• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [3606] টি | অধ্যায়ঃ ২৩/ মানত ও কসম
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ) | দেখানো হচ্ছে   [1551]  থেকে  [1560]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৩/ মানত ও কসম
হাদিস নম্বরঃ ১৫৫১ | 1551 | ۱۵۵۱

১৫৫১। ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যদি কসম করার সময় বলে লাতের কসম, উযযার কসম তবে সে যেন বলে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। যে ব্যক্তি বলে আস, জুয়া খেলি, তবে যেন সে কিছু সাদকা করে। এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী আবূল মুগীরা (রহঃ) হলেন খাওলানী হিমসী। তার নাম হল আবদুল কুদ্দুস ইবনুল হাজ্জাজ।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৩/ মানত ও কসম
হাদিস নম্বরঃ ১৫৫২ | 1552 | ۱۵۵۲

১৫৫২। কুতায়বা (রহঃ) ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, সা‘দ ইবনু উবায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে মানত সম্পর্কে ফতওয়া জানতে চেয়েছিলেন। তার মার একটি মানত ছিল কিন্তু তা পূরণ করার আগেই তার মৃত্যু ঘটেছিল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার পক্ষ থেকে তুমি এটি আদায় করে দাও। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৩/ মানত ও কসম
হাদিস নম্বরঃ ১৫৫৩ | 1553 | ۱۵۵۳

১৫৫৩। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ‘লা (রহঃ) আবূ উমামা প্রমুখ সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যে মুসলিম ব্যক্তি কোন মুসলিম দাসকে আযাদ করবে তা তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি উপায় হবে। এর এক একটি অঙ্গের বিনিময়ে তার এক একটি অঙ্গের মুক্তির জন্য যথেস্ট হবে। যে মুসলিম ব্যক্তি দুইজন মুসলিম দাসকে আযাদ করবে। তারা দইজন এই ব্যক্তির জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় হবে। তাদের প্রতি অঙ্গের বিনিময়ে এই ব্যক্তির প্রতি অঙ্গের মুক&&তর জন্য যথেষ্ট হবে। যে মুসলিম মহিলা কোন মুসলিম দাসীকোযাদ করবে তা তার জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় হবে। এর প্রতি অঙ্গের বিনিময়ে তার প্রতি অঙ্গ মুক্তির জন্য যথেষ্ট হবে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। তবে এই সূত্রে গারীব। এই হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, পুরুষের জন্য দাসীর তুলনায় দাস আযাদ করা উত্তম। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে কোন মুসলিম দাসকে আযাদ করবে তা তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় হবে। এর এক একটি অঙ্গের বিনিময়ে তার এক একটি অঙ্গের মুক্তির জন্য যথেষ্ট হবে।’’



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৪/ অভিযান
হাদিস নম্বরঃ ১৫৫৪ | 1554 | ۱۵۵٤

