• ৫৬৫১৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [42] টি | অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ) | দেখানো হচ্ছে   [11]  থেকে  [20]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
হাদিস নম্বরঃ ১৪৩৮ | 1438 | ۱٤۳۸

১৪৩৮। সালামা ইবনু শাবীব, ইসহাক ইবনু মানসুর, হাসান ইবনু আলী আল খাল্লাল প্রমুখ (রহঃ) উমার ইবনু খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই সত্যসহ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে প্রেরণ করেছেন। তাঁর উপর নাযিল করেছেন কিতাব। তাঁর উপর তিনি যা নাযিল করেছেন তাতে ‘রজম’-এর বিধান সম্বলিত আয়াত ছিল। [অনন্তর তার তিলাওয়াত বা পাঠ রহিত (মানসুখ) হয়ে যায়] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও রজম এর বিধান দিয়েছেন। তাঁর তিরোধানের পর আমরাও রজম করেছি। আমার আশংকা হয় যে, দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার পর কেউ হয়ত বলবে, আমরা তো আল্লাহর কিতাবে ‘‘রজম’’-এর কথা পাই না। ফলে তারা আল্লাহর নাযিলকৃত ফরয ও অবশ্য করণীয় বিধান পরিত্যাগের কারণে গুমরাহ ও পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। সাবধান, কোন ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হলে তার উপর ‘রজম’’ শাস্তি প্রয়োগ করা হল প্রতিষ্ঠিত বিধান যদি সে বিবাহিত হয় এবং সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায় বা তার গর্ভসুস্পষ্ট হয়ে উঠে বা সে যদি অপরাত স্বীকার করে নেয়। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
হাদিস নম্বরঃ ১৪৩৯ | 1439 | ۱٤۳۹

১৪৩৯। নাসর ইবনু আলীপ্রমুখ (রহঃ)আবূ হুরায়রা, যায়দ ইবনু খালিদ ও শিবল রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, তাঁরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে ছিলেন। এমন সময় তাঁর নিকট দুইব্যক্তি বিবাদ করতে করতে এল। একজন তাঁর নিকট দাঁড়িয়ে বলল, এয়া রাসূলুল্লাহ, আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি আপআিমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব দিয়ে ফায়সালা করে দিবেন। তার চাইতে অধিকত বোধসম্পন্ন তার সঙ্গীটি বলল, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আপনি অবশ্যই আল্লাহর কিতাব অনুসারে আমাদের মাঝে ফায়সালা করে দিবেন। আর আমাকে কথা বলতে অনুমতি দিন। আমার ছেলে এই ব্যক্তির কাছে মজদুর হিসাবে ছিল। অনন্তর সে তার স্ত্রীর সাথে যিনা করে বসেছে। লোকেরা আমাকে অবহিত করল যে, আমার পুত্রের উপর ‘রজম’ প্রযোজ্য। ফলে আমি এর বদলে একশত বকরী ও একজন খাদিম ফিদয়া রূপে দিয়ে দেই। পরে আমাদের মত কিছু লোকের সঙ্গে আমার সাক্ষাত হয়। তারা মত দিলেন, আমার ছেলের উপর প্রযোজ্য হল এক শত কোড়া এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন দন্ড। আর রজম হল এই ব্যক্তির স্ত্রীর উপর। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, অবশ্যই তোমাদের মাঝে আমি আল্লাহর কিতাব অনুসারে ফায়সালা করে দিব। একশত ছাগল ও খাদিম তোমাদের নিকট প্রত্যাবৃত হবে। তোমার পুত্রের উপর শাস্তি হল, এক শত কোড়া ও এক বছরের জন্য নির্বাসন দন্ড। হে উনায়স, তুমি ভোরে এর স্ত্রীর কাছে যাবে। যদি সে তার অপরাধ স্বীকার করে তবে তাকে ‘রজম’ দন্ড দেবে। পরে তিনি ভোরে ঐ মহিলাটির কাছে গেলে সে অপরাধ স্বীকার করে। ফলে তিনি তাকে ‘রজম’করেন। ইসহাক ইবনু মূসা আল-আনসারী (রহঃ)আবূ হুরায়রা ও যায়দ ইবনু খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণিত আছে। কুতায়বা (রহঃ)ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে মালিক (রহঃ) সূত্রে অনুরূপ মর্মে (১৪৩৯ নং) হাদীস বর্ণিত আছে। এই বিষয়ে আবূ বাকর, উবাদা ইবনুস সামিত, আবূ হুরায়রা, আবূ সাঈদ, ইবনু আব্বাস, জাবির ইবনু সামুরা, হাযযাল, বুরায়দা, সালামা ইবনুল মুহাববাক, আবূ বারযা ও ইমরান ইবনু হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরায়রা ও যায়দ ইবনু খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। মালিক ইবনু আনাস, মা‘মার (রহঃ) প্রমুখ যুহরী থেকে উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ-আবূ হুরায়রা ও যায়দ ইবনু খালিত রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। উক্ত সনদে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বললেনঃ দাসী যদি যিনা করে তবে তাদেুররা মার। চতুর্থ বারও যদি সে যিনায় লিপ্ত হয় তবে একটি দড়ির বিনিময়ে হলেও তাকে বিক্রি করে দিবে। সুফইয়ান ইবনু উয়ায়না (রহঃ) অনুরূপ ভাবে এটিকে যুহরী সূত্রে উবায়দুল্লাহর মাধ্যমে আবূ হুরায়রা, যায়দ ইবনু খালিদ ও শিবল রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণনা করেন; তারা বললেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে ছিলাম। ইবনু উয়াইনা দুটি হাদীসকেই আবূ হুরায়রা, যায়দ ইবনু খালিদ ও শিবল রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইবনু উয়াইনা রাদিয়াল্লাহু আনহ-এর রিওয়ায়াতে ওয়াহম বা বিভ্রান্তি ঘটেছে। এ বিভ্রান্তি সয়ং সুফইয়ান ইবনু উয়ায়না (রহঃ) থেকে ঘটেছে। তিনি একটি রিওয়ায়াতকে আর একটি রিওয়ায়াতের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলেছেন। সহীহ হল যুবায়দী, ইউনুস ইবনু উবায়দ ও যুহরী ভ্রাতুষ্পুত্র-যুহরী সূত্রে উবায়দুল্লাহর মাধ্যমে আবূ হুরায়রা ও যায়দ ইবনু খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহ এর সনদে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি দাসী যিনা করে(অপর সূত্র) এবং যুহরী-উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি শিবল ইবনু খালিদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মালিক আওসী রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যদি দাসী জিনা করে। হাদীস বিশারদগণের মতে এটি সহীহ। শিবল ইবনু খালিদ (রহঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাক্ষাত পান নাই। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মালিক আওসী রাদিয়াল্লাহু আনহ-এর বরাতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। এটি সহীহ। ইবনু উয়অয়নার রিওয়াযয়াতটি ‘মাহফুজ’ নয়। তার থেকে এও বর্ণিত আছে যে, তিনি নামোল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেন শিবল ইবনু হামিদ, অথচ তা হল ভুল। আসলে তিনি শিবল ইবনু খালিদ এবং তাকে শিবল ইবনু খুলায়দও বলা হয়।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
হাদিস নম্বরঃ ১৪৪০ | 1440 | ۱٤٤۰

