• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [197] টি | অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ | দেখানো হচ্ছে   [11]  থেকে  [20]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৪ | 4 | ٤

৪। হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে . আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, ঐ সময় আরা মদিনায় ছিলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিবসে আমলসমূহ (আল্লাহর নিকটে) হাযির হবে। তখন সালাত এসে বলবে, ইয়া রব, আমি হচ্ছি সালাত। আল্লাহ বলবেন, নিশ্চয় তুমি কল্যাণে অধিষ্ঠিত। অতঃপর আসবে সা’দকা এবং বলবে, হে আমার প্রভু আমি হচ্ছি সা’দ্কা। আল্লাহ বলবেন, হ্যাঁ, নিশ্চয় তুমি কল্যাণে অধিষ্ঠিত। এরপর আসবে সিয়াম এবং বলবে, প্রভু আমি হচ্ছি সিয়াম। আল্লাহপাক বলবেন, নিশ্চয় তুমি কল্যাণের উপর অধিষ্ঠিত। এরপর অন্যান্য আমলসমূহ উপস্থিত হবে এবং আল্লাহ মহমহিম বলবেন, নিশ্চয় তুমি কল্যাণে অধিষ্ঠিত। এরপর আসবে ইসলাম এবং আরয করবে, প্রভু হে, আপনি হলেন সালাম এবং আমি হলাম ইসলাম। আল্লাহ মহামহিম বললেন, নিশ্চয় তুমি কল্যাণে অধিষ্ঠিত। আজকের দিনে আমি তোমার মাধ্যমে (মানুষকে) পাকড়াও করবো এবং তোমার কারনেই পুরস্কার প্রদান করবো। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা তাঁর কিতাবে বলেছেন ঃ ”আর যে কেউ ইসলাম ভিন্ন অন্য মতবাদকে দ্বীন হিসেবে অন্বেষণ করবে তার কাছ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্থদের দলভুক্ত হবে।” ইবনু কাছীর তাঁর তাফসীরে বলেছেন, এ হাদীসটি একমাত্র ইমাম আহমদই বর্ণনা করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু ইমাম আহমদ বলেছেন, হাসান আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে কোন হাদীস শুনেন নি; কাজেই হাদীসটি গ্রহণযোগ্য নয়।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ৪ | 4 | ٤

৪। আবূদ্ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা আদম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে যখন সৃষ্টি করলেন তখন তাঁর (আদমের) ডান কাঁধে মৃদু আঘাত করলেন এবং তাঁর একদল শুভ্র বংশধরকে বের করে আনলেন-তাঁরা যেন পিপীলিকা সদৃশ (উজ্জ্বল) আবার আল্লাহ তাঁর (আদমের) বাম কাঁধে মৃদু আঘাত করলেন এবং একদল কাল বর্ণের বংশধর বের করে আনলেন তারা যেন কয়লা সদৃশ। অতঃপর আল্লাহ ডান দিকের বংশধরদের উদ্দেশ্যে বললেন, এরা জান্নাতী এবং আমি তাতে বেপরোয়া! আর বাম কাঁধের বংশধরদের উদ্দেশ্যে বললেন, এরা দোযখী এবং আমার তাতে কিছু যায় আসে না। (তাবারানী, ইবনুু্ আসাকির, আহমদ হাইছুমী ও তানকীহ গ্রন্থের লেখক আহমদের বর্ণনাকারীগণকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ৫ | 5 | ۵

