• ৫৬৬৩২ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [46] টি | অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
গ্রন্থঃ | দেখানো হচ্ছে   [21]  থেকে  [30]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ২১ | 21 | ۲۱

২১। ইয়াহইয়া বিন ইয়ামার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনুু্ উমর (রাঃ) কে বললাম, আমরা বিভিন্ন দূর-দূরান্তের গন্তব্যে সফর করে থাকি, তখন আমরা এমন সম্প্রদায়ের সাক্ষাৎ লাভ করি যারা বলে থাকে যে, ‘তাকদীর’ বলে কিছু নেই। ইবনুু্ উমর (রাঃ) আমার কথা শুনে বললেন, যদি তোমরা এ ধরনের সম্প্রদায়ের সাক্ষাৎ পাও, তবে তাদেরকে জানিয়ে দিও যে, আবদুল্লাহ বিন উমর তাদের দায়-দায়িত্ব থেকে মুক্ত এবং তারাও তাঁর দায়িত্ব থেকে মুক্ত। (একথাটি তিনি তিনবার বললেন, এরপর তিনি বলতে থাকেন, একবার আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে উপস্থিত ছিলাম, তখন জনৈক ব্যক্তি আগমন করেন (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে) এবং তাঁর অবস্থা বর্ণনা করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, কাছে এসো, তখন তিনি কিছুটা এলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় বলেন, কাছে এসো, তিনি আরও কাছে গেলেন এবং অবস্থা এমন হল যে আগন্তুকের হাঁটু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাঁটু ছুঁই ছুঁই করছে। অতঃপর আগন্তুক বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ঈমান কী? অথবা আমাকে ঈমান সম্পর্কে কিছু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আপনি আন্তরিক বিশ্বাস স্থাপন করবেন আল্লাহর সত্তায়, তাঁর ফেরেশ্তাগণে, তাঁর কিতাবসমূহে, তাঁর প্রেরিত রাসূলগণে, শেষ দিবসে এবং বিশ্বাস স্থাপন করবেন তাকদীরে। সুফিয়ান বলেন, আমার মনে হল যে, তিনি এও বলেছিলেন, ভাল হউক কিংবা মন্দ হোক। আগন্তুক জিজ্ঞেস করলেন, ইসলাম কী? উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান, বায়তুল্লাহর হজ্ব পালন, রমযানের সিয়াম পালন, অপবিত্রতা থেকে গোসল (ফরয গোসল) করা (ইত্যাদি) প্রতিটি বিষয়। আগন্তুক বললেন, সত্য বলেছেন, সত্য বলেছেন। উপস্থিত দর্শকবৃন্দ বলেন, কোন ব্যক্তিকে তাঁর চেয়ে অধিক সম্মান প্রদর্শন করতে আমরা দেখি নি। তিনি যেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে (প্রশ্নের মাধ্যমে) শিক্ষা দিচ্ছেন। এরপর আগন্তুক আবার প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে ‘ইহ্সান’ সম্পর্কে কিছু বলুন, উত্তরে আল্লাহর রাসূল বলেনঃ আপনি আল্লাহর ইবাদত করবেন এমনভাবে যেন আপনি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছেন। আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পারেন, তিনি তো (অবশ্যই) আপনাকে দেখছেন (এই আন্তরিক অনুভূতির নাম হচ্ছে ‘ইহসান’) আগন্তুকের চাইতে অধিক সম্মান প্রদর্শনকারী রাসূলের প্রতি অন্য কাউকে দেখিনি, আগন্তুক বললেন-সত্য বলেছেন, সত্য বলেছেন। এবার আমাকে ‘কিয়ামত’ সম্পর্কে কিছু বলুন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (এ বিষয়ে) যাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক কিছু অবগত নন। এবারও (প্রশ্নকারী) কয়েকবার বললেন, ‘সত্য বলেছেন’ আর আমরা আবারও বলছি যে, রাসূলকে সম্মান প্রদর্শনের ব্যাপারে এর চেয়ে অধিক কাউকে দেখি নি। এ পর্যায়ে প্রশ্নকারী (আগন্তুক) প্রস্থান