১৪৪০। কুতায়বা (রহঃ) উবাদা ইবনু সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার নিকট থেকে এ বিধান গ্রহণ কর; আল্লাহ তা‘আলা এদের (ব্যভিচারীদের) জন্য একটি পথ বাতলে দিয়েছেন। বিবাহিত ব্যক্তি যদি বিবাহিতার সাথে তা করে তবে দন্ড হল একশ বেত্রাঘাত, এরপর প্রস্তরাঘাতে হত্যা আর অবিবাহিত ব্যক্তি যদি অবিবাহিত ব্যক্তির সাথে তা করে তবে একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলী ইবনু আবূ তালিব, উবায় ইবনু কা‘ব, আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহ সহ সাহাবীদের মধ্যে কতক আলিমের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। তাঁরা বললেন, বিবাহিতদেরকে দুররা মারা হবে এবং রজমও করা হবে। এ-ই কতক আলিমের মাযহাব। আর ইমাম ইসহাক (রহঃ)-ও-এরও অভিমত। আবূ বাকর, উমার প্রমুখ রাদিয়াল্লাহু আনহ সহ সাহাবীদের মধ্যে কতক আলিমের অভিমত হল অবিবাহিতদের কেবল রজম করা হবে, দুররা মারা হবে না। মাইয ও অন্যান্যদের ঘটনার প্রসঙ্গে একাধিক রিওয়ায়অতেও নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে যে, তিনি ‘রজম’-এর নির্দেশ দিয়েছেন। রজম-এর পূর্বে দুররা মারার নির্দেশ দেননি। কতক আলিমের এতদনুসারে আমল রয়েছে। এ হল ইমাম সুফইয়অন ছাওরী, ইবনু মুবারক, শাফিঈ ও আহমাদ (রহঃ)-এর অভিমত।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
হাদিস নম্বরঃ ১৪৪১ | 1441 | ۱٤٤۱