৫। আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা মু’অয বিন জবাল (রাঃ) -এর নিকট উপস্থিত হয়ে আরয করলাম, আপনি আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরল হাদীসসমূহ থেকে কিছু বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, ফিক আছে। (একদা) আমি রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গর্দভের উপর তাঁর পেছনে উপবিষ্ট ছিলাম। এমতাবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে মু’আয, আমি বললাম, লাব্বাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ (আমি হযির, ইয়া রাসূলাল্লাহ)। তিনি বলেন, তুমি কি জান কি বান্দার উপর আল্লাহর হক বা অধিকার কী? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সর্বোত্তম জ্ঞাত। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (উপরোক্ত হাদীসের) অনুরূপ বর্ণনা করেন, তবে পার্থক্য শুধু এতটুকু যে (তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেনন) - এর পরিবর্তে (তাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন না) বলেছেন। অন্য এক বর্ণনায় ভিন্ন সূত্রে অতিরিক্ত এতটুকু বর্ণিত আছে যে, মু’আয বলেন (এতদ শ্রবণে) আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি কি লেকদেরকে এ সুসংবাদ প্রদান করবো না? তিনি (উত্তরে) বলেন, ছেড়ে দাও, (প্রয়োজন নেই) তারা (অধিক পরিমাণে) আমল করতে থাকুক। [বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৫ | 5 | ۵

৫। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদা) আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকটে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় আমাদের মাঝে উদয় হলেন এক ভদ্রলোক তাঁর পোশাক পরিচ্ছেদ ধবধবে সাদা, তাঁর কেশরাজি গাঢ় কাল, তাঁর মধ্যে সফরের কোন আলামত দৃষ্ট হচ্ছিল না (অন্য বর্ণনায় আমরা দেখতে পাইনি-সফরের চিহ্ন) এবং আমাদের মধ্যে কেউ তাঁকে চিনতেও পারছে না। (যাহোক) তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তাঁর হাটুদ্বয় গেড়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাটুদ্বয়ের কাছাকাছি বসলেন এবং তাঁর দুহাত রাখলেন তাঁর রানের উপর (অর্থাৎ সালাতের সময় মুসুল্লী যেমন বসে) অতঃপর জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া মুহাম্মদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বর্ণনা দিন, ইসলাম কী? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলাম হচ্ছে- তুমি সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ ব্যতিত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমযানের সিয়াম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে, আর যদি তোমার সামর্থ হয় বায়তুল্লাহর হজ্জ পালন করবে। আগন্তুক বললেন, সত্য বলেছেন। আমরা আশ্চর্যান্বিত হলাম তাঁর কথায়; তিনি নিজেই প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই তার সত্যয়ন করছেন! এরপর বললেন আমাকে ঈমান সম্পর্কে বর্ণনা দিন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঈমান হচ্ছে- তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর উপর, তাঁর ফিরিস্তাগণে, তাঁর কিতাবসমূহে, তাঁর রাসূলগণে, শেষ দিবসে এবং তাকদীরের ভাল - মন্দে। আগন্তুক বললেন, ঠিক বলেছেন, এরপর আগন্তুক বললেন, আমাকে ইহসান সম্পর্কে খবর দিন, ”ইহসান” কী? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ইহসান হচ্ছে- তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এমন অনুভূতি নিয়ে যেন তুমি তাকে দেখতে পাচ্ছ। (কারণ) তুমি তাঁকে দেখতে না পেলেও তিনি তো তোমাকে দেখছেন। এবার আগন্তুক বললেন, আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে কিছু বলুন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন , এবিষয়ে যাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক কিছু জানেন না। আগন্তুক বললেন, (ঠিক আছে) আপনি (তাহলে) কিয়ামতের কিছু আলামত সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন - (এর আলামত হচ্ছে) ক্রীতদাসী (বাঁদী) তার প্রভূকে প্রসব করবে এবং তুমি দেখতে পাবে খালি মাথা ও খালি পায়ে ছাগলের পালের রাখালরা (অর্থাৎ অশিক্ষিত মূর্খ, অর্বাচীন ও নীচু স্তরের লোকজন) বিশালকায় প্রাসা’দর অধিপতি হয়ে বসবে। অতঃপর আগন্তুক চলে গেলেন এবং আল্লাহর রাসূল বেশ কিছু সময় (অন্য বর্ণনায় এসেছে তিন রাত্রি নীরবে) আমাকে বললেন) অতিবাহিত করলেন। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, উমর তুমি কী জান এই প্রশ্নকর্তা কে? বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সর্বোত্তম জ্ঞাত। তিনি বললেন, ইনি হচ্ছেন জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তিনি এসেছিলেন তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে। (মুসলিম, বায়হাকী ও অন্যান্য)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ৫ | 5 | ۵