করলেন, সুফিয়ান বলেন, আমি জানতে পেরেছি যে, আল্লাহর রাসূল (আগন্তুকের প্রস্থানের পর) দর্শকদের বলেছিলেন যে, তোমরা তাঁকে খুঁজে বের কর, কিন্তু তাঁরা তাঁকে খুঁজে পায় নি। তখন তিনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইনি হচ্ছেন জিব্রাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে (আজ) এসেছিলেন, তিনি যে কোন আকৃতি ধারণ করেই আসুন না কেন, আমি তাঁকে চিনতে পারি, কিন্তু-এরূপে তাঁকে চিনতে পারি নি। (এই বর্ণনাকারী থেকে দ্বিতীয় সূত্রে বর্ণিত) তিনি বলেন, আমি ইবনুু্ উমর (রাঃ) কে বললাম, আমাদের মধ্যে কিছু লোক এমন আছেন যে, তারা মনে করে থাকে যে, কর্ম ও ফলাফল তাদের নিজের হাতে, যদি তারা ইচ্ছা করে কর্ম করবেন, আর যদি ইচ্ছা না করে কর্ম করবে না (এরূপ ধারণা তারা লালন করে থাকে)। তিনি বললেন, ঐরূপ লোকদের জানিয়ে দিও যে, আমি তাদের দায়-দায়িত্ব থেকে মুক্ত এবং তারাও আমার দায় থেকে মুক্ত (অর্থাৎ তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই)। অতঃপর বলেন, একদা জিব্রাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, ইয়া মুহাম্মদ, ইসলাম কী? তিনি বললেন, আল্লাহর ইবাদত করবেন তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করবেন না, সালাত কায়েম করবেন, যাকাত প্রদান করবেন, রমযানের সিয়াম পালন করবেন, বায়তুল্লাহর হজ্ব পালন করবেন। জিব্রাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যদি আমি এরূপ করি, তবে আমি কি মুসলিম? তিনি বললেন, হ্যাঁ। জিব্রাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আপনি সত্য বলেছেন, জিব্রাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার প্রশ্ন করলেন, ‘ইহসান’ কী? বললেন, আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করবেন, যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, যদিও আপনি তাঁকে দেখতে পাচ্ছেন না কিন্তু তিনি তো আপনাকে দেখছেন। জিব্রাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন যদি আমি এরূপ করি তবে কি আমি ‘মুহসিন’? তিনি বললেন, হ্যাঁ, জিব্রাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আপনি সত্য বলেছেন। এবার বলুন ঈমান কী? বললেন, আন্তরিক বিশ্বাস রাখবেন আল্লাহর ওপর, তাঁর ফিরিশতাগণের ওপর, তাঁর কিতাবসমূহের ওপর, তাঁর রাসূলগণের ওপর, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের ওপর, জান্নাত ও দোযখের ওপর এবং সামগ্রিকভাবে তাকদীরের ওপর। জিব্রাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এরূপ করলে কি আমি মু’মিন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর করলেন, হ্যাঁ জিব্রাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আপনি সত্য বলেছেন। (অন্য একটি বর্ণনায় এ কথাটি অতিরিক্ত এসেছে যে, জিব্রাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে দাহিয়্যা (আল-কাল্বী) এর আকৃতি ধারণ করে আগমন করতেন। (একই বর্ণনাকারী থেকে তৃতীয় একটি সূত্রে বর্ণিত) . ইবনুু্ উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, (একদা) জিব্রাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলেন, ঈমান কী? তিনি বললেন, আন্তরিক বিশ্বাস রাখবেন আল্লাহর ওপর, তাঁর ফিরিশতাগণের ওপর, তাঁর কিতাবসমূহের ওপর, তাঁর রাসূলগণের ওপর, শেষ দিবসের ওপর এবং ভাল-মন্দ তাকদীরের ওপর। তখন