• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [109] টি | অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ | দেখানো হচ্ছে   [11]  থেকে  [20]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ১১ | 11 | ۱۱

১১। তালহা বিন ‘উবাঈদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা এক বেদুঈন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমীপে উপস্থিত হয়ে বললো, ইয়া রাসুলুল্লাহ! ইসলাম কি? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দিবা-রাত্রিতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। সে বললো, এ ছাড়া আমার উপর আরও কিছু সালাত আছে কি? তিনি বললেন, না। সে সিয়াম সম্পর্কেও প্রশ্ন করলো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রমযানের সিয়াম। সে বললো, এ ছাড়া আমার উপর আরও কিছু সিয়াম আছে কি? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না। সে যাকাত প্রসঙ্গেও জানতে চাইলো এবং বললো, যাকাত ছাড়া আমার উপর আরও কিছু কর্তব্য আছে কি? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না। সে বললো, আল্লাহর শপথ, আমি এর উপর কিছু অতিরিক্ত করবো না এবং এর থেকে কিছু কমও করবো না। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, লোকটি যদি সত্যি বলে থাকে, তবে সে নিশ্চিত মুক্তি লাভ করেছে। (বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ ও অন্যান্য)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ১২ | 12 | ۱۲

১২। মু‘আবিয়া বিন হায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আল্লাহর শপথ, আমি আপনার নিকট আসার পূর্বে এর (দশবারের) অধিক শপথ পাঠ করেছি যে, আপনার নিকট আসবো না এবং আপনার দ্বীনও গ্রহন করবো না, এ সময় বাহায (একজন রাবী) তাঁর হাত দুটি একত্রিত করেন। অন্য বর্ণনায় আমরা এই অঙ্গুলি সমান সংখ্যকবার শপথ করেছি যে, আপনার কাছে আসবো না এবং আপনার দ্বীনও গ্রহন করবো না। আমি প্রায়শ এমনসব লোকের সাক্ষাৎ পাই (যাঁদের কাছ থেকে দ্বীন সম্পর্কে) কিছুই বুঝতে পারি না, তবে হ্যাঁ, যা আমাকে আল্লাহ ও রাসুল শিক্ষা দিয়েছেন (তা ব্যতিত)। আমি আল্লাহর ওয়াস্তে আপনাকে প্রশ্ন করছি, আমাদের প্রভু আপনাকে আমাদের কাছে কি দিয়ে প্রেরণ করেছেন? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইসলাম দিয়ে। মু‘আবিয়া বললেন, ইসলামের চিহ্ন কি ইয়া রাসুলুল্লাহ (অন্য বর্ণনায়, ইসলাম কি?)? তিনি বললেন, তা হচ্ছে এই যে, তুমি বলবে, আমি আমার মুখমন্ডল (নিজ সত্তা) সমর্পণ করলাম (আল্লাহর নিকট) এবং যাবতীয় শিরক থেকে নিজেকে মুক্ত করলাম এবং সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং (জেনে রেখ) প্রতিটি মুসলিমের জন্য অপর মুসলিমের জীবন (হরণ) হারাম। তারা পরস্পর সহযোগী, ভাই। ইসলাম গ্রহণ করার পর কেউ মুশরিকসুলভ শিরক করলে আল্লাহ তার কোন নেক আমল গ্রহণ করেন না যতক্ষন না সে তওবা করে মুসলিমের দলে ফিরে আসে এবং মুশরিকদের মধ্যে ভাঙ্গন ধরায়। তোমাদের এ কী অবস্থা যে, যে আমি তোমাদেরকে তোমাদের কোমরের রশিতে ধরে অগ্নি থেকে ফিরিয়ে রাখার চেষ্টা করছি, আর তোমরা ফসকে (নরকে) পতিত হচ্ছ? মনে রেখ, আমার প্রভু আমাকে আহ্বান জানিয়ে জিজ্ঞেস করেছেন, তুমি কি আমার বান্দাদের কাছে (আমার বার্তা) পৌঁছে দিয়েছো? আর আমি উত্তরে বলেছি, ইয়া রব, নিশ্চিত আমি তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। সাবধান, তোমাদের মধ্যে উপস্থিতজন যেন অনুপস্থিতকে (আমার বার্তা) পৌঁছে দেয়। এরপর তোমাদেরকেও (আল্লাহর পক্ষ থেকে) ডাক দেওয়া হবে (জওয়াবদিহির জন্য) এবং (সেই দিন) তোমাদের মুখে (জিহ্বায়) ছাঁকনি (আঁটি) লাগিয়ে দেওয়া হবে এবং তোমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করবে এবং সর্বপ্রথম অঙ্গ সাক্ষ দিবে তা হচ্ছে, একথা বলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে তাঁর রানের উপর মৃদু আঘাত করেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, নিশ্চয়ই সর্বপ্রথম যে অঙ্গ তোমাদের সম্বন্ধে সাক্ষ্য দেবে তা হচ্ছে তোমাদের উরু এবং হাতের তালু। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! এই কি তবে আমাদের দ্বীন? তিনি বললেন, এই তোমাদের দ্বীন, তোমরা এর যত সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে তা-ই কাজে আসবে। (হাকিম ও নাসাঈ)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ১৩ | 13 | ۱۳