৫। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় কোন লোক (এমন দেখা যায় যে,) দীর্ঘ কালব্যাপী জান্নাতবাসীগণের ন্যায় আমল করতে থাকবে, কিন্তু আল্লাহ তার পরিসমাপ্তি ঘটাবেন দোযখবাসীদের আমলের মাধ্যমে এবং তাকে দোযখবাসী করে দিবেন এবং নিশ্চয় কোন লোক দীর্ঘকালব্যাপী দোযখবাসীদের আমলের ন্যায় আমল করবে, কিন্তু আল্লাহ তাঁর আমলের পরিসমাপ্তি ঘটাবেন জান্নাতবাসীগণের আমল দ্বারা। (পরিশেষে) তাকে জান্নাতীগণের অন্তর্ভুক্ত করে দেবেন। (মুসলিম ও অন্যান্য)



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ৬ | 6 | ٦

৬। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল বলেন, হে আবূ হুরায়রা, তুমি কি জান আল্লাহর উপর মানুষের এবং মানুষের উপর আল্লাহর অধিকার কী? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বোত্তম জ্ঞাত। তিনি বলেন, মানুষের উপর আল্লাহর অধিকার হচ্ছে যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করবে না। যদি তারা তা (সঠিকভাবে) সম্পন্ন করে, তবে তাদেরকে শাস্তি প্রদান না করা আল্লাহর করণীয় হয়ে দাঁড়ায় (অর্থাৎ আল্লাহ দয়াপরবশ হয়ে তাদেরকে অবশ্যম্ভাবীরূপে শাস্তি থেকে মুক্তি প্রদান করেন)। [এ হাদীসটি অন্য কোন গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে আমাদের জানা নেই। তবে অনুরূপ একটি হাদীস বুখারীতে . মু’আয (রাঃ) থেকে চয়ন করেছেন।]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৬ | 6 | ٦

৬। আবূ ’আমির আল - আশ্আরী (রাঃ) ও নাবী করীম (স) থেকে পূর্বানুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এখানে (শেষাংশে) বলা হয়েছে, ”অতঃপর প্রশ্নকারী চলে যান এবং আমরা যখন তাঁকে তাঁর রাস্তায় আর দেখতে পাইনি (অদৃশ্য হয়েছেন), তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সুবহানাল্লাহ তিনবার উচ্চারণ করে বললেন, ইনি জিবরাঈল, তিনি এসেছিলেন মানুষকে তাদের দ্বীন শিক্ষা দেয়ার জন্য। যাঁর হাতে আমার আত্মা তার নামে শপথ যখনই তিনি আমার কাছে এসেছেন তখনই (সাথে সাথে) আমি তাকে চিনতে পেরেছি তবে এবার (প্রথমে চিনতে পারি নি।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ৬ | 6 | ٦