জিব্রাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আপনি সত্য বলেছেন। তখন আমরা তাঁর আচরণে বিস্মিত হলাম। (কারণ) তিনি প্রশ্নও করছেন, আবার (প্রশ্নের উত্তর) সত্যয়নও করছেন। বর্ণনাকারী বলছেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল বললেন, ইনি হচ্ছেন জিব্রাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীনের প্রধান বিষয়গুলো (চিহ্নসমূহ) শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে আগমন করেছেন। (একই বর্ণনাকারী থেকে চতুর্থ একটি সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা (একদা) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাত করি এবং তাকদীর প্রসঙ্গে লোকদের (ভ্রান্ত) ধারণা সম্পর্কে আলোচনা করি। তখন তিনি আমাদেরকে বলেন, তোমরা ঐসব লোকদের কাছে যখন প্রত্যাবর্তন করবে, তখন তাদেরকে বলে দেবে যে, ইবনুু্ উমর তোমাদের (দায়-দায়িত্ব) থেকে মুক্ত এবং তোমরাও তাঁর (দায়) থেকে মুক্ত। তিনি তিনবার বললেন। এরপর বললেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) আমাকে জানিয়েছেন যে, (একদা) তাঁরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে উপবিষ্ট ছিলেন, এমন সময় জনৈক ভদ্রলোক পায়ে হেঁটে তাঁর কাছে আগমন করলেন, তাঁর চেহারা সুন্দর, কেশরাজি সুন্দর, তাঁর পরিধেয় বস্ত্র শুভ্র সুন্দর। উপস্থিত জনতা পরস্পর মুখ দেখাদেখি করতে লাগলেন। (কেননা) আমরা কেউ তাঁকে চিনতে পারছিলাম না, অথবা তিনি সফরকারীও (মূসাফির) নন। অতঃপর আগন্তুক বললেন, আসতে পারি ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি (তাঁর) কাছে এলেন এবং এমনভাবে উপবিষ্ট হলেন যে, তাঁর হাঁটুদ্বয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাঁটুদ্বয়ের সাথে রাখলেন এবং হস্তদ্বয় রাখলেন তার (স্বীয়) রানের (উরুর) ওপর। (এভাবেই এ হাদীস অগ্রসর হয়েছে, যেমনটি কিতাবুল ঈমানের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে এসেছে। তাতে আরও রয়েছে যে, প্রশ্নকারী আগন্তুক চলে যাওয়ার পর) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঐ ব্যক্তিকে খুঁজতে হবে, জনতা (তাঁকে অনুসরণ করে) তালাশ করল কিন্তু কিছুই দেখতে পেল না। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই দিন অথবা তিন দিন অতিবাহিত করলেন। এরপর বললেন, হে খাত্তাব পুত্র (উমর), আপনি জানেন কি ঐসব বিষয়ে প্রশ্নকর্তা কে ছিলেন? (উমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহ ও তদীয় রাসূল ভাল জানেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তিনি ছিলেন জিব্রাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তিনি এসেছিলেন তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ পর্যায়ে জুহাইনা অথবা মুযাইনা গোত্রের জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমরা তবে কিসের ভিত্তিতে আমল বা কর্ম করবো-এমন বিষয়ে যা অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে বা অতীতে হয়ে গিয়েছে; না কি এমন বিষয়ে যা এখন নতুনভাবে শুরু করা হবে? (অর্থাৎ আমরা তাকদীরে বিশ্বাস রেখে কাজ করবো, নাকি আমরা কর্মের মাধ্যমে ভাগ্য নির্ধারণ করবো?) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যা অতিবাহিত হয়েছে বা অতীত হয়ে গিয়েছে (সেই তাকদীরে বিশ্বাস রেখে কর্ম করবে।) অতঃপর অন্য একজন অথবা কয়েকজন জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা কিসের ভিত্তিতে, কিভাবে কর্ম করবো? রাসূল বললেন, জান্নাতবাসীগণের জন্য জান্নাতে প্রবেশের যোগ্য কর্মসমূহ সহজ ও সাবলীল হবে, আর দোযখবাসীদের জন্য দোযখবাসীর কাজ সহজ ও অনায়াসী হবে। ইয়াহইয়া বলেন, তিনি (রাসূল) এইভাবেই বলেছেন, যেমন তুমি এখন আমার সম্মুখে বর্ণনা করলে। (মুসলিম, তাবারানী, আবূ না’ঈম ও অন্যান্য)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ২২ | 22 | ۲۲

