• ৫৬৪২৭ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [1794] টি | অধ্যায়ঃ ১৪/ ক্রয় বিক্রয়
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ) | দেখানো হচ্ছে   [1261]  থেকে  [1270]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৪/ ক্রয় বিক্রয়
হাদিস নম্বরঃ ১২৬১ | 1261 | ۱۲٦۱

পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই।

১২৬১. আহমাদ ইবনু সাঈদ দারিমী (রহঃ) ...... উরওয়া বারিকী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য একটি বকরী খরীদ করার জন্য আমাকে একটি দ্বীনার দেন। আমি এ দিয়ে তাঁর জন্য দুটি বকরী খরীদ করি এবং একটি এক দ্বীনারে বিক্রি করে দেই। আর একটি বকরী ও এক দ্বীনার নিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর কাছে আসি। অনন্তর উরওয়া বারিকী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর কাছে পূরা বিষয়টি বিবৃত করেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, আল্লাহ্ তোমার ডান হাতের চুক্তিতে (ব্যবসায়ে) বরকত দিন। পরবর্তীতে আল-বারিকী রাদিয়াল্লাহু আনহু কূফার কুনাসায় চলে যান। সেখানে যথেষ্ট লাভ করেন। তিনি কুফার সবচাইতে ধনী হয়েছিলেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৫৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]

আহমাদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) আবূ লাবীদ (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। কতক আলিম এই হাদীস অনুসারে মত ও অবলম্বন করেছেন এবং তদনাসারে অভিমত প্রকাশ করেছেন। এ হলো ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) সহ অপর কতক আলিম এতদনুসারে আমল করেন নি। রাবী সাঈদ ইবনু যায়দ হলেন হাম্মাদ ইবনু যায়দ (রহঃ) এর ভাই। আর আবূ লাবীদ (রহঃ) এর নাম হলো লিমাযা ইবনু যাইয়াদ।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated 'Urwah Al-Bariqi:
"The Messenger of Allah (ﷺ) gave me on Dinar to purchase a sheep for him. So I purchased two sheeps for him, and I sold one of them for a Dinar. So I returned with the sheep and the Dinar to the Prophet (ﷺ), and I mentioned what had happened and he said: 'May Allah bless you in your business dealings.' After that we went to Kunasah in Al-Kufah, and he made tremendous profits. He was among the wealthiest of the people in Al-Kufah."

Another chain of narration with similar meaning.

[Abu 'Eisa said:
] Some of the people of knowledge followed this Hadith and stated their view accordingly. This is the view of Ahmad and Ishaq. Some of the people of knowledge did not use this Hadith, among them are Ash-Shafi'i and Sa'eed bin Zaid the brother of Hammad bin Zaid. And Abu Labid's (a narrator) name is Limazah bin Zabbar.

باب

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ، وَهُوَ ابْنُ هِلاَلٍ أَبُو حَبِيبٍ الْبَصْرِيُّ حَدَّثَنَا هَارُونُ الأَعْوَرُ الْمُقْرِئُ، وَهُوَ ابْنُ مُوسَى الْقَارِئُ حَدَّثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ الْخِرِّيتِ، عَنْ أَبِي لَبِيدٍ، عَنْ عُرْوَةَ الْبَارِقِيِّ، قَالَ دَفَعَ إِلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دِينَارًا لأَشْتَرِيَ لَهُ شَاةً فَاشْتَرَيْتُ لَهُ شَاتَيْنِ فَبِعْتُ إِحْدَاهُمَا بِدِينَارٍ وَجِئْتُ بِالشَّاةِ وَالدِّينَارِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فَذَكَرَ لَهُ مَا كَانَ مِنْ أَمْرِهِ فَقَالَ لَهُ ‏ "‏ بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِي صَفْقَةِ يَمِينِكَ ‏"‏ ‏.‏ فَكَانَ يَخْرُجُ بَعْدَ ذَلِكَ إِلَى كُنَاسَةِ الْكُوفَةِ فَيَرْبَحُ الرِّبْحَ الْعَظِيمَ فَكَانَ مِنْ أَكْثَرِ أَهْلِ الْكُوفَةِ مَالاً ‏.‏
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ، هُوَ أَخُو حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ قَالَ حَدَّثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ خِرِّيتٍ، عَنْ أَبِي لَبِيدٍ، فَذَكَرَ نَحْوَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ وَقَالُوا بِهِ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ ‏.‏ وَلَمْ يَأْخُذْ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ بِهَذَا الْحَدِيثِ مِنْهُمُ الشَّافِعِيُّ ‏.‏ وَسَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ أَخُو حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ ‏.‏ وَأَبُو لَبِيدٍ اسْمُهُ لِمَازَةُ بْنُ زَبَّارٍ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৪/ ক্রয় বিক্রয়
হাদিস নম্বরঃ ১২৬২ | 1262 | ۱۲٦۲

