• ৫৬৬৯৯ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [725] টি | অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ) | দেখানো হচ্ছে   [21]  থেকে  [30]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
হাদিস নম্বরঃ ১৪৫১ | 1451 | ۱٤۵۱

১৪৫১। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক চতুর্থাংশ দ্বীনার বা ততোধিক পরিমাণ চুরিতে হাত কাটার নির্দেম দিতেন। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। একাধিক সূত্রে এই হাদীসটি আমরা রাদিয়াল্লাহু আনহ-এর বরাতে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে মারফু‘ রূপে বর্ণিত আছে। কেউ কেউ এটিকে আমরা সূত্রে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে মাওকূফ‘ রূপেও বর্ণনা করেছেন।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
হাদিস নম্বরঃ ১৪৫২ | 1452 | ۱٤۵۲

১৪৫২। কুতায়বা (রহঃ) ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, একটি ডাল চুরিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত কাটার নির্দেশ দেন যার মূল্য ছিল তিন দিরহাম। এই বিষয়ে সা‘দ আবদুল্লাহ ইবনু আমর, ইবনু আব্বাস, আবূ হুরায়রা ও উম্মী আয়মান রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবীদের মধ্যে কতক আলিমের আমল এতদনুসারে রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন আবূ বাকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহও। তিনি পাঁচ দিরহাম চুরির ক্ষেত্রেও হাত কেটেছেন। উসমান ও আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা দ্বীনারের একচতুর্থাংশ পরিমাণ চুরিতেও হাত কেটেছেন। আবূ হুরায়রা ও আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, তারা বলেন, পাঁচ দিরহাম চুরিতে হাত কাটা হবে। কতক তাবিঈ ফকীহর আমল এতদনুসারে রয়েচে। এ হল মালিক ইব্নানাস, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) -এর অভিমত। তাঁরা এক দ্বীনারের চতুর্থাংশ বা ততোধিক পরিমাণ চুরিতে হাত কাটার মত পোষণ করেন। ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, এক দ্বীনার বা দশ দিরহাম পরিমাণ ছাড়া হাত কাটা যাবে না। এই হাদীসটি মুরসাল। কাসিম ইবনু আবরদুর রহমান (রহঃ) এটিকে ইবনু মাসঊদ ৯রা০ থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। অথচ কাসিম সরাসরি ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে কিছুই শুনেন নি। কতক আলিমের আমল এতদনুসারে রয়েছে। এ হল ইমাম সুফইয়ান ছাওরী ও কূফাবাসী আলিমগণের অভিমত্ তাঁরা বলেন, দশ দিরহাম-এর কম চুরিতে হাত কাটা যাবে না।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
হাদিস নম্বরঃ ১৪৫৪ | 1454 | ۱٤۵٤

১৪৫৪। আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, খিয়ানতকারী, লুন্ঠনকারী এবং ছিনতাইকারীর উপর হাত কর্তন প্রযোজ্য নয়্ ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ। এতদনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে। মুগীরা ইবনু মুসলিম (রহঃ) এটিকে আবূয যুবায়র-জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইবনু জুরায়হ (রা০-এর অনুরূপ (১৪৫৪ নং) রিওয়ায়াত করেছেন। মুগীরা ইবনু মুসলিম (রহঃ) হলেন, বাসরী, আবদুল আযীয কাসমালী (রহঃ) -এর ভাই। আলী ইবনু মাদ্বীনী (রহঃ) এইরূপই বলেছেন।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
হাদিস নম্বরঃ ১৪৫৫ | 1455 | ۱٤۵۵

১৪৫৫। কুতায়বা (রহঃ) রাফি‘ ইবনু খাদীজ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, ফল ও থোরের ক্ষেত্রে হাত কাটা নেই। কতক রাবী ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ-মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু হাববান-তার চাচা ওয়াসি‘ ইবনু হাববান-রাফি‘-নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে লায়স ইবনু সা‘দ (রহঃ) -এর অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) প্রমুখ এই হাদীসটিকে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ-মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু হাববান-রাফি‘ ইবনু খাদীজা (রা-নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। এতে তারা ওয়াসি‘ ইবনু হাবাবন (রহঃ) -এর উল্লেখ করেন নি।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
হাদিস নম্বরঃ ১৪৫৬ | 1456 | ۱٤۵٦