২২। ইবনুুদ্ দায়লামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উবাই বিন কা’ব (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করে বলি, হে আবূল মুনযির, এই তাকদীর সংক্রান্ত কিছু বিষয় আমার অন্তরে খট্কার সৃষ্টি করে। সুতরাং এ ব্যাপারে আমাকে এমন কিছু উপদেশ বাণী শোনান, যাতে করে আমার অন্তরের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব বিদূরিত হয়। তিনি বললেন, আল্লাহ জাল্লা শানুহু যদি তাঁর আকাশমন্ডলী ও যমীনের বাসিন্দাদের (নির্বিশেষে সবাইকে) শাস্তি প্রদানের ইচ্ছা পোষণ করেন, তবে তিনি তাদের প্রতি (বিন্দুমাত্র) জুলুম ব্যতিরেকেই শাস্তি দিতে পারেন। (অর্থাৎ তাদেরকে শাস্তি প্রদান করার মত অপরাধ বা দোষ-ত্র“টি তাদের মধ্যে অবশ্যই বিদ্যমান), আর যদি তিনি তাদের প্রতি দয়া বর্ষণ করেন, তবে তাঁর সেই দয়া হচ্ছে তাদের যে কোন আমল বা কর্ম থেকে উত্তম। যদি তুমি উহুদ পর্বতসম স্বর্ণ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় কর আল্লাহ তোমার কাছ থেকে তা কবূল করবেন না। যতক্ষণ পর্যন্ত না তুমি তাকদীরে বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং জানবে যে, যা কিছু তুমি পেয়েছ (ভাল বা মন্দ, কল্যাণ অথবা অকল্যাণ) তা কখনই তোমাকে ভুল করতো না (অর্থাৎ তা ছিল অবশ্যাম্ভাবী, কোন উপায় বা উপকরণের সাহায্যে তা রদ করা অসম্ভব)। আর যা কিছু তুমি প্রাপ্ত হও নি, তা কখনই তোমার প্রাপ্য ছিল না (অর্থাৎ হাজারো চেষ্টা-তদবীর কিংবা উপায়-উপকরণের মাধ্যমেও তুমি তা লাভ করতে পারতে না)। তুমি যদি এই বিশ্বাসের বিপরীতে কিছু নিয়ে মৃত্যুবরণ কর, তবে অবশ্যই তুমি দোযখে প্রবেশ করবে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি হুযাইফার কাছে এলাম, তিনিও আমাকে এরকমই বললেন। এরপর আমি ইবনু মাসউদের কাছে গেলাম, তিনিও আমাকে ঐ রকমই বললেন। পরিশেষে আমি যায়েদ বিন ছাবিত (রাঃ) এর কাছে গমন করলাম, তিনিও নাবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করে আমাকে শুনালেন। (আবূ দাউদ, ইবনুু্ মাজাহ্ ও অন্যান্য, হাদীসটির সনদ হাসান পর্যায়ের)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ২৩ | 23 | ۲۳

২৩। আবূদ্ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক বস্তুর একটি হাকীকত বা স্বরূপ রয়েছে। কোন বান্দা ঈমানের স্বরূপ লাভ করবে না যতক্ষণ না সে জানবে এবং বিশ্বাস করবে যে, যা কিছু সে লাভ করেছে, তা থেকে সে কখনও বঞ্চিত হত না এবং যা কিছু থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তা কখনও তার প্রাপ্য ছিল না। (হাইছুমী বলেন, এ হাদীসটি বায্যার থেকে বর্ণিত এবং এটি হাসান।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ২৪ | 24 | ۲٤