পরিচ্ছদঃ মুকতাবের নিকট যদি আদায় করার মত কেন কিছু থাকে।

১২৬২. হারূন ইবনু অব্দুল্লাহ্ বায্যায (রহঃ) ...... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। কোন মুকাতাব দাসের যদি রক্তপণের অর্থ বা উত্তরাধিকারী হওয়ার মত কোন কিছু থাকে তবে আযাদ হওয়ার হার অনুসারে সে ঐ বস্তুর ওয়ারিছ ও মালিক হবে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুকাতাব তার চুক্তির যতটুকু পরিমাণ আদায় করেছে সে পরিমাণ অনুসারে স্বাধীন ব্যক্তির দিয়াত (রক্তপাণ) এবং যে পরিমাণ বাকী রয়েছে সে পরিমাণ অনুসারে গোলামের দিয়াত আদায় করবে। - ইরওয়া ১৭২৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৫৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান। ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাছীর (রহঃ)-ও এটিকে ইকরিমা-ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। খালিদ হায্যা (রহঃ) এটিকে ইকরিমার বরাতে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বক্তব্য হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ এতদনুসরে অভিমত প্রদান করেছেন। অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের অভিমত হলো, একটি দিরহাম অবশিষ্ট থাকা পর্যন্তও মুকাতাব দাস বলে গণ্য। এ হলো ইমাম, সুফইয়ান ছাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত।


** যে দাস কিছু বিনিময়ের মাধ্যমে মালিকের সঙ্গে আযাদ হওয়ার চুক্তি করে সে দাসকে ‘মুকাতাব’ বলা হয়।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Ibn 'Abbas:

That the Prophet (ﷺ) said: "When the penalty (of blood money) goes to a Mukatab, or an inheritance, then he inherits in accordance with as much as he is freed from it." And the Prophet (ﷺ) said: "The Mukatab is given the blood-money of a free person in accordance to what he has paid (for his freedom), and that of a slave in accordance to what remains."

[He said:] There is something on this from Umm Salamah.

[Abu 'Eisa said:] The Hadith of Ibn 'Abbas is a Hasan Hadith. This is how it was reported from Yahya bin Abi Kathir from 'Ikrimah, from Ibn 'Abbas, from the Prophet (ﷺ).

Khalid bin Al-Hadh-dha' reported it from 'Ikrimah, from 'Ali as his saying.

This is acted upon according to some of the people of knowledge among the Companions of the Prophet (ﷺ) and others.

Most of the people of knowledge among the Companions of the Prophet (ﷺ) and others said that the Mukatab remains a slave as long as he still owes a Dirham. This is the view of Sufyan Ath-Thawri, Ash-Shafi'i, Ahmad, and Ishaq.