১৫৫৪। কুতায়বা (রহঃ) আবদুল বাখতারী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালমান ফারসী (রহঃ) -এর নেতৃত্বে একটি মুসলিম বাহিনী পারস্যের একটি কিল্লা অবরোধ করেছিল। মুসলিম বাহিনীর সদস্যরা বলল, হে আবূ আবদুল্লাহ, আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে হামলা চালাব না? তিনি বললেন, আমাকে ছেড়ে দাও, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে যেমন দাওয়াত দিতে শুনেছি তেমনিভাবে আমি এদেরকে (ইসলামের) দাওয়াদ দিব। এরপর সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহ এদর (শত্রুদের) কাছে এলেন এবং বললেন, আমি তোমাদের মতই এক ফারসী বংশ উদ্ভুত লোক। তোমরা দেখছ আরবরা আমার আনুগত্য করছে। তোমরা যদি ইসলাম গ্রহণ কর তবে আমাদের যা (হক) আছে তোমাদেরও তা-ই হবে। আর আমাদের উপ যা প্রযোজ্য হয় তোমাদের উপরও তা প্রযোজ্য হবে। তোমরা যদি তোমাদের দ্বীন ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাও তবে আমরা তোমাদের ধর্মের উপরই তোমাদের থাকতে দেব। তোমরা আমাদের আনুগত্য স্বীকার করে আমাদেরকে সহস্তে জিযইয়া দিবে। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি এদের সাথে ফারসীতেও আলাপ করলেন। তিনি বললেন, এমতাবস্থায় তোমরা প্রশংসিত হবে না। তা-ও যদি তোমরা অস্বীকার কর তবে সমানভাবে আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা দিচ্ছি। তারা বলল, আমরা তোমাদের জিযইয়া প্রদান করব না বরং তোমাদের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করব। মুসলিম বাহিনীর লোকেরা বলল, হে আবূ আবদুল্লাহ, আমরা কি এদের বিরুদ্ধে হামলা করব না? তিনি বললেন, না। বর্ণনাকারী বলেন, এই ভাবে তিনি তাদেরকে তিন দিন পর্যন্ত দাওয়াত দিলেন। এরপর বললেন, এবার তোমরা এদের বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা কর। সেমতে আমরা তাদের বিরুদ্ধে হামলা করলাম এবং ঐ কিল্লাটি জয় করে নিলাম। এই বিষয়ে বুরায়দা, নু‘মান ইবনু মুকাররিন, ইবনু উমার ও ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদীসটি হাসান। আতা ইবনু সাইব (রহঃ) -এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। মুহাম্মদ বুখারী (রহঃ) -কে বলতে শুনেছি যে, আবূর বাখতারী (রহঃ) সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহ তো আলী রাদিয়াল্লাহু আনহ-এর পূর্বে ইন্তিকাল করেছেন। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম এই হাদীসানুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের মত প্রকাশ করেছেন। তারা যুদ্ধের পূর্বে ইসলামের প্রতি দাওয়াত প্রদান করতে হবে বলে মনে করেন। এ হল ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) -এর অভিমত। তিনি বলেন, দাওয়াতের ক্ষেত্রে যদি অগ্রবর্তী হওয়া যায় তবে তা ভাল এবং তা তাদের মধ্যে অধিকতর ভীতি সঞ্চারক হবে। কতক আলিম বলেন, বর্তমান যুগে আর দাওয়াতের প্রয়োজন নেই। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন, ইসলামের দাওয়াদ প্রদান না করা পর্যন্ত শত্রুদের সঙ্গে যুদ্ধ করা যাবে না। কিন্তু যদি তা না করে তাতেও কোন দোষ নেই। কেননা দাওয়াত তো ইতোমধ্যে তাদের কাছে পৌছে গেছেই।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৪/ অভিযান
হাদিস নম্বরঃ ১৫৫৫ | 1555 | ۱۵۵۵

১৫৫৫। মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া আদানী মাককী তার উপনাম আবূ আবদুল্লাহ, তিনি ছিলেন একজন সৎ লোক। তিনি হলেন, ইবনু আবী উমার রাদিয়াল্লাহু আনহইমাম মুযানী তিনি ছিলেন সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে তার পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন বাহিনীকে অভিযানে প্রেরণ করতেন তখন তাদের বলতেন, তোমরা যদি কোথাও মসজিদ দেখতে পাও বা কোন মুয়াযযিনের আযান শুনতে পাও তবে সেখানকার কাউকে হত্যা করবে না। এ হাদীসটি হাসান-গারীব। এটি হল ইবনু উয়ায়না রাদিয়াল্লাহু আনহ-এর রিওয়ায়াত।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৪/ অভিযান
হাদিস নম্বরঃ ১৫৫৬ | 1556 | ۱۵۵٦

১৫৫৬। আনসারী (রহঃ) আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের অভিযানের বের হলে রাতে এসে সেখানে পৌছেন। তিনি কোথাও রাতে এলে সকাল না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে অতর্কিত আক্রমণ করতেন না। যা হোক, সকালে খায়বারের ইয়াহূদীরা তাদের কোদাল ঝুড়িসহ (কাজের উদ্দেশ্যে) বের হল। যখন তারা তাঁকে দেখল তখন বলতে লাগল, মুহাম্মদ, আল্লাহর কসম মুহাম্মদ তার বিরাট পূর্ণাঙ্গ বাহিনী নিয়ে এসে গেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ আকবর, খায়বার বিনষ্ট হয়ে গেল, আমরা যখন কোন শত্রু সম্প্রদায়ের অঙ্গনে অবতরণ করি তখন যাদের সতর্ক করা হয়েছিল কতই না মন্দ হয় তাদের সেই ভোর।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৪/ অভিযান
হাদিস নম্বরঃ ১৫৫৭ | 1557 | ۱۵۵۷

১৫৫৭। কুতায়বা ও মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) আবূ তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন সম্প্রদায়ের উপর বিজয় লাভ করতেন তখন তাদের অঞ্চলে তিন দিন অবস্থান করতেন। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। হুমায়স-আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে বর্ণিত হাদীসটিও (১৫৫৬ নং) হাসান-সহীহ। কতক আলিম রাতে অতর্কিত আক্রমণের অবকাশ রেখেছেন। আর কতক আলিম এটিকে মাকরূহ বা নিন্দনীয় বলে মনে করেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) বলেন, রাত্রে শত্রুর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় কোন অসুবিধা নেই।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৪/ অভিযান
হাদিস নম্বরঃ ১৫৫৮ | 1558 | ۱۵۵۸