২৪। ‘উবাদাহ ইবনুু্ ওলীদ বিল ‘উবাদাহ্ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বলেছেন, আমি উবাদাহ ইবনুুস সামিত (রাঃ) এর কাছে গেলাম, তিনি তখন মৃত্যু শয্যায় শায়িত। আমি তাঁকে বললাম, চাচাজী আমাকে উপদেশ দান করুন এবং আমার জন্য ‘ইজতিহাদ’ (দো‘আ) করুন। তিনি বললেন, তোমরা আমাকে (শয়ন থেকে) বসাও। (বসানো হলে) তিনি বললেন, হে বৎস! তুমি ঈমানের স্বাদ কখনও লাভ করতে পারবে না এবং আল্লাহ তা‘আলার মা‘রিফাতের (জ্ঞানের) স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারবে না-যতক্ষণ না তুমি ভাল ও মন্দ সংক্রান্ত তাকদীরে বিশ্বাস স্থাপন করবে। তখন আমি বললাম, চাচাজী, আমি কিভাবে জানতে পারবো তাকদীরের ভাল-মন্দ কোনটা? তিনি বললেন, জেনে রাখ যা তোমাকে ভুল করেছে (অর্থাৎ যা কিছু তুমি পাও নি), তা কখনই তোমার প্রাপ্য ছিল না এবং যা কিছু তুমি প্রাপ্ত হয়েছ তা কখনই তোমাকে ভুল করতো না (অর্থাৎ অবশ্যই তোমাকে পেত)। হে বৎস! আমি আল্লাহর রাসূলের কাছে শুনেছি, তিনি বলেছেন, সর্বপ্রথম আল্লাহ তা‘আলা যা সৃষ্টি করেছিলেন, তা হচ্ছে কলম, অতঃপর তিনি কলমকে বললেন, লিখ। তখন থেকেই কলম লিখতে শুরু করেছে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হওয়ার (এবং তার সবই লেখা সমাপ্ত)। হে বৎস! তুমি যদি এই বিশ্বাস ছাড়া মৃত্যু মুখে পতিত হও, তবে তুমি দোযখে প্রবেশ করবে। (আবূ দাউদ হাদীসটি সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করেছেন। আর তিবরানী ও তায়ালেসী পূর্ণ বর্ণনা করেছেন।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ২৫ | 25 | ۲۵

২৫। উবাদা বিন সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, (একদা) জনৈক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে উপস্থিত হয়ে বললেন, ইয়া নাবীয়্যাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! কোন্ আমল বা কর্ম উত্তম? তিনি বললেন, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন ও এর সত্যয়ন করা এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। আগন্তুক বললেন, আমি এর চেয়ে সহজ কিছু চাই, ইয়া রাসূলুল্লাহ! বললেন, ক্ষমা ও ধৈর্যধারণ। আগন্তুক বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমি এর চেয়ে সহজতর কিছু চাই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা’আলা তোমার জন্য যা কিছু মঞ্জুর করে রেখেছেন তার জন্য তাঁকে অভিযুক্ত করবে না। (অন্য কোন কিতাবে এ হাদীসটি পাওয়া যায়নি। এর সনদে একজন বিতর্কিত রাবী আছে।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ২৬ | 26 | ۲٦

২৬। . আমার ইবনুু্ শু‘য়াইব, তাঁর পিতা থেকে এবং তাঁর পিতা তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন মানুষ ঈমানদার হবে না যতক্ষণ না সে বিশ্বাস স্থাপন করবে তাকদীরের ভাল ও মন্দের ওপর। আবূ হাযিম বলেন, তাকদীরে অবিশ্বাস করা বা মিথ্যারোপকারী হলো এমন এক মতবাদ যাকে আল্লাহ পাক অভিসম্পাত করেন, আমি এ মতবাদের চেয়ে বড় বা উর্দ্ধে। (হাদীসটিও অন্য কোন কিতাবে পাওয়া যায়নি। তবে তিরমিযীতে . জাবির (রাঃ) এর হাদীসের মাধ্যমে এর সাক্ষ্য বিদ্যমান এবং বুখারী ও মুসলিমে সমার্থবোধক বিদ্যমান।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ২৭ | 27 | ۲۷

২৭। আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমল কিসের ভিত্তিতে হবে যা বিগত হয়েছে অর্থাৎ তাকদীর অনুযায়ী, নাকি এখন (বর্তমান সময়ে) যা সৃষ্টি হচ্ছে (কার্যকরণ সম্পর্কের তার ভিত্তিতে?) তিনি বললেন, বরং যা সম্পন্ন হয়ে বিগত হয়েছে তার ভিত্তিতে, আমি বললাম, তাহলে আমল বা কর্মের তারপর্য কি, ইয়া রাসূলুল্লাহ? বললেন, যে কর্মের জন্য যাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, তা তার জন্য সহজ। (এতটুকু উপলব্দি করেই কর্মে প্রবৃত্ত হতে হবে)। (তিবরানী ও বায্যার)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ২৮ | 28 | ۲۸