باب مَا جَاءَ فِي الْمُكَاتَبِ إِذَا كَانَ عِنْدَهُ مَا يُؤَدِّي

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ إِذَا أَصَابَ الْمُكَاتَبُ حَدًّا أَوْ مِيرَاثًا وَرِثَ بِحِسَابِ مَا عَتَقَ مِنْهُ ‏"‏ ‏.‏ وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ يُؤَدِّي الْمُكَاتَبُ بِحِصَّةِ مَا أَدَّى دِيَةَ حُرٍّ وَمَا بَقِيَ دِيَةَ عَبْدٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ ‏.‏ وَهَكَذَا رَوَى يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ وَرَوَى خَالِدٌ الْحَذَّاءُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ عَلِيٍّ قَوْلَهُ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ ‏.‏ وَقَالَ أَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمُ الْمُكَاتَبُ عَبْدٌ مَا بَقِيَ عَلَيْهِ دِرْهَمٌ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৪/ ক্রয় বিক্রয়
হাদিস নম্বরঃ ১২৬৩ | 1263 | ۱۲٦۳

পরিচ্ছদঃ মুকতাবের নিকট যদি আদায় করার মত কেন কিছু থাকে।

১২৬৩. কুতায়বা (রহঃ) ...... আমর ইবনু শুআয়ব তার পিতা, তার পিতামহ আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খুতবায় বলতে শুনেছি যে, কেউ যদি একশত উকিয়া মুদ্রার বিনিময়ে তার দাসের সঙ্গে ‘‘কিতাবাত’’ চুক্তি করে আর সেই দাস যদি দশ উকিয়া ছাড়া বাকী অর্থ আদায় করে দেওয়ার পর অর্থ আদায়ে অপারগ হয় তবে তবে সে গোলাম বলেই গণ্য হবে। - ইবনু মাজাহ ২৫১৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৬০ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। তার বলেন, কিতাবাত চুক্তির সামান্য অংশ বাকী থাকা পর্যন্ত মুকাতাব দাস বলেই গণ্য হবে। হাজ্জাজ ইবনু আরতাত (রহঃ) এটিকে আমর ইবনু শুআয়ব (রহঃ) থেকে অনূরূপ রিওয়ায়ত করেছেন।



হাদিসের মানঃ  হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated 'Amr bin Shu'aib:

From his father, from his grandfather that he heard the Messenger of Allah (ﷺ) delivering a Khutbah in which he said: "Whoever gives a writ of emancipation to his slave, for one hundred Uqiyyah, and he pays it to him less then ten Uqiyah." - or he said: "Ten Dirham" - "then he becomes incapable (of paying the remainder), the he remains a slave."

[Abu 'Eisa said:] This Hadith is Hasan Gharib. And this acted upon according to most of the people of knowledge among the Companions of the Prophet (ﷺ) and others: The Mukatab is a slave as long as something remains due from him for his Kitabah.

Al-Hajjaj bin Artat reported similarly from 'Amr bin Shu'aib.

باب مَا جَاءَ فِي الْمُكَاتَبِ إِذَا كَانَ عِنْدَهُ مَا يُؤَدِّي

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ يَقُولُ ‏ "‏ مَنْ كَاتَبَ عَبْدَهُ عَلَى مِائَةِ أُوقِيَّةٍ فَأَدَّاهَا إِلاَّ عَشْرَ أَوَاقٍ أَوْ قَالَ عَشَرَةَ دَرَاهِمَ ثُمَّ عَجَزَ فَهُوَ رَقِيقٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنَّ الْمُكَاتَبَ عَبْدٌ مَا بَقِيَ عَلَيْهِ شَيْءٌ مِنْ كِتَابَتِهِ ‏.‏ وَقَدْ رَوَى الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ نَحْوَهُ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৪/ ক্রয় বিক্রয়
হাদিস নম্বরঃ ১২৬৪ | 1264 | ۱۲٦٤

পরিচ্ছদঃ মুকতাবের নিকট যদি আদায় করার মত কেন কিছু থাকে।

১২৬৪. সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান মাখযূমী (রহঃ) ....... উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কারো মুকাতাবের কাছে যদি আদায় করার মত সম্পদ থাকে তবে তার থেকে সে যেন সে পরিমাণ আদায় করে। - ইবনু মাজাহ ২৫২০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৬১ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সাহীহ। এ হাদীসের তাৎপর্য সম্পর্কে আলিমগণ বলেন, এটির সম্পর্ক হলো তাকওয়া ও সাবধানতার সাথে তাঁরা বলেন, মুকাতাবের কাছে আদায় করার মত সম্পদ থাকলেও যতক্ষণ না চুক্তি মুতাবিক সাকুল্য অর্থ সে আদায় করবে ততক্ষণ সে আযাদ হবে না।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Umm Salamah:

That the Messenger of Allah (ﷺ) said: "When one of you (women) has a Mukatab ho has with him what will fulfill (the Kitabah) then observe Hijab from him."

