• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [2400] টি | অধ্যায়ঃ ২২/ সাওম [রোযা]
গ্রন্থঃ সূনান নাসাঈ | দেখানো হচ্ছে   [2391]  থেকে  [2400]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান নাসাঈ
অধ্যায়ঃ ২২/ সাওম [রোযা]
হাদিস নম্বরঃ ২৩৯১ | 2391 | ۲۳۹۱

২৩৯১। মুহাম্মাদ ইবনু মামার (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেছেন যে, আমাকে আমার পিতা এক সম্ভ্রান্ত মহিলা বিবাহ করালেন। অতঃপর আমার পিতা তার কাছে এসে তার স্বামী সস্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। আমার স্ত্রী বলত যে, আমার স্বামী খুবই ভাল মানুষ (তবে) তিনি কখনো আমার সাথে বিছানা মাড়ান নি এবং আমি তার কাছে আসা অবধি তিনি কখনো আমার পাশে আসেন নি। আমার পিতা তা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ তুমি তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো। অতঃপর আমি আমার পিতার সাথে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর কাছে গেলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কিভাবে সাওম পালন কর? আমি বললাম, আমি প্রত্যেক দিন সাওম পালন করি। তিনি বললেন, তুমি প্রত্যেক সপ্তাহে তিন দিন সাওম পালন করবে। আমি বললাম, (ইয়া রাসুলুল্লাহ!) আমি এর চেয়েও বেশী সাওম পালন করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি দুইদিন সাওম পালন কর এবং একদিন সাওম ভঙ্গ কর। আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ!আমি এর চেয়েও বেশী সাওম পালন করার সামর্থ্য রাখি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে তুমি সর্বোত্তম সাওম অর্থাৎ দাঊদ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাওম পালন কর ; একদিন সাওম পালন কর আর একদিন সাওম ভঙ্গ কর।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান নাসাঈ
অধ্যায়ঃ ২২/ সাওম [রোযা]
হাদিস নম্বরঃ ২৩৯২ | 2392 | ۲۳۹۲

২৩৯২। আর হাসান আব্দুল্লাহ ইবনু আহমদ (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে এক মহিলা বিবাহ করালেন এবং তাকে দেখতে আসলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন যে, তুমি তোমার স্বামীকে কেমন পেলে? সে বলল খুবই ভাল লোক। তিনি রাত্রে নিদ্রাও যান না আর দিনেও সাওম ভঙ্গ করেন না। তখন আমার পিতা আমাকে তিরস্কার করে বললেন, আমি তোমাকে এক মুসলিম মহিলা বিবাহ করালাম আর তুমি তাকে এভাবে ঠেলে রাখলে। (আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি নিজের মধ্যে শক্তি অনুভব করার কারণে আমর পিতার তিরস্কারের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করছিলাম না। এ সংবাদ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌছালে তিনি বললেন, আমি তো সালাতও আদায় করি আবার নিদ্রাও যাই, সাওম পালনও করি আবার সাওম ভঙ্গও করি। তাই তুমিও সালাত আদায় কর, নিদ্রা যাও, সাওম পালন কর এবং - সাওম ভঙ্গও কর। তিনি বললেন, তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন কর। তখন আমি বললাম, আমি তো এরও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি দাঊদ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাওম পালন কর। একদিন সাওম পালন কর আর একদিন সাওম ভঙ্গ কর। আমি বললাম আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে তুমি প্রতি মাসে এক খতম করে কুরআন তিলাওয়াত কর। অতঃপর তিনি তা পনের দিনে খতম করার অনুমতি দিলে আমি বললাম, আমি এর চেয়েও অধিক এর চেয়ে অধিক সামর্থ্য রাখি।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান নাসাঈ
অধ্যায়ঃ ২২/ সাওম [রোযা]
হাদিস নম্বরঃ ২৩৯৩ | 2393 | ۲۳۹۳

