• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [197] টি | অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ | দেখানো হচ্ছে   [21]  থেকে  [30]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ৭ | 7 | ۷

৭। উম্মুল মু‘মিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় কোন ব্যক্তি (এরূপ আছে যে) জান্নাতবাসী লোকদের ন্যায় সৎ আমল করছে, অথচ সে (আল্লাহর) কিতাবে (তাকদীরে) দোযখবাসীদের অন্তর্গত। সুতরাং মৃত্যুর পূর্বে সে (তার পূর্ববর্তী আমল থেকে) প্রত্যাবর্তন করে এবং দোযখবাসীদের ন্যায় আমল করে। অতঃপর তার মৃত্যু হয় এবং দোযখে প্রবেশ করে এবং অবশ্যই কোন ব্যক্তি (এরূপ রয়েছে যে) দোযখবাসীদের ন্যায় আমল করে যাচ্ছে, অথচ সে (আল্লাহর) কিতাবে (ইল্মে অথবা তাকদীরে) জান্নাতবাসীদের অন্তুর্ভুক্ত। সুতরাং যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসে, তখন সে (তার পূর্ববর্তী আমল থেকে) প্রত্যাবর্তন করে আর জান্নাতবাসীদের ন্যায় আমল শুরু করে। অতঃপর তার মৃত্যু হয় এবং জান্নাতে প্রবেশ করে। (এই হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায়নি, তবে এ হাদীসটির পক্ষে বুখারী ও মুসলিমে ইবনু মাসউদ ও সাহল ইবনুু্ সা‘দ থেকে এবং ইমাম মালিক ও তিরমিযী কিতাবে উমর (রাঃ) থেকে সাক্ষ্য পাওয়া যায়।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
বর্ণনাকারী রাবীঃ আয়িশা (রাঃ)

Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ৮ | 8 | ۸

৮। হুযাইফা ইবনু আল - য়ামান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর নিকট আগমন করে বলেন, আমি নিদ্রিতাবস্থায় (স্বপ্নে) দেখতে পাই যে, আমি আহলে কিতাবের (ইয়াহুদ ও নাসারা) জনৈক লোকের সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তিনি বলেন, তোমরা কতই না চমৎকার একটি সম্প্রদায় যদি না তোমরা বলতে যা কিছু চান আল্লাহ এবং যা চান মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা-ই হয়। (এতদ শ্রবণে) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের এই কথটি আমি (মূলত) অপছন্দ করে আসছিলাম। সুতরাং (এখন থেকে) তোমরা বলবে, যা কিছু আল্লাহ চান এরপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা’ই হয়।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৮ | 8 | ۸

৮। আবূ হুরায়রা (রাঃ) নাবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পূর্বানুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে (কয়েকটি শাব্দিক পার্থক্য এরূপ) এসেছে খালি পা খালি গা ও কর্কশ স্বভাবের লোকেরা যখন এতে ছাগ পালকের পরিবর্তে বা ‘চতুস্পদ জন্তুর রাখাল’ এসেছে এবং এতে অতিরিক্ত এসেছে পবিত্র আয়াতের পর অর্থৎ এরপর আগন্তুক চলে গেলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, লোকটিকে তোমরা অনুসরণ কর, তারা সে মতে অনুসরণ করলো, কিন্তু তারা কিছুই দেখতে পেল না। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইনি হচ্ছেন, জিব্রাইল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তিনি এসেছিলেন মানুষকে তাদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য। (বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ৮ | 8 | ۸

৮। আবূ নাদরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সাহাবীগণ তাঁর সেবা ও পরিচর্যা করার উদ্দেশ্যে তাঁর গৃহে প্রবেশ করেন। লোকটি কেঁদে ফেলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, ওহে আল্লাহর বান্দা! তুমি কাঁদছ কেন? আল্লাহর রাসূল কি তোমাকে বলেন নি যে, তুমি তোমার মোছ কাটতে থাক এবং (তোমার মৃত্যুর পর) আমার সাথে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত, এ অবস্থায় দৃঢ়ভাবে থাক, উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ (আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। কিন্তু আল্লাহর রাসূল কে বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তাঁর দক্ষিণ হস্তের পাঞ্জা দিয়ে একটি মুষ্টি ধারণ করেছেন এবং বলেছেন, এটি (অর্থাৎ এই মুষ্টির অর্ন্তগত সব আত্মা) এর জন্য (অর্থাৎ জান্নাতের জন্য) এবং আমি কোন পরোয়া করি না। এমনিভাবে তিনি তাঁর অপর হস্তের পাঞ্জা দিয়ে অপর একটি মুষ্টি ধারণ করলেন এবং বললেন, এটি (অর্থাৎ এর মধ্যস্থিত যাবতীয় আত্মা) এর জন্য (অর্থাৎ দোযখের জন্য) এবং এতে আমি (কাউকে) পরোয়া করি না। সুতরাং আমার তো জানা নেই যে, আমি আল্লাহর সেই মুষ্টিদ্বয়ের কোনটিতে আছি? (এ হাদীসটিও অন্যত্র পাওয়া যায়নি। তবে ইমাম আহমদ, তিরমিযী ও আবূ দাউদ এই হাদীসের পক্ষে আব্দুর রহমান ইবনুু্ কাতাদাহ আস-সলমী থেকে বর্ণনা করেছেন। আহমদের রাবীগণ হাসান পর্যায়ের।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ৯ | 9 | ۹