১৪৫৬। কুতায়বা (রহঃ) বসুর ইবনু আরতাত রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, যুদে্:ধ থাকাবস্থায় হাত কাটা যাবে না। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। ইবনু লাহীয়া ছাড়া অন্যান্য রাবীও এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। বুসর ইবনু আরতাত রাদিয়াল্লাহু আনহ-কে বর্ণনান্তরে বুসর ইবনু আবূ আরতাত রূপেও উল্লেখ হয়েছে। আওযাঈ (রহঃ) সহ কতক আলিমের আমল এতদনুসারে রয়েছে। তারা যুদ্ধে থাকাবস্থায় শত্রুর উপস্থিতে হদ প্রয়োগ করার মত দেন না। কারণ, এতে আশংকা আছে যে, যার উপর হদ প্রয়োগ করা হল সে হয়ত শত্রুর দলে ভিড়ে যাবে। ইমাম বা ইসলামি প্রশাসক যুদ্ধাঞ্চল থেকে বের হয়ে যখন ইসলামী এলাকায় ফিরে আসবেন তখন তিনি অপরাধীর উপর হদ প্রয়োগ করবেন। আওযাঈ (রহঃ) এইরূপ কথা ব্যাখ্যা করেছেন।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
হাদিস নম্বরঃ ১৪৫৭ | 1457 | ۱٤۵۷

১৪৫৭। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) হাবীব ইবনু গালিব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, নু‘মান ইবনু বাশীর রাদিয়াল্লাহু আনহ-এর কাছে এমন এক ব্যক্তিকে পেশ করা হল, যে তার স্ত্রীর দাসীর সঙ্গে উপগত হয়েছিল। তিনি বললেন, আমি বিষযে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বিচারের মত বিচার করব। যদি তার স্ত্রী এই হাদীসটিকে তার জন্য হালাল করে দিয়ে থাকে তবে তাকে একশত বেত্র দন্ড দিব। আর যদি হালাল করে না দিয়ে থাকে তকে তাকে ‘রজম’ দন্ড দিব।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
হাদিস নম্বরঃ ১৪৫৮ | 1458 | ۱٤۵۸

১৪৫৮। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) নু‘মান ইবনু বাশীর রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। এই বিষয়ে সালমান ইবনুল মুহাববাক থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। নু‘মান রাদিয়াল্লাহু আনহ-এর রিওয়ায়াতটিতে ইযতিরাব বিদ্যমান। মুহাম্মদ আল বুখারী (রহঃ) -কে বলতে শুনেছি যে, কাতাদা এই হাদীসটিকে হাবীব ইবনু সালিম (রহঃ) থেকে শুনেন নি। আসলে এটিকে তিনি খালিদ ইবনু উরফুতা (রহঃ) থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। যে ব্যক্তি স্বীয় স্ত্রীর দাসীর সাথে উপগত হয় তার দন্ড সম্পর্কে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। আলী ও ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ সহ কতক সাহাবী থেকে বর্ণিত আছে যে, তার উপর রজম দন্ড প্রয়োগ করা হবে। ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেন, তার উপর কোন নির্ধারিত হদ নেই। তবে তাকে (বিচারকের বিবেচনা মতে) শাস্তি দেওয়া হবে। আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) নু‘মান ও বাশরি রাদিয়াল্লাহু আনহ-এর বরাতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীস অনুসারে মত অবলম্বন করেছেন।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
হাদিস নম্বরঃ ১৪৫৯ | 1459 | ۱٤۵۹

১৪৫৯। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) আবদুল জাববার ইবনু ওয়াইল ইবনু হুজর, তার পিতা ওয়াইল ইবনু হুজর রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে এক মগিলাকে ব্যভিচারে বাধ্য করা হয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ‘হদ’ রহিত করে দিয়েছিলেন। আর যে পুরুষ তাকে ভোগ করেছির তার উপর হদ প্রয়োগ করেছিলেন। ঐ মহিলার জন্য কোন রূপ ‘মহর’ নির্ধারণ করেছেন বলে তিনি কিছু উল্লেখ করেন নি। এই হাদীসটি গারীব। এর সনদ মুত্তাসিল নয়। একাধিক সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত আছে। মুহাম্মদ আল-বুখারী (রহঃ) -কে বলতে শুনেছি যে, আবদুল জাববার ইবনু ওয়াইল ইবনু হুজর তাঁর পিতা ওয়াইল রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে কিছু শোনেন নি এবং তাকে দেখেন নি। বলা হয়, পিতার মৃত্যুর মাস কয়েক পরে তার জন্ম হয়। এই হাদীস অনুসারে সাহাবীদের মধ্যে আলিমগণের এবং অন্যান্য আলিমগণের মিল রয়েছে যে, যাকে বাধ্য করা হয়, তার উপর হদ নেই।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
হাদিস নম্বরঃ ১৪৬০ | 1460 | ۱٤٦۰

১৪৬০। মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আলকামা ইবনু ওয়াইল কিনদী তার পিতা ওয়াইল কিন্দী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময়ে জনৈক মহিলা সালাতের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়েছিল। পতে তাকে এক ব্যক্তি স্বীয় কাপড় দিয়ে ঢেকে ফেলে এবং তার প্রয়োজন পূরণ করে। মহিলাটি চিৎকার করলে লোকটি চলে যায়। এই সময় মহিলাটির পাশ দিয়ে আরেক ব্যক্তি যাচ্ছিল। মহিলাটি বলতে লাগল এই পুরুষটই তার সাথে এমন এমন করেছে। তখন একদল মুহাজির সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। মহিলাটি বলল, এই লোকটই আমার সঙ্গে এমন এমন করেছে। তখন তারা এই লোকটিকে নিয়ে এলে মহিলাটি বলল, এ-ই সেই লোক। তখন তারা এই লোকটিকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এলেন। তিনি তাকে ‘রজম’ এর নির্দেশ দিলেন। এই সময় যে লোকটি প্রকৃত পক্ষে উপগত হয়েছিল সেই লোকটি উঠে দাঁড়াল। বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আসলে আমি অপরাধী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাটিকে বললেন, যাও, আল্লাহ তোমাকে মাফ করে দিয়েছেন। ধৃত পুরুষটি সম্পর্কে ভাল মন্তব্য করলেন। আর প্রকৃত পক্ষে যে লোকটি উপগত হয়েছিল তাকে রজম-এর নির্দেশ দিলেন এবং বললেন, সে এমন তওবা করেছে যে, সমগ্র মদ্বীনাবাসী যদি তা করে তবে তাদের তওবাও কবুল হয়ে যাবে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব-সহীহ। আলকামা ইবনু ওয়াইল ইবনু হুজর তাঁর পিতা ওয়াইল ইবনু হুজর রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে হাদীস শুনেছেন। তিনি আবদুল জাববার থেকে বড়। আবদুল জাববার ইবনু ওয়াইল তার পিতা ওয়াইল রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে কিছু শোনেন নি।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
হাদিস নম্বরঃ ১৪৬১ | 1461 | ۱٤٦۱

১৪৬১। মুহাম্মদ ইবনু আমর সাওওয়াক (রহঃ) ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পশুর সাথে উপগত হতে যদি কাউকে পাও তবে তাকে কতল করে দাও এবং পশুটিকেও। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ-কে বলা হল পশুটির ব্যাপার কি? তিনি বললেন, এই বিষয়ে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে কিছু শুনিনি। তবে আমার মনে হয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর গোশত খাওয়া এবং এর দ্বারা উপকৃত হওয়া পছন্দ করেন নি। কারণ, এর সাথে এ অশ্লীল কাজ করা হয়েছে। এ হাদীসটি আমর ইবনু আবূ আমর ব্যতীত ইকরিমার সনদে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আর কেউ বর্ণনা করেছেন তা আমরা অবহিত নই। সুফইয়ান ছাওরী (রহঃ) -ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি পশুর সহিত উপগত হয় তার উপর কোন হদ নেই্। এই হাদীসটি মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) আবদুর রহমান ইবনু মাহদীর মাধ্যমে সুফইয়ান ছাওরী (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি প্রথমোক্ত রিওয়ায়াতের (১৪৬০ নং) তুলনায় অধিকতর সহীহ। এতদনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে। এ হল আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) -এর অভিমত।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [21]  থেকে  [30]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [725]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।