২৩৯৩। ইয়াহইয়া ইবনু দুরুসত (রহঃ) আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেছেন যে, একবার রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার কামরায় প্রবেশ করলেন এবং বললেন, আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে, তুমি নাকি সারা রাত্র সালাত আদায় কর এবং সারাদিন সাওম পালন কর? তিনি বললেন, হ্যা। তখন তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি কখনো এরুপ করবে না বরং কিছুক্ষণ নিদ্রা যাবে। আর কিছুক্ষন সালাত আদায় করবে এবং কখনো কখনো সাওম পালন করবে আবার কখনো সাওম ভঙ্গও করে ফেলবে। কেননা তোমার চক্ষুর জন্য তোমার উপর হক রয়েছে, তোমার শরীরের জন্য তোমার উপর হক রয়েছে, তোমার স্ত্রীর জন্য তোমার উপর হক রয়েছে, তোমার মেহমানের জন্য তোমার উপর হক রয়েছে, তোমার বন্ধুর জন্য তোমার হক রয়েছে। আশা করি, তুমি দীর্ঘজীবী হও! তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন করবে। ইহাই সারা বছর সাওম পালন করার সমান হবে, যেহেতূ প্রত্যেক ভাল কাজের জন্য তার দশ দশ গুন সওয়াব রয়েছে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সামর্থ্য রাখি। আমি কঠোরতা অবলম্বন করতে চাইলে তিনি তার অনুমতি দিলেন। তিনি বললেন, তুমি প্রতি সপ্তাহে তিন দিন সাওম পালন করবে। আমি বললাম,আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। আমি কঠোরতা অবলম্বন করতে চাইলে তিনি তার অনুমাতি দিলেন। তিনি বললেন, তুমি আল্লাহর নাবী দাঊদ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ন্যায় সাওম পালন কর। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, দাঊদ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাওম কিরুপ ছিল? রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, বছরের অর্ধেক সময়।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান নাসাঈ
অধ্যায়ঃ ২২/ সাওম [রোযা]
হাদিস নম্বরঃ ২৩৯৪ | 2394 | ۲۳۹٤

২৩৯৪। রবী ইবনু সূলায়মান (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সামনে তার সমন্ধে উল্লেখ করা হলে তিনি বলেনঃ আমি যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন অবশ্যই সারা রাত্র সালাত আদায় করব এবং অবশ্যই সারা দিন সাওম পালন করব। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি কি এরুপ বলেছ? আমি তাঁকে বললাম ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি নিশ্চয়ই এরুপ বলেছি। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি এ রকম পারবে না। অতএব তুমি কখনো কখনো সাওম পালন কর-আর কখনো সাওম ভঙ্গ করে ফেল এবং কিছু সময় নিদ্রা যাও আর কিছু সময় সালাত আদায় কর। আর প্রতি মাসে তিন দিন সাওম পালন কর। কেননা প্রত্যেক ভাল কাজের জন্য তার দশ দশ গুণ সওয়াব রয়েছে। আর এটাই বছর সাওম পালনের সমান। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালন করার সামর্থ্য রাখি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি এক দিন সাওম পালন কর এবং এঁক দিন সাওম ভঙ্গ কর। আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালন করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি একদিন সাওম পালন কর, একদিন সাওম ভঙ্গ কর। আর এটাই দাঊদ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাওম এবং এটাই হলো সর্বোত্তম সাওম। আমি বললাম,আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালন করার সামর্থ্য রাখি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এর চেয়ে উত্তম সাওম আর হয় না। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন, যে তিন দিনের সাওম পালন করার কথা বলেছিলেন তা গ্রহণ করাই আমার নিকট আমার পরিবার-পরিজন ও আমার ধন-সম্পদ থেকে অধিকতর প্রিয় মনে হয়।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান নাসাঈ
অধ্যায়ঃ ২২/ সাওম [রোযা]
হাদিস নম্বরঃ ২৩৯৫ | 2395 | ۲۳۹۵

২৩৯৫। আহমদ ইবনু বাককার (রহঃ) আর সালামা ইবনু আব্দুর রহমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) -এর কাছে গিয়ে বললাম, হে চাচা! রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনাকে যা বলেছিলেন তা আমাকে বলুন। তিনি বললেন, হে আমার ভ্রাতূষ্পুত্র, আমি দৃঢ় সংকল্প করেছিলাম যে, আমি অত্যধিক পবিশ্রম করব, এমনকি মনে মনে বলেছিলাম যে, আমি অবশ্যই সারা জীবন সাওম পালন করব এবং প্রত্যেক দিবা রাত্রে একবার কুরআন খতম করব। এ খবর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কানে ফেললে তিনি আমার কাছে আসলেন এবং ঘরে প্রবেশ করে বললেন যে, আমি শুনেছি - তুমি নাকি বলেছ যে, আমি অবশ্যই সারা জীবন সাওম পালন করব এবং সারাক্ষণ কুরআন তিলাওয়াত করব? আমি বললাম, ইয়া রাসুলল্লাহ! আমি অবশ্যই বলেছি। তিনি বললেন, তুমি এরুপ কর না বরং তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন করবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালন করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি প্রত্যেক সপ্তাহে দুই দিন সাওম পালন করবে সোমবার এবং বৃহষ্পতিবার-। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি দাঊদ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ন্যায় সাওম পালন করবে। কেননা সেটাই আল্লাহ তাঁআলার নিকট সর্বোত্তম সাওম। একদিন সাওম পালন করবে আর একদিন সাওম ভঙ্গ করে ফেলবে। আর দাঊদ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ওয়াদা করতেন তা পূর্ণ করতেন আর যখন শক্রর মুখোমুখী হতেন পলায়ন করতেন না।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান নাসাঈ
অধ্যায়ঃ ২২/ সাওম [রোযা]
হাদিস নম্বরঃ ২৩৯৬ | 2396 | ۲۳۹٦