[Abu 'Eisa said:] This Hadith is Hasan Sahih. And the meaning of this Hadith according to the people of knowledge is that of caution. They say that the Mukatab is not freed, even if he has the amount to pay, until he pays it.

باب مَا جَاءَ فِي الْمُكَاتَبِ إِذَا كَانَ عِنْدَهُ مَا يُؤَدِّي

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ نَبْهَانَ، مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِذَا كَانَ عِنْدَ مُكَاتَبِ إِحْدَاكُنَّ مَا يُؤَدِّي فَلْتَحْتَجِبْ مِنْهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَمَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلَى التَّوَرُّعِ وَقَالُوا لاَ يُعْتَقُ الْمُكَاتَبُ وَإِنْ كَانَ عِنْدَهُ مَا يُؤَدِّي حَتَّى يُؤَدِّيَ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৪/ ক্রয় বিক্রয়
হাদিস নম্বরঃ ১২৬৫ | 1265 | ۱۲٦۵

পরিচ্ছদঃ দেউলিয়া ঘোষিত ব্যক্তির নিকট কোন পাওনাদার ঠিক তারই জিনিসটি পেলে।

১২৬৫. কুতায়বা (রহঃ) ....... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তি যদি দেউলিয়া হয়ে যায় আর তার নিকট যদি কোন ব্যক্তি ঠিক তারই জিনিষটি পেয়ে যায় তবে এতে অন্যের চাইতে সেই অধিক হকদার। - ইবনু মাজাহ ২৩৫৮, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৬২ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে সামুরা ও ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সাহীহ। এ হাদীস অনুসারে কতক আলিমের আমল রয়েছে। এ হলো ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। আর কোন কোন আলিম বলেন, এতে সে অন্যান্য পাওনাদারের সঙ্গে সম অধিকারী হবে। এ হলো কুফাবাসী আলিমগণের অভিমত।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Abu Hurairah:

That the Messenger of Allah (ﷺ) said: "Whichever person becomes bankrupt, and a man finds his particular merchandise with him, then he is more deserving of it than others.

[He said:] There are narrations on this topic from Samurah and Ibn 'Umar.

[Abu 'Eisa said:] The Hadith of Abu Hurairah is a Hasan Sahih Hadith. This is acted upon according to some of the people of knowledge and it is the view of Ash-Shafi'i, Ahmad, and Ishaq.

Some of the people of knowledge said that he is just like one of the debtors. This is the view of the people of Al-Kufah.

باب مَا جَاءَ إِذَا أَفْلَسَ لِلرَّجُلِ غَرِيمٌ فَيَجِدُ عِنْدَهُ مَتَاعَهُ

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏ "‏ أَيُّمَا امْرِئٍ أَفْلَسَ وَوَجَدَ رَجُلٌ سِلْعَتَهُ عِنْدَهُ بِعَيْنِهَا فَهُوَ أَوْلَى بِهَا مِنْ غَيْرِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ سَمُرَةَ وَابْنِ عُمَرَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ هُوَ أُسْوَةُ الْغُرَمَاءِ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ أَهْلِ الْكُوفَةِ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৪/ ক্রয় বিক্রয়
হাদিস নম্বরঃ ১২৬৬ | 1266 | ۱۲٦٦