৯। আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) - থেকে বর্ণিত, একদা জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- কে উদ্দেশ্য করে বলে, ”যা কিছু আল্লাহ চান এবং আপনি চান”। এতদশ্রবণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন, তুমি কি আমাকে এবং আল্লাহকে সমান সমান (বরাবর) করে দিলে? বরং বলবে ” যা কিছু একমাত্র আল্লাহ চান”। [আহমদ আবদুর রহমান বলেন, আহমদ ছাড়া অন্য কোন গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। হাদীসটির সনদ ভাল এ হাদীসটি নাসাঈতেও বর্ণিত আছে। সেখানে আছে মহনাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লেকটির কথা শুনে বললেন, তুমি কি আল্লাহর সাথে আমাকে শরীক করলে?]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৯ | 9 | ۹

৯। আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, ইসলাম হচ্ছে প্রকাশমান বিষয়, আর ঈমান হচ্ছে অন্তরের বিষয় (অপ্রকাশিত) এরপর তিনি তাঁর হাত দ্বারা বক্ষের দিকে ইশারা করেন তিনবার; এরপর বলেন, “তাক্ওয়া এখানে”। (আবূ ইয়ালা ও বাযযার-এর সনদ হাসান)



হাদিসের মানঃ  হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ৯ | 9 | ۹

৯। মু‘আয বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁর বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, (আল্লাহ তা‘আলা) তাঁর দুই হস্ত দ্বারা দুইটি মুষ্টি ধারণ করলেন এবং বললেন, এটি জান্নাতের জন্য এবং আমি পরোয়া করি না এবং এইটি দোযখের জন্য এবং আমি পরোয়া করি না। (এ হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায়নি। তানকীহ গ্রন্থের লেখক ইমাম আহমদ এ হাদীসকে হাসান বলেছেন)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ১০ | 10 | ۱۰

১০। আবূ মূসা আল আশ’আরী (রাঃ) তৈকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে (দুই হাতে ভর দিয়ে শক্ত হয়ে) দন্ডায়মান হলেন এবং বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ জাল্লা শানুহু নিদ্রা যান না, এবং নিদ্রা যাওয়া তাঁর জন্য শোভনও নয়। তিনি মীযান, (বা আমল মাপার মানদন্ড) নীচু করেন এবং উঁচু করেন। দিবসের শুরুতে তাঁর কাছে (সারা) রাত্রির আমলসমূহ (অর্থাৎ বান্দার কৃতকর্মসমূহ) এবং দিবসের আমলসমূহ রাত্রিতে পেশ করা হয়। (একই বর্ণনাকারী থেকে ভিন্ন ধারায় বর্ণিত আছে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা নিদ্রা যান না এবং নিদ্রা যাওয়া তাঁর পক্ষে শোভনও নয়। তিনি ন্যায়দন্ড নীচু করেন এবং উঁচু করেন। তাঁর হিজাব বা পর্দা হচ্ছে অগ্নি (অন্য বর্ণনায় ’নূর’ বা জ্যোতি), যদি তিনি তাঅপনেদন করেন। তাঁর চেহারার ঔজ্জ্বল্য দৃষ্টি শক্তির আওতাধীন সবকিছু ভষ্মিভ’ত করে ফেলবে। অতঃপর আবূ উবাইদা (রাঃ) এই আয়াত পাঠ করেন - ”অতঃপর সে যখন সেখানে আসল তখন ঘোষিত হল, ধন্য সে ব্যক্তি, যে আছে এ অগ্নির মধ্যে এবং যারা আছে এর চতুষ্পার্শ্বে জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ পবিত্র ও মহিমান্বিত।” (নামলঃ ৮) [ মুসলিম ও ইবনু মাজাহ।]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ১০ | 10 | ۱۰

