• ৫৬৬৩২ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [1794] টি | অধ্যায়ঃ ২৪/ অভিযান
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ) | দেখানো হচ্ছে   [1561]  থেকে  [1570]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৪/ অভিযান
হাদিস নম্বরঃ ১৫৬১ | 1561 | ۱۵٦۱

১৫৬১। মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া আযদী, বাসরী, আবূ আম্মার প্রমুখ (রহঃ) ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সর্বোত্তম সঙ্গী সংখ্যা হল চার। সর্বোত্তম খন্ড বাহিনী হল চার শতের। সর্বোত্তম পূর্ণ বাহিনী হল চার হাজারের আর বার হাজার সদস্যের বাহিনী কখনো সখ্যযর্পতার কারণে পরাজিত হতে পারে না। এ হাদীসটি হাসান-গারীব। জারীর ইবনু হাজিম ছাড়া বড় কেউ এটিকে মুসনাদ হিসাবে রিওয়ায়াত করেন নি। যুহরী (রহঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি মুরসাল রূপে বর্ণিত আছে। হাববান ইবনু আলী আনাযী (রহঃ) এটিকে উকায়ল-যুহরী-উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ-ইবনু আববাকস রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। লায়ছ ইবনু সা‘দ (রহঃ) এটিকে উকায়ল-যুহরী সূত্রে-নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৪/ অভিযান
হাদিস নম্বরঃ ১৫৬২ | 1562 | ۱۵٦۲

১৫৬২। কুতায়বা (রহঃ) ইয়াযীদ ইবনু হুরমুয (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ-এর নিকট নাজদা হারূরী এই মর্মে জানতে চেয়ে পত্র দিয়েছিল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি মেয়েদের নিয়ে গাযওয়ায় (যুদ্ধে) যেতেন এবং তাদের জন্য কি গনীমতের অংশ নির্ধারণ করতেন? উত্তরে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ লিখলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেয়েদের নিয়ে গাযওয়া করেছেন কিনা জানতে চেয়ে তুমি আমার কাছে পত্র লিখেছিলে। তিনি তাদের নিয়ে গাযওয়া গিয়েছেন। তারা অসুস্থদের শুশ্রূষা করত। তাদেরকে গনীমত সম্পদ থেকে কিছু দান করা হত। তবে তাদের কোন নির্ধারিত হিস্যা ছিল না। এ বিষয়ে আনাস ও উম্মু আতিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। অধিকাংশ আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। এ হল সুফইয়ান ছাওরী ও শাফিঈ (রহঃ) -এর অভিমত। কতক আলিম বলেন, মেয়ে ও শিশুদেরকেও হিস্যা দেওয়া হবে। এ হল ইমাম আওযাঈ (রহঃ) -এর অভিমত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারে শিশুদের হিস্যা দিয়েছিলেন। সমর ফ্রন্টে যে শিশুর জন্ম হয় তাদেরও মুসলিমদের ইমাম বা রাষ্ট্র প্রধানগণ হিস্যা দিয়েছেন। আওযাঈ (রহঃ) আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারে মহিলাদেরও হিস্যা দিয়েছেন। পরবর্তীতে মুসলিমগণও এই পন্থা অনসরণ করেছেন। আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) আওযাঈ (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। অর্থ হল গানীমত থেকে মহিলাদের সামান্য দান করা যাবে।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৪/ অভিযান
হাদিস নম্বরঃ ১৫৬৩ | 1563 | ۱۵٦۳

১৫৬৩। কুতায়বা (রহঃ) আবূল লাহমের মাওলা বা আযাদকৃত গোলাম উমায়র রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার মালিকদের সঙ্গে খায়বার যুদ্ধে হাযির ছিলাম। তারা আমার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে আলোচনা করল। তারা তাকে বলেছিলেন যে আমি একজন মালিকানা ভুক্ত গোলাম। উমায়র রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেন, তার নির্দেশোমার গলায় তলওয়ার লটকে দেওয়া হল। আমি তা হেচড়ে হেচড়ে চলছিলাম। অনন্তর তিনি আমার জন্য গনীমত সম্পদের থেকে সামান্য তৈজশপত্রের কিছু দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমি তার নিকট কিছু মন্ত্র পেশ করেছিলাম। এগুলোর সাহায্যে আমি পাগলদের ঝাড় ফুক করতাম। তিনি আমাকে এর কতক বাদ দিতে এবং কতক রাখতে নির্দেশ দিলেন। এই বিষয়ে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন যে, গনীমত সম্পদ গোলামদের কোন নির্ধারতি হিসা্য নেই। তবে সামান্য কিছু তাদের দান করা যাবে। এ হল ছাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) -এর অভিমত।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৪/ অভিযান
হাদিস নম্বরঃ ১৫৬৪ | 1564 | ۱۵٦٤