পরিচ্ছদঃ মুসলিম ব্যক্তি কর্তৃক বিক্রির জন্য মদ যিম্মির কাছে অর্পন করা নিষিদ্ধ।

১২৬৬. আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমাদের কাছে জনৈক ইয়াতীমের কিছু মদ ছিল। সূরা মাইদার (মদ নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত) আয়াত নাযিল হলে এ বিষয়ে আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলাম। বললাম, এ মদ হলো জনৈক ইয়াতীমের সম্পদ। তিনি বললেন, তা ঢেলে ফেলে দাও। - মিশকাত - তাহকিক ছানী ৩৬৪৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৬৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান। একাধিক সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

কোন কোন আলিম এ হাদীস অনুসারে মত পোষণ করেছেন। তাঁরা মদকে সিরকায় পরিণত করা না জায়িয বলে মত প্রকাশ করেছেন। এ যে কোন মুসলিমের ঘরে মদ থাকা অবস্থায় সিরকায় পরিণত হয়ে যাওয়াটাও না-জায়িয বলে মনে করেছেন। কতক আলিম মদ যদি সিরকারূপে রূপান্তরিত হয়ে যায়, তবে এই মদের সিরকাকে জায়িয মনে করেছেন।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Abu Al-Waddak:

That Abu Sa'eed said: "We had some wine that belonged to an orphan. When Al-Ma'idah was revealed I asked the Messenger of Allah (ﷺ) about it, I said: 'It belongs to an orphan.' He said: 'Spill it out.'"

[He said:] There is something on this topic from Anas bin Malik.

[Abu 'Eisa said:] The Hadith of Abu Sa'eed is a Hasan [Sahih] Hadith. Similar to this has been reported through other routes from the Prophet (ﷺ). Some of the people of knowledge stated according to this, they dislike the usage of wine for making vinegar. And the only thing that they disliked about it, and Allah knows best, is for a Muslim to have wine in his house until it becomes vinegar. Abu Al-Waddak's name is Jabr bin Nawf.

باب مَا جَاءَ فِي النَّهْىِ لِلْمُسْلِمِ أَنْ يَدْفَعَ إِلَى الذِّمِّيِّ الْخَمْرَ يَبِيعُهَا لَهُ

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ أَبِي الْوَدَّاكِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ كَانَ عِنْدَنَا خَمْرٌ لِيَتِيمٍ فَلَمَّا نَزَلَتِ الْمَائِدَةُ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْهُ وَقُلْتُ إِنَّهُ لِيَتِيمٍ ‏.‏ فَقَالَ ‏ "‏ أَهْرِيقُوهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوُ هَذَا ‏.‏ وَقَالَ بِهَذَا بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ وَكَرِهُوا أَنْ تُتَّخَذَ الْخَمْرُ خَلاًّ وَإِنَّمَا كُرِهَ مِنْ ذَلِكَ وَاللَّهُ أَعْلَمُ أَنْ يَكُونَ الْمُسْلِمُ فِي بَيْتِهِ خَمْرٌ حَتَّى يَصِيرَ خَلاًّ ‏.‏ وَرَخَّصَ بَعْضُهُمْ فِي خَلِّ الْخَمْرِ إِذَا وُجِدَ قَدْ صَارَ خَلاًّ ‏.‏ أَبُو الْوَدَّاكِ اسْمُهُ جَبْرُ بْنُ نَوْفٍ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৪/ ক্রয় বিক্রয়
হাদিস নম্বরঃ ১২৬৭ | 1267 | ۱۲٦۷

পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই

১২৬৭. আবূ কুরায়ব (রহঃ) ....... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে তোমার নিকট আমানত রেখেছে তুমি তার নিকট সেই আমানত আদায় করে দাও। আর তোমার সঙ্গে যে খিয়ানত করেছে তার সাথে তুমি খিয়ানত করবে না। - মিশকাত ২৯৩৪, সহিহাহ ৪২৩০, রাওযুন নাযীর ১৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৬৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। এই হাদীস মুতাবিক কোন কোন আলিম মত পোষণ করেছেন। তার বলেন, কোন ব্যক্তির যদি অপর কারো নিকট কিছু থাকে আর সে যদি তা আত্মসাৎ করে এবং পরে যদি তার কোন জিনিষ ঐ পাওনাদার ব্যক্তির হাতে পড়ে তার যে পরিমাণ জিনিষ সে আত্মসাৎ করেছে সে পরিমাণ আটকে রাখার অধিকার তার নেই।