২৮। উমর ইবনুল খাত্তার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জুহাইনা অথবা মুযাইনা গোত্রের জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্ন করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমরা কিসের ভিত্তিতে (বা বিশ্বাসে) আমল বা কর্ম করবো যা অতীত বিগত হয়ে গিয়েছে (তাকদীর), অথবা (নাকি) বর্তমান সময়ে শুরু হবে (কার্যকারণ) এর ভিত্তিতে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কর্ম করবে যা অতীত বা বিগত হয়েছে (তাকদীর) তার ভিত্তিতে। অতঃপর জনৈক ব্যক্তি অথবা কয়েকজন প্রশ্ন করল, তাহলে আমাদের আমলের তারপর্য বা উদ্দেশ্য কী, ইয়া রাসূলুল্লাহ? বললেন, জান্নাতবাসীগণের জন্য জান্নাতবাসীর (উপযুক্ত) কাজ সহজ করা হবে এবং দোযখবাসীদের জন্য দোযখবাসীর (উপযোগী) কাজ সহজ করা হবে। (এটি পূর্বের পরিচ্ছেদ বর্ণিত আবদুল্লাহ ইবনুু্ উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত সুদীর্ঘ হাদীসের একটি অংশ বিশেষ।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ২৯ | 29 | ۲۹

২৯। জাবির ইবনুু্ আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, সুরাকা ইবনুু্ মালিক বিন জু‘শুম (রাঃ) একদা জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! কর্ম বা আমল কিসের ভিত্তিতে? যা সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে না কি যা আমরা এখন শুরু করবো তার ভিত্তিতে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! বললেন, বরং যা সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে (তাকদীর), সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে। সুরাকা আবার প্রশ্ন করলেন, তাহলে আমলের (কর্মের) তারপর্য কী? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আমল করে যাও, যে কর্মের জন্য যাকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা তার জন্য সহজ হবে। (মুসলিম ও তাবারানী আউসাত গ্রন্থে।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ৩০ | 30 | ۳۰

৩০। জাবির ইবনুু্ আবদিল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি (একদা) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমরা কর্ম বা আমল করবো সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে এমন বিষয়ের ভিত্তিতে, নাকি যা আমরা নতুন করে শুরু করছি এমন বিশ্বাসের? তিনি উত্তরে বললেন-যা সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে (অর্থাৎ তাকদীরের বিশ্বাসের ভিত্তিতে)। সুরাকা বললেন, তাহলে আমলের তারপর্য কোথায়? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রত্যেক আমলকারীর জন্য তার আমল (কর্ম) সহজ হয়েছে। (অর্থাৎ যে কর্ম যার কাছে সহজ মনে হবে, ভাল হউক কিংবা মন্দ, তাকে সেই কর্মের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে।) (মুসলিম)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [21]  থেকে  [30]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [46]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।