সাথে শরীক করার চেয়ে তুমি অগ্নিতে দগ্ধ হওয়াকে অধিক পছন্দ করবে আর তুমি অনাতœীয় কাউকে ভালবাসবে কেবল আল্লাহর (ভালবাসার) জন্য। যখন তুমি ঐরূপ হতে পারবে, তখন (বুঝতে হবে যে), ঈমান-প্রীতি তোমার অন্তরে স্থান করে নিয়েছে, ঠিক যেমন অত্যাধিক গরমের দিনে তৃষ্ণার্তের মনে পানির প্রীতি স্থান করে নেয়। আমি বললাম, আমি কিভাবে জানতে পারবো যে, আমি মু‘মিন, ইয়া রাসুলুল্লাহ? তিনি বললেন, আমার উম্মতের যে কেউ অথবা এই উম্মতের যে কোন বান্দা ভাল কর্মকে ভাল জ্ঞান করে আমল করবে এবং এ জন্য আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই তাকে উত্তম প্রতিদান দান করবেন। আর যখন কোন খারাপ কর্ম করে এবং বুঝতে পারে এটা খারাপ তখন এই বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করে যে, ক্ষমা করার মালিক একমাত্র তিনই, তখন (বুঝতে হবে) এই লোকটি নিশ্চিতই মু‘মিন।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ১৩ | 13 | ۱۳

১৩। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম ও মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপোষে বিতর্কে লিপ্ত হন। মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে আদম! আপনি আমাদের পিতা, আপনি আমাদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছেন এবং জান্নাত থেকে বহিষ্কার করেছেন। (অন্য বর্ণনায় এসেছে আপনি সেই আদম, আপনার বিচ্যুতি বা ভুল আপনাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে)। আদম উত্তরে বললেন, হে মূসা, আপনাকে আল্লাহ তা’আলা তাঁর কালামের জন্য (অথবা কালামের মাধ্যমে) নির্বাচিত করেছেন। আর একবার (আদম) বললেন, তাঁর রিসালাতের জন্য নির্বাচিত করেছেন এবং স্বয়ং নিজ হাতে লিখেছেন আপনার জন্য আর আপনি (মূসা) কি না এমন একটি বিষয়ে আমাকে র্ভৎসনা করছেন, যে বিষয়টি আল্লাহ আমাকে সৃষ্টি করার চল্লিশ বছর পূর্বে নির্ধারণ করে রেখেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আদম বিজয়ী হলেন মূসার উপর, আদম বিজয়ী হলেন মূসার উপর। (বুখারী, মুসলিম, হাকিম ও চার সুনান গ্রন্থ)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ১৪ | 14 | ۱٤

১৪। আবূ যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ জাল্লা শানুহু বান্দাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, হে আমার বান্দারা তোমরা প্রত্যেকেই গোহগার, অবশ্য আমি যাকে ক্ষমা করে দিয়েছি (সে ব্যতীত)। সুতরাং , তোমরা আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেব। আর যে ব্যক্তি (তার বিশ্বাসের কারণে) জানে যে, আমি ক্ষমা করার শক্তি সংরক্ষণ করি (আর এ বিশ্বাসে) সে আমার কাছে আমার শক্তিমত্তার সাহয্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তো আমি কারো তোয়াক্কা না করে তাকে ক্ষমা করে দেই। আর তোমাদের প্রত্যেকেই পথভ্রষ্ট অবশ্য আমি যাকে পথ প্রদর্শন করি (সে ভিন্ন), সুতরাং তোমরা আমার কাছে সঠিক পথনির্দেশ কামনা কর আমি তোমাদের পথ নির্দেশ করব। আর তোমাদের প্রত্যেকেই হত দরিদ্র, অবশ্যআমি যাকে ধনাঢ্য করি (সে ভিন্ন), সুতরাং তোমরা আমার কাছে ঝাঞ্ঝা কর (ভিক্ষা চাও), আমি তোমাদের ধনাঢ্য করে দেব। যদি তোমাদের প্রথম ও সর্বশেষ (অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, যদি তোমাদের মানবকুল ও জ্বিনকুল তোমাদের ছোট ও বড়, তোমাদের স্ত্রী ও পুরুষকুল), তোমাদের জীবিত ও মৃত তোমাদের দ্রবীভ’ত ও বিশুদ্ধ (অর্থাৎ পৃথিবীর তাবৎ শক্তি) যদি আমার বান্দার অন্তঃকরণসমূহের মধ্য থেকে সবচেয়ে রুক্ষ ও শক্ত অন্তঃকরণে একত্রিত হয় (এবং আপ্রাণ চেষ্টা চালায়) তবু মাছির পাখার সমান (সামন্যতম) ক্ষতিও সাধন করতে পারবে না আমার সার্বভৌম সমরাজ্যে। (পক্ষান্তরে) যদি তারা আমার বান্দাদের অন্তঃকরণসমূহের মধ্য থেকে সবচেয়ে পবিত্র অন্তঃকরণেএকত্রিত হয় (এবং সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়) তবু তারা আমার সার্বভৌম রাজত্বে মাছির পাখা পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারবে না। আবার যদি তোমাদের সর্বপ্রথম ও সর্বশেষ (অন্য বর্ণনা মতে যদি তোমাদের মানবকুল, জ্বিনকুল, তোমাদের ছোট ও বড়, তোমাদের স্ত্রী ও পুরুষকুল), তোমাদের জীবিত ও মৃত, তোমাদের সবল ও দুর্বল একত্রিত হয়ে প্রত্যেকেই নিজ নিজ কামনা - বাসনা ও আশানুরূপ আমার কাছে চাহিদা পেশ করে এবং আমি প্রত্যেককে তার আকাক্ষা অনুযায়ী দান করি। (তবুও) আমার ভান্ডারে কোনই ক্ষতি সাধিত হবে না। অনুরূপভাবে যদি তোমাদের কেউ সমুদ্রের কিনারা বয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি সূঁচ সমুদ্রের পানিতে ডুবিয়ে তা উঠিয়ে নেয় (তাতে সমুদ্রের পানির যেমন কোন ক্ষতি বা ঘাটতি সাধিত হয় না)। তেমনি আমার সার্বভৌম (ক্ষমতার) রাজ্যের কোন ক্ষতি হয় না। কারণ, আমি হচ্ছি ’জাওয়াদ’ বা দয়ার সাগর, ”মাজেদ” করুণা ও সম্মানের আধার, সামাদ এবং অমুখাপেক্ষী। আমার দান (করুণা) হচ্ছে ’কালাম’ বা বাণী এবং আমার শাস্তি হচ্ছে ’কালাম’ বা বাণী। (অন্য বর্ণনায় এসেছে, আমার দান হচ্ছে আমার কালাম এবং আমার শাস্তি হচ্ছে আমার কালাম)। যখন আমি কোন কিছু সংঘটিত করতে চাই তখন আমি বলি ’কুন’ ’হয়ে যাও’, অতঃপর তা হয়ে যায়। [একই বর্ণনাকারী (অর্থাৎ আবূ যর (রাঃ) থেকে ভিন্ন সূত্রে বর্ণিত)] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মহাপ্রভু আল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন আল্লাহ বলেন, আমি আমার সত্তর উপর এবং আমার বান্দাদের উপর জুলুম বা অবিচার হারাম করে দিয়েছি। অতএব, সাবধান, তোমরা পরস্পর জুলুম (অবিচার) করো না। প্রতিটি আদম সন্তান রাত্রে ও দিবসে ভুল (গনাহ) করে থাকে, অতঃপর আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আর আমি তাকে মার্জনা করে দেই এবং কারো তোয়াক্কা আমি করি না। (আল্লাহ) আরও বলেন, হে আদম সন্তানগণ, তোরা প্রত্যেকেই ছিলে পথভ্রষ্ট, আবশ্য আমি যাকে পথ - নির্দেশনা (হিদায়েত) প্রদান করেছি (সে ভিন্ন); তোমাদের প্রত্যেকেই ছিলে পরিধেয় পরিচ্ছদ বিহীন, আবশ্য আমি যাকে পরিধেয় প্রদান করেছি; তোমাদের প্রত্যেকেই ছিলে অভুক্ত ক্ষুধার্থ অবশ্য আমি যাকে খাবার খাইয়েছি, তোমাদের প্রত্যেকেই ছিলে তৃষ্ণার্থ অবশ্য আমি যাকে পান করিয়েছি। সুতরাং, তোমরা আমার কাছে পথ-নির্দেশনা (হিদায়েত) কামনা কর, আমি তোমাদের পথ নির্দেশনা করব; আমার কাছে পরিধেয় প্রার্থনা কর, আমি তোমাদের পরিধেয় (বস্ত্র ও অন্য কিছু) প্রদান করব; আমার কাছে খাবার প্রার্থনা কর আমি তোমাদের খাবার প্রদান করব; আমার কাছে তৃষ্ণা নিবারণের জন্য পানীয় প্রার্থনা কর, আমি তোমাদেরকে তৃষ্ণা নিবারনী পানীয় প্রদান করব। হে আমার বান্দাগণ, (তোমরা জেনেরাখ) যদি তোমাদের সর্বপ্রথম এবং সর্বশেষ (পূর্বে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ) একত্রিত হয়ে, প্রচেষ্টা চালায় তবু আমার সার্বভৌম (ক্ষমতার) রাজ্যের কোনই ক্ষতিসাধন করতে পারবে না- যেমন পারে না সূচাগ্র সাগর জলের। [মুসলিম, ইবনু মাজাহ]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [31]  থেকে  [40]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [197]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।