তাবিঈনের কেউ কেউ পাওনাদার ব্যক্তির জন্য এর অনুমতি দিয়েছেন। এ হলো সুফইয়ান ছাওরী (রহঃ)-এর অভিমত। তবে তিনি বলেন, কারো যদি দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা) পাওনা হয় আ তার হাতে যদি খাতকেরীনার (স্বর্ণ মুদ্রা) এসে যায় তবে তার পক্ষে দিরহামের স্থানে এই দ্বীনার আটকে রাখার অধিকার নেই। কিন্তু তার হাতে যদি খাতকের কিছু দিরহাম আসে তবে সে তার পাওনা দিরহামের পরিমান আটকে রেখে নিজের পাওনা আদায় করে নিতে পারবে।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Abu Hurairah:

That the Prophet (ﷺ) said: "Fulfill the trust for the one who entrusted you, and do not cheat the one who cheated you."

[Abu 'Eisa said:] This Hadith is Hasan Gharib. Some of the people of knowledge followed this Hadith, they said that when something belonging to a man is with another and he leaves (with it), then he has something that belongs to him, he may not withhold from him an equivalent to what the other took of his.

Some of the people of knowledge among the Tabi'in allowed that. This is the view of Sufyan Ath-Thawri, he said: "If one man has some Dirham that belong to another, and the second has some Dinar belonging to the first, he may not withhold any in place of his Dirham, unless it so happens that he has some Dirham of his, then in that case he can withhold some of his Dirham equal to what he is owed by the first."

باب

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا طَلْقُ بْنُ غَنَّامٍ، عَنْ شَرِيكٍ، وَقَيْسٍ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أَدِّ الأَمَانَةَ إِلَى مَنِ ائْتَمَنَكَ وَلاَ تَخُنْ مَنْ خَانَكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏.‏ وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ وَقَالُوا إِذَا كَانَ لِلرَّجُلِ عَلَى آخَرَ شَيْءٌ فَذَهَبَ بِهِ فَوَقَعَ لَهُ عِنْدَهُ شَيْءٌ فَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَحْبِسَ عَنْهُ بِقَدْرِ مَا ذَهَبَ لَهُ عَلَيْهِ ‏.‏ وَرَخَّصَ فِيهِ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنَ التَّابِعِينَ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ وَقَالَ إِنْ كَانَ لَهُ عَلَيْهِ دَرَاهِمُ فَوَقَعَ لَهُ عِنْدَهُ دَنَانِيرُ فَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَحْبِسَ بِمَكَانِ دَرَاهِمِهِ إِلاَّ أَنْ يَقَعَ عِنْدَهُ لَهُ دَرَاهِمُ فَلَهُ حِينَئِذٍ أَنْ يَحْبِسَ مِنْ دَرَاهِمِهِ بِقَدْرِ مَا لَهُ عَلَيْهِ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৪/ ক্রয় বিক্রয়
হাদিস নম্বরঃ ১২৬৮ | 1268 | ۱۲٦۸

পরিচ্ছদঃ আরিয়া বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে গৃহীত বস্তু অবশ্যই ফিরিয়ে দিতে হবে।

১২৬৮. হান্নাদ ও আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ....... আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের বছরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর খুতবায় বলতে শুনেছি যে, আরিয়া তার মালিকের নিকট ফিরিয়ে দিতে হবে, যামিনদার প্রাপ্য পরিশোধের যিম্মাদার হবে, আর ঋণ অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। - ইবনু মাজাহ ২৩৯৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৬৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে সামূরা, সাফওয়ান ইবনু উমায়্যা ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-গারীব। এ সূত্র ছাড়াও আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বরাতে নাবী থেকে এ হাদীসটি বর্ণিত আছে।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Abu Umamah:

"During the year of the Farewell Pilgrimage, I heard the Prophet (ﷺ) saying during the Khutbah: "The borrowed is to be returned, and the guarantor is responsible, and the debt is to be repaid."