১৫৬১। আনসারী (রহঃ) আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর যাত্রাকলে যখন ‘‘হাররাতুল ওয়াবর’’ নামক স্থানে পৌছলেন তখন জনৈক মুষরিক এসে তাঁর সঙ্গে শামিল হল। সাহসিকতা ও বাহাদুরীতে তার খুব খ্যাতি ছিল। তাকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান রাখ? সে বলল, না, তিনি বললেন, তা হলে ফিরে যাও! আমি কখনো মুশরিকদের সাহায্য নিব না। হাদীসটিতে আরো আলোচনা রয়েছে। ইমাম ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। কতক আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। কোন যিম্মি বা মুসলিম দেশের অমুসলিম নাগরিক মুসলিমদের সাথে থেকে শত্রু বিরুদ্ধে যদি যুদ্ধ করে তবু তাদেরকে গনীমত সম্পদ থেকে নির্দিষ্ট হারে হিস্যা প্রদান করা যাবে না। কতক আলিম বলেন, মুসলিমদের সাথে যদি তারা যুদ্ধে হাযির হয় তবে তাদের হিস্যা প্রদান করা হবে। যুহরী (রহঃ) -এর বরাতে বর্ণিত আছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহূদীদের একদলকে গনীমতের হিস্যা দিয়েছিলেন যারা তাঁর সঙ্গে যুদ্ধে শরীক হয়েছিল। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) যুহরী (রহঃ) থেকে উক্ত রিওয়ায়াত করেছেন।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৪/ অভিযান
হাদিস নম্বরঃ ১৫৬৫ | 1565 | ۱۵٦۵

১৫৬৫। আবূ সাঈদ আশাজ্জ (রহঃ) আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আশআরী গোত্রের একদল লোকসহ আমি খায়বারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এলাম। যারা এ এলাকাটি জয় করেছিলেন তাদের সঙ্গে আমাদেরকেও তিনি গনীমতের হিস্যা দিয়েছিলেন। ইমাম ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। কতক আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। আওযাঈ (রহঃ) বলেন, মুসলিম বাহিনীর মাঝে গনীমত সম্পদবণ্টন করার পূর্বে যদি কোন মুসলিম এসে তাদের সঙ্গে শামিল হয় তবে তাকেও তা থেকে হিস্যা প্রদান করা হবে।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৪/ অভিযান
হাদিস নম্বরঃ ১৫৬৬ | 1566 | ۱۵٦٦

১৫৬৬। যায়দ ইবনু আথতাম তাঈ (রহঃ) আবূ ছা‘লাবা খুশানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে অগ্নি পূজকদের পাত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন, এগুলো মেজে ঘসে ধুয়ে পবিত্র করে নিবে এরপর তাতে পাক করবে। তিনি দাতাল হিংস্র প্রাণী নিষিদ্ধ করেছেন। হাদীসটি আবূ ছা‘লাবা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে। আবূ ইদরীস খাওলানী (রহঃ) ও এটিকে আবূ ছা‘লাবা (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। আবূ ছা‘লাবা রাদিয়াল্লাহু আনহ-এর কাছে আবূ কিলাবা (রহঃ) সরাসরি কিছু শুনেন নি। তিনি এটিকে আসলে আবূ আসমা সূত্রে আবূ ছা‘লাবা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণনা করেছেন। হান্নাদ (রহঃ) আবূ ইদরীস আল-খাওলানী আইযুল্লাহ ইবনু উবায়দুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ ছা‘লাবা খুশানী রাদিয়াল্লাহু আনহ-কে বলতে শুনেছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমরা এমন এক অঞ্চলে থাকি যেখানে কিতাবীদের বাস। আমরা তাদের পাত্রদিতেও আহার করি। তিনি বললেন, এ ছাড়া অন্য পাত্র যদি পাও তবে আর এগুলোতে আহার করবে না। আর তা যদি না পাও তবে সেগুলো ধুয়ে নিবে এবং তাতে আহার করবে। ইমাম ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৪/ অভিযান
হাদিস নম্বরঃ ১৫৬৭ | 1567 | ۱۵٦۷