১০। আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদেরকে কোন বিষয়ে রাসুলের কাছে প্রশ্ন করতে নিষেধ করা হযেছিল (অর্থাৎ অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল কিন্তু আমাদের আশ্চার্যান্বিত করতো যখন দেখতাম, মফস্বল এলাকা বেদুঈনের আবাস) থেকে কোন জ্ঞানী (সমঝদার) ব্যক্তি এসে রাসুলকে প্রশ্ন করছে আর আমরা তা শ্রবণ করে চলছি। (এমনি একটি ঘটনা হল) দূরবর্তী মফস্বল এলাকার বাসিন্দাদের এক ব্যক্তি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, ইয়া মুহাম্মাদ, আপনার দূত (প্রতিনিধি) আমাদের কাছে গেছেন এবং আমাদেরকে বলেছেন যে, আপনি মনে করেন যে, আপনাকে আল্লাহ প্রেরণ করেছেন! রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, সত্য বলেছেন। বেদুঈন বললো, তাহলে আকাশ সৃষ্টি করেছে কে? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ। সে বললো, পৃথিবী সৃষ্টি করেছে কে? তিনি বলেন, আল্লাহ। সে বললো, এইসব পাহাড় পর্বত ও পর্বতের গায়ে অন্যান্য বস্তু সৃষ্টি করেছেন কে? তিনি বলেন, আল্লাহ। সে বললো, যিনি আকাশ সৃষ্টি করেছেন, পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এইসব পাহাড় পর্বত দাঁড় করিয়েছেন, সেই আল্লাহ কি আপনাকে প্রেরণ করেছেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। সে বললো, আপনার দূত বলে থাকেন যে, আমাদের উপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আবশ্যক করা হয়েছে। তিনি বললেন, হ্যাঁ, সত্য বলেছেন। সে বললো, যে আল্লাহ আপনাকে প্রেরণ করেছেন, তিনই কি এই নির্দেশ দিয়েছেন? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। বেদুঈন বললো, আপনার দূত বলে থাকেন যে, আমাদের উপর আমাদের সম্পদের যাকাত আবশ্যক করা হয়েছে। তিনি বলেন, সে সত্য বলেছে। সে বললো, যে আল্লাহ আপনাকে প্রেরণ করেছেন, তিনই কি এই নির্দেশ দিয়েছেন? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। বেদুঈন বললো, আপনার দূত আরো বলেন যে, আমাদের জন্য বছরে রমযান মাসের সিয়াম পালন আবশ্যক করা হয়েছে। তিনি বলেন, হ্যাঁ সত্য বলেছেন। সে বললো, যে আল্লাহ আপনাকে প্রেরণ করেছেন, তিনই কি এই নির্দেশ দিয়েছেন? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। বেদুঈন বললো, আপনার দূত আরো বলেন যে, আমাদের মধ্যে রাস্তার খরচ বহনে সমর্থ যারা তাদের উপর বায়তল্লাহর হজ্জ পালন আবশ্যক করা হয়েছে। তিনি বলেন, সত্য বলেছেন। এরপর বেদুঈন লোকটি ফিরে গেল এবং বলে গেল, শপথ সেই সত্তার যিনি আপনাকে সত্য নাবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আমি এসবের উপর কিছু বৃদ্ধি করবো না এবং এর থেকে কিছু কমও করবো না। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, লোকটি যদি সত্য বলে থাকে তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। অন্য এক বর্ণনায়ও পূর্বানুরূপ বক্তব্য এসেছে, তবে অতিরিক্ত এসেছে “লোকটি বললো, আপনি যা কিছু নিয়ে এসেছেন, আমি তাতে বিশ্বাস স্থাপন করছি এবং আমি আমার পেছনে রেখে আসা সম্প্রদায়ের দূত (হিসেবে এখানে এসেছি) আর আমি হচ্ছি, দিমাম বিন সা‘লাব বনূ সা‘দ বিন বক্র সম্প্রদায়ভুক্ত। (বখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ ও অন্যান্য)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ১০ | 10 | ۱۰

১০। ‘আবদুল্লাহ ইবনুু্ ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ছোট গুনাহ সম্পর্কে . আবূ হুরায়রা (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণনা করেছেন। তা থেকে অধিক মিল আর কোন বস্তুতে দেখি না। (বর্ণনাটি এরূপ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা বনী আদমের ভাগ্যে যিনা বা ব্যভিচারের অংশ লিখে রেখেছেন যা সে অবশ্যই লাভ করবে। (যেমন) চোখের যিনা দৃষ্টিপাত, জিহ্বার যিনা কথন, অন্তর কামনা-বাসনা করে অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে (বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ ও নাসায়ী।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
বর্ণনাকারী রাবীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)

Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [21]  থেকে  [30]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [197]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।