[Abu 'Eisa said:] There are narrations on this topic from Samurah, Safwan bin Umayyah, and Anas.

[He said:] The Hadith of Abu Umamah is a Hasan Gharib Hadith. It has also been reported through other routes besides this, from Abu Umamah, from the Prophet (ﷺ).

باب مَا جَاءَ فِي أَنَّ الْعَارِيَةَ مُؤَدَّاةٌ

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي خُطْبَتِهِ عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ ‏ "‏ الْعَارِيَةُ مُؤَدَّاةٌ وَالزَّعِيمُ غَارِمٌ وَالدَّيْنُ مَقْضِيٌّ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ سَمُرَةَ وَصَفْوَانَ بْنِ أُمَيَّةَ وَأَنَسٍ ‏.‏ قَالَ وَحَدِيثُ أَبِي أُمَامَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَيْضًا مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৪/ ক্রয় বিক্রয়
হাদিস নম্বরঃ ১২৬৯ | 1269 | ۱۲٦۹

পরিচ্ছদঃ আরিয়া বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে গৃহীত বস্তু অবশ্যই ফিরিয়ে দিতে হবে।

১২৬৯. মুহাম্মাদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ....... সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হাতে যা গ্রহণ কররো যতক্ষণ না সে তা প্রকৃত মালিকের নিকট আদায় করে দিবে ততক্ষণ এর দায়িত্ব তার উপর থেকে যাবে। বর্ণনাকারী কাতাদা বলেন, পরবর্তীতে হাসান (রহঃ) এই হাদীসটির বিষয় ভূলে যান। ফলে তিনি বলেন, সে তোমার আমানতদার সুতরাং তার উপর এর অর্থাৎ আরিয়ার ক্ষতিপূরণ নেই। - ইবনু মাজাহ ২৪০০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৬৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সাহীহ। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম এ হাদীসের মর্ম অনুযায়ী মত পোষণ করেছেন। তাঁরা বলেন, ‘আরিয়া’ গ্রহণকারী ব্যক্তির (জিনিষটি নষ্ট হলে) যামিন হবে। এ হলো ইমাম শাফিঈ ও আহমাদ (রহঃ)-এর অভিমত। কোন কোন সাহাবী ও আলিম বলেন, আরিয়া গ্রহণকারী ব্যক্তি যদি শর্ত খেলাফ না করে তবে তার উপর কোন যিমান আসবেনা। এ হলো ইমাম সুফইয়ান ছাওরী ও কূফাবাসী আলিমগণের অভিমত। ইসহাক (রহঃ)-এর বক্তব্যও এ-ই।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Qatadah:

From Al-Hasan, from Samurah, that the Prophet (ﷺ) said: "Upon the hand is what it took, until it is returned." Qatadah said: "Then Al-Hasan forgot, so he said: 'It is something you entrusted, he is not liable for it.' " Meaning the borrowed property.

[Abu 'Eisa said:] This Hadith is Hasan Sahih. Some of the people pf knowledge, among the Companions of the Prophet (ﷺ) and others, followed this Hadith. They said that the possessor of the borrowed thing is liable. This is the view of Ash-Shafi'i and Ahmad. Some of the people of knowledge among the Companions and others said that the possessor of the borrowed this is not liable unless there is dispute. This is the view of Sufyan Ath-Thawri and the people of Al-Kufah, and it is the view of Ishaq.