১৫৬৭। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) উবাদা ইবনু সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আক্রমণের প্রথম ভাগে একচতুর্থাংশ এবং ফিরতী হামলা ক্ষেত্রে এক তৃতীয়াংশ নাফল বা অতিরিক্ত প্রদান করতেন। এই বিষয়ে ইবনু আব্বাস, হাবীব ইবনু মাসলামা, মা‘ন ইবনু ইয়াযীদ, ইবনু উমার, সালামা ইবনু আকওয়া‘ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহ-এর হাদীসটি হাসান। হাদীসটি আবূ সাল্লাম-জনৈক সাহাবী সূত্রেও বর্ণিত আছে। হান্নাদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর যুল ফাকার নামক তলওয়ারটি বদর যুদ্ধে নাফল হিসাবে পেয়েছিলেন। উহুদ যুদ্ধের দিন এটিকে জড়িয়ে তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন।১ এই হাদীসটি হাসান-গারীব। ইবনু আবূ যনিদ (রহঃ) -এর হাদীস হিসাবে এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের জানা নাই। খুমুস বা গনীমত সম্পদের একপঞ্চমাংশ থেকে নাফল বা অতিরিক্ত পুরস্কার প্রদানের বিষয়ে আলিমগণের মত বিরোধ রয়েছে। মালিক ইবনু আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সবকটি গাযওয়াতে ‘‘নাফল’’ প্রদান করেছেন বলে কোন রিওয়াত আমাদের কাছে পৌছেনি। আমার কাছে যে রিওয়ায়াত পৌছেছে তা হল। তিনি কতক গাযওয়ায় তা দিয়েছেন। এই বিষয়টি হল শুরু বা শেষ গনীমত হিসাবে ইমাম বা মুসলিম সরকার প্রদানের বিবেচনার উপর নির্ভরশীল। ইবনু মানসুর (রহঃ) বলেন, আমিাহমাদকে বললাম। এতে তো কোন বিতর্ক নেই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দল থেকে পৃথক হয়ে যুদ্ধে যাত্রার ক্ষেত্রে এক পঞ্চমাংশের পর একচতুর্থাংশ এবং ফিরতীর সময় একপঞ্চমাংশের পর একতৃতীয়াংশ নাফল হিসাবে প্রদান করেছেন। তখন তিনি বললেন, প্রথমে সমস্ত গনীমতের এক পঞ্চমাংশ আলাদা করে নেওয়া হবে। তার অবশিষ্টাংশ হতে নাফল প্রদান করা হবে এবং তা এই পরিমাণ অতিক্রম করে যেন না যায়। এই হাদীসটি ইবনুল মুসায়্যোবের কথার উপর প্রযোজ্য য়ে, ‘‘নাফল’’ দেওয়া হবে খুমুস বা একপঞ্চমাংশ থেকে। ইসহাক (রহঃ) ও তদ্রুপ কথা বলেছেন।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৪/ অভিযান
হাদিস নম্বরঃ ১৫৬৮ | 1568 | ۱۵٦۸

১৫৬৮। আনসারী (রহঃ) আবূ কাদাতা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি (শত্রু) কাউকে হত্যা করবে আর এ বিষয়ে যদি তার প্রমাণ থাকে তবে তার জন্য হবে নিহত ব্যক্তির অস্ত্র-সস্ত্র ও মাল-সামান। হাদীসটিতে আরো কাহিনী রয়েছে। ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) থেকে উক্ত মনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়ে আওফ ইবনু মালিক, খালিদ ইবনু ওয়ালীদ, আনাস ও সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী আবূ মুহাম্মদ (রহঃ) হলেন আবূ কাতাদা (রহঃ) -এর আযদকৃত গোলাম নাফি। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। এ হল আওযাঈ, শাফিঈ ও আহমাদ (রহঃ) -এর অভিমত। কতক আলিম বলেন, ইমাম বা খালীফা সালাব বা নিহত শত্রুর মাল-সামান থেকেও খুমুস বা একপঞ্চমাংশ রাখার ক্ষমতা রাখেন। ছাওরী (রহঃ) বলেন, নাফল হল, ইমামের এই মর্মে ঘোষণা প্রদান যে, যুদ্ধে যে যা হস্তগত করবে তা তার এবং যে ব্যক্তি কোন শত্রুকে নিহত করবে তার জন্য নিহত ব্যক্তির মাল-সামান ও অস্ত্র-সস্ত্র। তা জায়েয এবং এতে খুমুস নেই। ইসহাক (রহঃ) বলেন, সালাব বা নিহত ব্যক্তির মাল-সামান ও অস্ত্রসস্ত্র হবে হত্যাকারীর। কিন্তু সম্পদের পরিমাণ যদিানেক হয় আর ইমাম যদি মনে করেন তা থেকে খুমুস নিবেন তবে তা পারেন। উমার ইবনু খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহ এইরূপ করেছিলেন।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৪/ অভিযান
হাদিস নম্বরঃ ১৫৬৯ | 1569 | ۱۵٦۹

১৫৬৯। হান্নাদ (রহঃ) আবূ সাঈদ আন-খুদরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বন্টন না হওয়া পর্যন্ত গনীমত সম্পদ ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন। এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৪/ অভিযান
হাদিস নম্বরঃ ১৫৭০ | 1570 | ۱۵۷۰

১৫৭০। মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া আন-নায়সাবূরী (রহঃ) ইরবায ইবনু সারিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রসব না হওয়া পর্যন্ত বন্দ্বীনীদের উপর উপগত হওয়া নিষিদ্ধ করেছেন। এই বিষয়ে রুওয়ায়ফি‘ ইবনু ছাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইরবায রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদীসটি গারীব। আলিমগণ এতদনুসারে আমল করেছেন। আওযাঈ (রহঃ) বলেন, কেউ যদি কোনি গর্ভবতী বন্দ্বীনী দাসী ক্রয় করে সে বিষয়ে উমার ইবনু খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, সন্তান প্রসব না হওয়া পর্যন্ত তার সঙ্গে উপগত হওয়া যাবে না। আওযাঈ রাদিয়াল্লাহু আনহ আরো বলেছেন, স্বাধীন মহিলাদের ক্ষেত্রে অনুসৃত সুন্নত হল যে তাদেরকে নির্ধারিত ইদ্দত পালনের নির্দেশ প্রদান করা হবে।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [1561]  থেকে  [1570]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [1794]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।