২৩৯৬। মুহাম্মাদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বলেছিলেন, তুমি (প্রত্যেক দশ দিনে) একদিন সাওম পালন করবে তা হলে অবশিষ্ট দিনগুলোর সওয়াবও তোমার অংশে লেখা হবে। তিনি বলেন, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তা হলে তুমি দুই দিন সাওম পালন কর তাহলে অবশিষ্ট দিনগুলোর সওয়াবও তোমার অংশে লেখা হবে। তিনি বললেন- আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে তুমি তিন দিন সাওম পালন কর, তাহলে অবশিষ্ট দিনগুলোর সওয়াবও তোমার অংশে লেখা হবে। তিনি বললেন, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে তুমি আল্লাহ তাআানার নিকট সর্বোত্তম সাওম- দাঊদ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাওম পালন কর। তিনি একদিন সাওম পালন করতেন আর একদিন সাওম ভঙ্গ করতেন।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান নাসাঈ
অধ্যায়ঃ ২২/ সাওম [রোযা]
হাদিস নম্বরঃ ২৩৯৭ | 2397 | ۲۳۹۷

২৩৯৭। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আলা (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর কাছে সাওমের উল্লেখ করলে তিনি বললেন, তুমি প্রত্যেক দশ দিনে এক দিন সাওম পালন কর তাহলে অবশিষ্ট নয় দিনের সওয়াবও তোমার অংশে লেখা হবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে তুমি প্রত্যেক নয়দিনে এক দিন সাওম পালন কর তাহলে অবশিষ্ট আট দিনের সওয়াবও তোমার অংশে লেখা হবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পানলের সামর্থ্য রাখি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে তুমি প্রত্যেক আট দিনে এক দিন সাওম পালন কর তাহলে অবশিষ্ট সাত দিনের সওয়াবও তুমি পাবে। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালনের সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, আমি এরকম বলতেই থাকলাম, শেষ পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি একদিন সাওম পালন কর আর একদিন সাওম ভঙ্গ কর।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান নাসাঈ
অধ্যায়ঃ ২২/ সাওম [রোযা]
হাদিস নম্বরঃ ২৩৯৮ | 2398 | ۲۳۹۸

২৩৯৮। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) এবং যাকারিয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ)শুআয়ব (রহঃ)-এর পিতা আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেনঃ তুমি একদিনের সাওম পালন কর তাহলে তুমি দশ দশ দিন সাওম পালন করার সওয়াব পাবে। আমি বললাম, আরো কিছু বাড়িয়ে দিন। তিনি বললেন, তাহলে তুমি দুই দিনের সাওম পালন কর, তাহলে অবশিষ্ট নয়দিনের সাওম পালন করার সওয়াবও তোমার অংশে লেখা হবে। আমি বললাম, আরো কিছু বাড়িয়ে দিন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে তুমি তিন দিনের সাওম পালন কর, তাহলে অবশিষ্ট আট দিনের সাওম পালন করার সওযাবও তোমার অংশে লেখা হবে। ছাবিত (রহঃ) বলেন যে, আমি এ হাদীস মুতাররিফ (রহঃ)-এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেন, আমার মনে হয় এ হাদীসের অর্থ হল, সাওম পালনকারী আমলের সংখ্যা বাড়ালেও সওয়াব কম হবে। বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) এভাবে বর্ণনা করেছেন।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান নাসাঈ
অধ্যায়ঃ ২২/ সাওম [রোযা]
হাদিস নম্বরঃ ২৩৯৯ | 2399 | ۲۳۹۹

২৩৯৯। মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আমার কাছে সংবাদ পৌছেছে যে, তুমি নাকি সারা রাত্র সালাত আদায় কর এবং সারা দিন সাওম পালন কর? আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! এর ছাড়াতো আমি ভালই আশা করে থাকি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সর্বদা সাওম পালনকারীর সাওম গ্রহণযোগ্য নয়। তবে আমি তোমাকে সর্বদা সাওম পালন করার নিয়ম বলে দিচ্ছি। তাহলে প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন করা। আমি বললাম, ইয়া রাসুলল্লাহ! আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালন করার সামর্থ্য রাখি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে তুমি পাচ দিন সাওম পালন কর। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালন করার সামর্থ্য রাখি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে তুমি দশ দিন সাওম পালন কর। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়েও অধিক সাওম পালন করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি দাঊদ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাওম পালন কর- তিনি একদিন সাওম পালন করতেন আর একদিন সাওম ভঙ্গ করতেন।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান নাসাঈ
অধ্যায়ঃ ২২/ সাওম [রোযা]
হাদিস নম্বরঃ ২৪০০ | 2400 | ۲٤۰۰

২৪০০। আলী ইবনু হুসাইন (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তারপর দীর্ঘ হাদীস বর্ননা করলেন।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [2391]  থেকে  [2400]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [2400]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।