باب مَا جَاءَ فِي أَنَّ الْعَارِيَةَ مُؤَدَّاةٌ

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ عَلَى الْيَدِ مَا أَخَذَتْ حَتَّى تُؤَدِّيَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قَتَادَةُ ثُمَّ نَسِيَ الْحَسَنُ فَقَالَ هُوَ أَمِينُكَ لاَ ضَمَانَ عَلَيْهِ ‏.‏ يَعْنِي الْعَارِيَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ إِلَى هَذَا وَقَالُوا يَضْمَنُ صَاحِبُ الْعَارِيَةِ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ لَيْسَ عَلَى صَاحِبِ الْعَارِيَةِ ضَمَانٌ إِلاَّ أَنْ يُخَالِفَ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ وَبِهِ يَقُولُ إِسْحَاقُ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৪/ ক্রয় বিক্রয়
হাদিস নম্বরঃ ১২৭০ | 1270 | ۱۲۷۰

পরিচ্ছদঃ ইহতিকার বা মজুদদারী করা।

১২৭০. ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... মা’মার ইবনু আবদুল্লাহ্ ইবনু ফাযালা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, পাপচারী ব্যতিরেকে কেউ মাউযূদদারী করে না। রাবী মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম বলেন, আমি সাঈদ-কে বললাম, হে আবূ মুহাম্মাদ, আপনি তো মউযূদ করেন? তিনি বললেন, মা’মারও মওজূদ করেতন। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি তৈল ও বৃক্ষ - পত্র- ঘাস এবং অনুরূপ দ্রব্য মউযূদ করতেন। - ইবনু মাজাহ ২১৫৪, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১২৬৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে উমার, আলী, আবূ উমামা ও ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। মামার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সাহীহ। আলিমগণ এ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তারা খাদ্যদ্রব্য মওজূদ করা পছন্দ করেন নি। কেউ কেউ কাদ্যদ্রব্য ছাড়া অন্য জিনিষ মওজূদ রাখার অনুমতি দিয়েছেন। ইবনু মুবারক বলেন, তুলা ভেড়ার চামড়া এবং অনুরূপ দ্রব্য রাখায় কোন দোষ নাই। ** খাদ্যদ্রব্য ব্যতীত।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Muhammad bin Ibrahim :

From Sa'eed bin Al-Musayyab, from Ma'mar bin 'Abdullah bin Nadlah who said: "I heard the Messenger of Allah (ﷺ) saying: 'Hoarding is nothing but sin.' So I (Muhammad) said to Sa'eed: "O Abu Muhammad! You hoard?" He said: "And Ma'mar would hoard."

It is also been reported that Sa'eed bin Musayyab would hoard oil, (camel) fodder, and the like.

[Abu 'Eisa said:] There are narrations on this topic from 'Umar, 'Ali, Abu Umamah, and Ibn 'Umar. The Hadith of Ma'mar is a Hasan Sahih Hadith. This is acted upon according to the people of knowledge, they dislike hoarding food, and some of them make a concession for hoarding things other than food. Ibn Al-Mubarak said: "There is no harm in hoarding cotton, goat pelts and like."

باب مَا جَاءَ فِي الاِحْتِكَارِ

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ مَعْمَرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَضْلَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ لاَ يَحْتَكِرُ إِلاَّ خَاطِئٌ ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ لِسَعِيدٍ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ إِنَّكَ تَحْتَكِرُ ‏.‏ قَالَ وَمَعْمَرٌ قَدْ كَانَ يَحْتَكِرُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَإِنَّمَا رُوِيَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ كَانَ يَحْتَكِرُ الزَّيْتَ وَالْحِنْطَةَ وَنَحْوَ هَذَا ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ وَأَبِي أُمَامَةَ وَابْنِ عُمَرَ ‏.‏ وَحَدِيثُ مَعْمَرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا احْتِكَارَ الطَّعَامِ ‏.‏ وَرَخَّصَ بَعْضُهُمْ فِي الاِحْتِكَارِ فِي غَيْرِ الطَّعَامِ ‏.‏ وَقَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ لاَ بَأْسَ بِالاِحْتِكَارِ فِي الْقُطْنِ وَالسَّخْتِيَانِ وَنَحْوِ ذَلِكَ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [1261]  থেকে  [1270]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [1794]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।