১৫৫৮। কুতায়বা (রহঃ) ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানূ নাযির গোত্রের বুওয়ায়রার খেজুর বাগান জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন এবং গাছগুলি কেটে ফেলেছিলেন। এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করেন। তোমরা যে গাছগুলি কেটেছ বা যেগুলি কান্ডের উপর ছেড়ে রেখে দিয়েছ তা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে ; আর এ জন্য যে, আল্লাহ ফাসিকদেরকে লাঞ্চিত করবেন। [৫৯/ ৫] এ বিষয়ে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণের এক সম্প্রদায় এ মত অবলম্বন করেছেন। যুদ্ধে বৃক্ষকর্তণ এবং কেল্লা ধ্বংস করায় কোন দোষ আছে বলে তারা মনে করেন না। কতক আলিম তা অপছন্দনীয় বলে মত প্রকাশ করেছেন। এ হল ইমাম আওযাঈ-এর অভিমত। তিনি বলেন, ফলন্ত বৃক্ষ কর্তণ করতে বা আবাদী ধ্বংস করতে আবূ বাকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহ নিষেধ করেছেন। শাফিঈ (রহঃ) বলেন, শত্রুর সম্পত্তি জ্বালানো এবং তাদের বৃক্ষ ও ফল কর্তন করায় কোন দোষ নেই। আহমাদ (রহঃ) বলেন, এ ছাড়া যদি কোন উপায় না থাকে এমন স্থানে তা করা যাবে। প্রয়োজন ছাড়া জ্বালাও-পোড়াও করা যাবে না। ইসহাক (রহঃ) বলেন, শত্রু প্রতি যদি আঘাত বেশী হয় তবে আগুন লাগান সুন্নাত বলে বিবেচিত হবে।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৪/ অভিযান
হাদিস নম্বরঃ ১৫৫৯ | 1559 | ۱۵۵۹

১৫৫৯। মুহাম্মদ ইবনু উবায়দ মুহারিবী (রহঃ) আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা আমাকে নাবীগণের উপর মর্যাদা দিয়েছেন। অথবা তিনি বলেছেন, আমার উম্মাতকে অপরাপর উম্মাতের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং তিনি আমাদের জন্য গানীমত হালাল করেছেন। এ বিষয়ে আলী, আবূ যারর, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবূ মূসা ও ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। শুথু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। বর্ণনাকারী এ সায়্যার হলেন বানূ মুআবিয়-এর আযাতকৃত দাস সায়্যার। তার বরাতে সুলায়মান তায়মী আবদুল্লাহ ইবনু বাহীর (রহঃ) প্রমুখ বর্ণনা করেছেন। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অন্যান্য নাবীগণের উপর ছয়টি ক্ষেত্রে আমাকে অধিক মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। আমাকে ব্যাপক ভাবকে অল্প কথায় প্রকাশ করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে, শত্রুর মনোযাব সৃষ্টি করে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে। আমার জন্য গনীমত সম্পদ হালাল করা হয়েছে। যমীনকে আমার জন্য মসজিদ ও তাহারাতের (পবিত্রতার) উপায় (তায়ম্মুম) হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সমগ্র সৃষ্টির প্রতি আমি প্রেরিত হয়েছি, আমার মাধ্যমে নাবীগণের আগমন শেষ করা হয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৪/ অভিযান
হাদিস নম্বরঃ ১৫৬০ | 1560 | ۱۵٦۰

১৫৬০। আহমাদ ইবনু আবদা যাববী ও হুমায়দ ইবনু মাসআদা (রহঃ) ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গনীমত বা যুদ্ধ সম্পদের অশ্বের জন্য দুই হিস্যা এবং অশ্ব মালিকের জন্য এক হিস্যা করে বণ্টন করেছেন। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) সুলায়মান ইবনু আখযার (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়ে মুজাম্মা‘ ইবনু জারিয়া, ইবনু আব্বাস, ইবনু আবূ আমরা তৎপিতা রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। এ হল সুফইয়ান ছাওরী, আওযাঈ, মালিক ইবনু আনাস, ইবনু মুবারক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) -এর অভিমত। তারা বলেন, অশ্বারোহী সৈন্যের হল তিন হিস্যা তার নিজের আর অশ্বের খাতিরে হল দুই হিস্যা। পদাতিক সৈন্যের হল এক হিস্যা।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [1551]  থেকে  [1560]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [3606]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।