৬। আনাস ইবনুু্ মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শেষ পরিণতি কী হয় তা না দেখে কারো সম্পর্কে তোমাদের পুলকিত কিংবা অবাক হওয়া উচিত নয়। কেননা, (এটা সত্য যে,) কোন আমলকারী তার জীবনের সুদীর্ঘকাল অথবা তার সময়কালের বিরাট অংশ নেক আমল করে কাটিয়ে দেয়। এমতাবস্থায় তার মৃত্যু হলে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারতো। কিন্তু (পরবর্তীতে) সে উল্টে যায় এবং বদ আমল করতে থাকে। (অবশেষে তার পরিণতি হয় দোযখ), অপরদিকে (দেখা যায় যে,) আল্লাহর কোন বান্দা তার সময়কালের বিরাট অংশ বদ আমল করলো, যদি ঐ সময়ে তার মৃত্যু হতো, তবে সে দোযখে প্রবেশ করতো। (কিন্তু না) পরে সে প্রত্যাবর্তন করে এবং নেক আমল করতে থাকে এবং যখন আল্লাহ তা’আলা কোন বান্দার জন্য কল্যান চান তখন সেই বান্দাকে মৃত্যুর পূর্বে কল্যানে নিয়োজিত করবেন? সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! কিভাবে তাকে কল্যাণে নিয়োজিত করবেন? উত্তরে তিনি বললেন, তাকে সৎ কর্মের তওফিক দান করবেন। অতঃপর তার মৃত্যু ঘটান। (তিরমিযী, এই হাদীসটিকে সহীহ্ বলেছেন। হাদীসটি আবূ ইয়ালা সাঈদ ইবনুু্ মানসূর, আব্দ ইবনুু্ হুমাইদ প্রমুখও বর্ণনা করেছেন।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ৭ | 7 | ۷

৭। রিবয়ী ইবনু হিরাশ থেকে বর্ণিত তিনি তুফাইল (রাঃ), যিনি . ’আয়িশা (রাঃ) - এর বৈমাত্রীয় ভাই থেকে বর্ণনা করেন, তিনি একদা, নিদ্রিতাবস্থায় যেভাবে স্বপ্ন দেখে সে রকম দেখেন যে, তিনি ইয়াহুদীদের একটি দলের পাশ দিয়ে যচ্ছেন। তখন তিনি জিজ্ঞেস করেন, তোমাদের পরিচয় কী? তারা বললো, আমরা ইয়াহুদী। তিনি বলেন, তোমরা (ভাল) সম্প্রদায় যদি না তোমরা বিশ্বাস করতে . উযাইর (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর পুত্র। তখন তারা বললো, তোমরাও (ভাল) সম্প্রদায় - যদি না তোমরা বলতে অর্থাৎ যা কিছু আল্লাহচান এবং যা মহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চান তা-ই হয়। অতঃপর তিনি নাসারাদের একটি দলের পাশ দিয়ে গমন করেন এবং জিজ্ঞেস করেন তোমাদের পরিচয় কী? তারা বললো, আমরা নাসারা, তখন তিনি বলেন তোমরা নিঃসন্দেহে (একটি ভাল) সম্প্রদায় - যদি না তোমরা বলতে ’মাসীহ’ ও ঈসা আল্লাহর পুত্র। প্রতুত্তরে তারা বললো তোমরাও (ভাল) সম্প্রদায় যদি না তোমরা বলতে ”আল্লাহ যা চান এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা চান তা-ই হয়। রাত্রি ভোর হলে তিনি তুফাইল) দ’চার জনকে এ বিষয়ে অবহিত করেন এবং অবশেষে রাসূলুল্লাহ (রাঃ)- এর নিকটে উপস্থিত হয়ে তাঁর স্বপ্নের বৃত্তান্ত বর্ণনা করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করেন, তুমি এ বিষয়ে অন্য কাউকে কি অবহিত করেছ? তিনি বলেন, হ্যাঁ। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত (ফজর) আদায় করেন, তখন উপস্থিত সবাইকে সম্বোধন করেন, আল্লাহর উদ্দেশ্যে প্রসংসা প্রতি (হাম্দ ও ছানা পাঠ) করেন এবং বলেন, তুফাইল একটি স্বপ্ন দেখেছে এবং তোমাদের মধ্যে কারো কারো কাছে বর্ণনাও করেছে। নিশ্চয় তোমরা এমন একটি কালেমা বা বাক্য উচ্চারণ করে থাক (যা বলা সমীচীন নয়), যা থেকে আমি লজ্জার কারণে তোমাদেরকে বিত থাকতে বলতে পারিনি। (এবার আমি তোমাদেরকে বলছি) তোমরা (আর কখনো) ”যালাল্লাহ চান এবং যা মহাম্মদ চান তা-ই হয়” বলবে না। [আবূ ইয়া’লা, বলেছনঃ এ হাদীসের সনদ উত্তম]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৭ | 7 | ۷