১৪৪১। হাসান ইবনু আলী (রহঃ) ইমরান ইবনু হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, জুহায়না কবীলার জনৈক মহিলা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট যিনার কথা স্বীকার করল এবং বলল, আমি গর্ভবতী। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ মেয়েটির অভিভাবককে ডাকলেন এবং তাকে বললেন, তার সাথে ভাল ব্যবহার করবে এবং সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর আমাকে তা অবহিত করবে। সে তাই করল, তখন তিনি মেয়েটির কাপড়-চোপড় ভাল করে শরীরে বাধতে বললেন এবং ‘রজম’-এর নির্দেশ দিলেন। তখন তাকে রজম করা হল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালাতুল জানাযা আদায় করলেন। তখন উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহ তাঁকে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে রজম করলেন আবার তার সালাতুল জানাযাও আদায় করলেন? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই মেয়েটি এমন তওবা করেছে যে, মদ্বীনার সত্তর জনের মাঝেও যদি তা বণ্টন করে দেওয়া হয় তবু তা তাদের জন্য যথেষ্ট হবে। আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিজের জান দিয়ে দিল, এর চেয়েও উত্তম কিছু তুমি পেয়েছ? ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
হাদিস নম্বরঃ ১৪৪২ | 1442 | ۱٤٤۲

১৪৪২। ইসহাক ইবনু মূসা আনসারী (রহঃ) ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ইয়াহূদী পুরুষ ও স্ত্রী লোকের উপর ‘রজম’ কায়েম করেন। হাদীসটিতে ঘটনার আরো বিবরণ রয়েছে। এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
হাদিস নম্বরঃ ১৪৪৩ | 1443 | ۱٤٤۳

১৪৪৩। হান্নাদ (রহঃ) জাবির ইবনু সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহূদী পুরুষ ও ইয়াহূদী স্ত্রী লোককে রজম দন্ড দিয়েছেন। আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির ইবনু সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহ-এর রিওয়ায়াতের মধ্যে এই হাদীসটি হাসান-গারীব। অধিকাংশ আলিমের এতদনুসারে আমল রয়েছে। তারা বললেন, কিতাবীরা যদি তাদের বিবাদ মুসলিম বিচারকদেরনিকট উত্থাপন করে তবে বিচারকগণ কুরআন সুন্নাহ ও মুসলিমদের বিধান অনুসারেই তাদেরও ফায়সালা দিবেন। এ হল ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) -এর অভিমত। কতক আলিম প্রমুখ অভিমতটি অধিকতর সহীহ।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
হাদিস নম্বরঃ ১৪৪৪ | 1444 | ۱٤٤٤

১৪৪৪। আবূ কুরায়ব ও ইয়াহইয়া ইবনু আকছাম (রহঃ) ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুররাঘাত ও নির্বাসন দন্ড দিয়েছেন; আবূ বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহও দুররাঘাত ও নির্বাসন দন্ড দিয়েছেন ; উমার রাদিয়াল্লাহু আনহও দুররাঘাত ও নির্বাসন দন্ড দিয়েছেন। এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, যায়দ ইবনু খালিদ, উবাদা ইবনু সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদীসটি গারীব। একাধিক রাবী এটিকে আবদুল্লাহ ইবনু ইদরীস (রহঃ) -সূত্রে মারফু‘ রূপে বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ এই হাদীসটিকে আবদুল্লাহ ইবনু ইদরীস-উবায়দুল্লাহ-নাফি‘-ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আবূ বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহ দুররাঘাত ও নির্বাসন দন্ড দিয়েছেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ দুররাঘাত ও নির্বাসন দন্ড দিয়েচেন। আবূ সাঈদ আশাজ্জ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু ইদরীস (রহঃ) সূত্রে তা রিওয়ায়াত করেছেন। ইবনু ইদরীস (রহঃ) -এর বরাত ছাড়াও উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে এই হাদীসটি বর্ণিত আছে্ মুহাম্মদ ইবনু উসহাক (রহঃ) ও নাফি‘-ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে এইরূপ বর্ণনা করেছেন যে, আবূ বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহ দুররাঘাত ও নির্বাসন দন্ড দিয়েছেন, উমার রাদিয়াল্লাহু আনহও দুররাঘত ও নির্বাসন দন্ড প্রদানকরেছেন। এই সনদে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উল্লেখ নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও নির্বাসন দন্ড দানের সহীহ রিওয়ায়াত বিদ্যমান। আবূ হুরায়রা, যায়দ ইবনু খালিদ ও উবাদা ইবনুস সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহ প্রমুখ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উক্ত মর্মে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ বাকর, উমার, আলী, উবাই ইবনু কা‘ব, আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ, আবূ যার প্রমুখ সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহ-এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। একাধিক তাবিঈ ফকীহ থেকে তদ্রুপ অভিমত বর্ণিত আছে। এ হল সুফইয়ান ছাওরী, মালিক ইবনু আনাস, আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) -এর অভিমত।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
হাদিস নম্বরঃ ১৪৪৫ | 1445 | ۱٤٤۵