৭। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন এক মজলিসে বসে ছিলেন, এমন সময় জিব্রাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আগমন করলেন এবং রাসূলের সম্মুখে তাঁর দুই হাত রাসূলের (স) রানের উপর রেখে আসীন হলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে কিছু বলুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইসলাম হচ্ছে তুমি তোমার মুখমন্ডলকে আল্লাহর কাছে নতকরবে (আত্মসমর্পন করবে) এবং সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং তাঁর কোন অংশীদার নেই, আর মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। জিব্রাঈল বললেন, যদি আমি এরূপ করি তবে কি আমি মুসলিম? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ তুমি যদি ঐরূপ কর, তবে তুমি ইসলাম (গ্রহণ) করলে, তারপর বললেন , ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমাকে বলুন, ঈমান কী নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বললেন ঈমান হচ্ছে তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহতে, শেষ দিবসে, ফিরিস্তা ও কিতাবে, নাবীগণে এবং আরও বিশ্বাস করবে মৃত্যুতে এবং মৃত্যুর পরের জীবনে বিশ্বাস করবে, জান্নাতে ও দোযখে, হিসাব-নিকাশে, মীযানে; বিশ্বাসে করবে তাকদীরের যাবতীয় ভাল ও মন্দ বিষয়ে। জিব্রাঈল বললেন, যখন আমি তা করবো, তখন কি আমি ঈমানদার হবো? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হ্যাঁ, যখন তুমি ঐরূপ করবে তখন তুমি মুমিন (হয়ে যাবে)। বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইহসান সম্পর্কে আমাকে বলুন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইহসান হচ্ছে- তুমি আল্লাহর জন্য আমল করবে এইভাবে যে,তুমি যেন তাঁকে দেখতে পাচ্ছ, কারণ তুমি যদিও তাঁকে দেখতে পাচ্ছ না কিন্তু তিনি তো তোমাকে দেখছেন! জিব্রাঈল বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে বলুন, তা কখন সংঘটিত হবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন পাঁচটি বিষয় (কিয়ামতসহ) রয়েছে (অদৃশ্যে) যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকট আচে, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনি জানেন যা জরায়ূতে আছে। কেউ জানে না আগামীকাল সে কি অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোনস্থানে তার মৃত্যু ঘটবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে অবহিত। তবে হ্যাঁ, তুমি যদি চাও, আমি কিয়ামতের কিছু আলামতের কথা বলতে পারি। তিনি বললেন, ঠিক আছে, তাই বলুন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যখন তুমি দেখতে পাবে ক্রীতদাসী (বাঁদী) তার প্রভুকে (ছেলে বা মেয়ে) প্রসব করবে (অর্থাৎ বাঁদীর গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী সন্তান উত্তরাধিকারী সূত্রে ঐ বাঁদীর মালিক হবে এবং তাকে আযাদ না করে তার সাথে দাসীসূলভ আচরণ করবে) এবং মেষ অথবা ছাগপালকদেরকে দেখতে পাবে তারা বড় বড় প্রাসা’দর অধিপতি হয়ে বসেছে; আরও দেখতে পাবে খালি পা খালি মাথা ক্ষুধার্থ লোকেরা মানুষের নেতা হয়ে বসেছে। এগুলোই হচ্ছে কিয়ামতের আলামত বা লক্ষণ। জিব্রাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ছাগপালক, ভূখা,-নাঙ্গা, ঐসব কারা? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বেদুঈন সম্প্রদায়।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [11]  থেকে  [20]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [197]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।