১৪৪৫। কুতায়বা (রহঃ) উবাদা ইবনু সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে ছিলাম। তিনি বললেন, তোমরা আমার কাছে এই বিষয়ে বায়য়াত কর যে, আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক করবে না। চুরি করবে না। ব্যভিচার করবে না। তিনি সম্পূর্ণ আয়াতটি [সূরা মুমতাহিনা ৬০: ১২] তিলাওয়াত করেন। তোমাদের মধ্যে যে এই বায়আত পূরণ করবে তার প্রতিদান আল্লাহর যিম্মায়। আর কেউ যদি এইগুলির কোন কিছুতে লিপ্ত হয়ে পড়ে আর এ জন্য তাকে শাস্তি দেওয়া হয় তবে তা হবে তার জন্য কাফফারা স্বরূপ। আর কেউ যদি এগুলির কোন একটিতে লিপ্ত হয় আর আল্লাহ তার এ অপরাধ ঢেকে রাখেন তবে তা আল্লাহর উপর ন্যাস্ত। ইচ্ছা করলে তিনি আযাব দিবেন আর ইচ্ছা করলে তিনি মাফ করে দিবেন। এই বিষয়ে আলী, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ ও খুযায়মা ইবনু চাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আচে। উবাদা ইবনুস ছামিত রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন, ‘হদ প্রয়োগ অপলাধীর জন্য কাফফারা স্বরূপ’ এতদবিষয়ে এই হাদীসটি অপেক্ষা উত্তম কোন কিছু আমি শুনিনি। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন, কেউ যদি কোন গোনাহে লিপ্ত হয়ে পড়ে আর আল্লাহ তা‘আলা তা গোপন রাখেন তবে তার জন্য নিজেও তা গোপন রাখা এবং প্রভুর কাছে তওবা করতে থাকাই আমার নিকট অধিক পচন্দনীয়। আবূ বাকর ও উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে এইরূপ বর্ণিত আছে যে, তারা এক ব্যক্তিকে নিজের অপরাধ গোপন রাখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
হাদিস নম্বরঃ ১৪৪৬ | 1446 | ۱٤٤٦

১৪৪৬। আবূ সাঈদ আশাজ্জ (রহঃ) আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কারো দাসী যদি যিনা করে তবোল্লাহর কিতাব অনুসারে তাকে তিনবার (পর্যন্ত) দুররা মারবে। এরপরও যদি সে এতে পুনরায় লিপ্ত হয় তবে চুলের একটি দড়ির বিনিময়ে হলেও তাকে বিক্রি করে দিবে। এই বিষয়ে আলী, আবূ হুরায়রা, যায়দ ইবনু খালিদ এবং শিবল-আবদুল্লাহ ইবনু মালিক আওসী রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। একাধিক সূত্রে এটি তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিমের এতদনুসারে আমল রয়েছে। তাঁদের মত হল যে, শাসক নয় বরং মালিকই তার দাস-দাসীর উপর হদ প্রয়োগ করবে। এ হল আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) -এর অভিমত। [ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ) সহ} কতক আলিম বলেন, শাসন কর্তৃপক্ষের নিকট তা পেশ করতে হবে। কেউ নিজে হদ কায়েম করতে পারবে না। প্রথমোক্ত অভিমতটি অধিকতর সহীহ।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৭/ দন্ডবিধি
হাদিস নম্বরঃ ১৪৪৭ | 1447 | ۱٤٤۷

১৪৪৭। হাসান ইব্নালী খাললাল (রহঃ) আবূ আবদুর রহমান সুলামী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহ এক ভাষণে বলেছিলেন, হে লোক সকল, তোমরা তোমাদের বিবাহিত ও অবিবাহিত দাস-দাসীদের উপর হদ প্রয়োগ করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর একটি দাসী যিনা করে বসে। তখন তিনি তাকে দুররা মারতোমাকে নির্দেশ দেন। আমি তার কাছে এসে দেখি যে, নব প্রসূতি। সুতরাং আমার আশংকা হল যে, যদি তাকে দুররা মারি তবে হয়ত তাকে হত্যা করে ফেলব। অথবা বলেছেন যে, সে মারা যাবে। অনন্তর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে তা উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, তুমি ভাল করেছ। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী সুদ্দীর নাম হল উসমাঈল ইবনু আবদুর রাহমান। তিনি একজন তাবিঈ্ আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে তিনি হাদীস শুনেছেন।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [11]  থেকে  [20]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [42]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।