১৩। আবূ রাযীন আল ‘উকাবলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে আরয করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ, ঈমান কি? তিনি বললেন, তুমি সাক্ষ্য দেবে যে, একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তাঁর কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার নিকট অন্য সকলের চেয়ে প্রিয়তম হবে এবং আল্লাহর সাথে শরীক করার চেয়ে তুমি অগ্নিতে দগ্ধ হওয়াকে অধিক পছন্দ করবে আর তুমি অনাতœীয় কাউকে ভালবাসবে কেবল আল্লাহর (ভালবাসার) জন্য। যখন তুমি ঐরূপ হতে পারবে, তখন (বুঝতে হবে যে), ঈমান-প্রীতি তোমার অন্তরে স্থান করে নিয়েছে, ঠিক যেমন অত্যাধিক গরমের দিনে তৃষ্ণার্তের মনে পানির প্রীতি স্থান করে নেয়। আমি বললাম, আমি কিভাবে জানতে পারবো যে, আমি মু‘মিন, ইয়া রাসুলুল্লাহ? তিনি বললেন, আমার উম্মতের যে কেউ অথবা এই উম্মতের যে কোন বান্দা ভাল কর্মকে ভাল জ্ঞান করে আমল করবে এবং এ জন্য আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই তাকে উত্তম প্রতিদান দান করবেন। আর যখন কোন খারাপ কর্ম করে এবং বুঝতে পারে এটা খারাপ তখন এই বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করে যে, ক্ষমা করার মালিক একমাত্র তিনই, তখন (বুঝতে হবে) এই লোকটি নিশ্চিতই মু‘মিন।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ১৪ | 14 | ۱٤

১৪। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আবদুল কায়েস (রাঃ)-এর প্রতিনিধিদল যখন মদিনায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আগমন করে, তখন তিনি জিজ্ঞেস করেন, কোন গোত্রের প্রতিনিধি দল (অথবা কোন সম্প্রদায়ের)? তারা বললেন, রাবীয়া (গোত্রের)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রতিনিধি দলকে স্বাগতম অথবা বললেন, সম্প্রদায়কে যথাযোগ্য মর্যাদা ও সম্মান সহকারে স্বাগতম, তাঁরা যেন এতটুকু অপমানিত ও লজ্জিত না হয়। তাঁরা বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা অনেক দুরাঞ্চল থেকে আপনার নিকটে হাযির হয়েছি, আপনি এবং আমাদের মাঝে মুদার গোত্রের কাফিরদের বাধার প্রাচীর রয়েছে। তাই আমরা ‘শাহরে হারাম’ বা পবিত্র মাস ব্যতীত (অন্য কোন সময়) আপনার নিকট আসতে সক্ষম নই।

সুতরাং আপনি (মেহেরবানী পূর্বক) আমাদেরকে এমন কিছু বিষয়ের কথা বলুন যাতে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি এবং আমাদের পেছনে যারা আছেন তাঁদের কাছেও সেই সংবাদ পৌঁছে দিতে পারি। প্রসঙ্গত তারা পানিয় (ও পানিয় দ্রব্যের পাত্রাদি) সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে চারটি বিষয়ে আদেশ এবং চারটি বিষয়ে নিষেধ প্রদান করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ‘ঈমান বিল্লাহ’-এর নির্দেশ দান করেন এবং বলেন, তোমরা কি আল্লাহর প্রতি ঈমান এর তারপর্য জানো? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তদীয় রাসূল উত্তম জ্ঞাত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সাক্ষ্য দেয়া এই মর্মে যে, আল্লাহ ভিন্ন কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের সিয়াম পালন করা এবং তোমরা তোমাদের ‘গনীমত’ যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (অথবা প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পদ) থেকে এক পঞ্চমাংশ দান করবে (আল্লাহর রাস্তায়)। এবং আল্লাহর রাসূল তাদেরকে চারটি পানীয় পাত্রের ব্যবহার করতে নিষেধ করেন। পাত্রগুলো হচ্ছে, ‘দুব্বা’ (কদুর শুকনো খোলের তৈরী), ‘হান্তাম’ (সবুজ রং এর তৈলযুক্ত কলস), ‘মুযাফ্ফাত’ (নাক্বীর বৃক্ষের কান্ড থেকে তৈরী) ও ‘মুকায়্যার’ (ধুনা লাগানো পাত্র) (এ পাত্রগুলো তৎকালীন আরবে বিশেষ করে মদ তৈরী ও মদ পাত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ বিষয়গুলো যত্নসহকারে মনে রাখবে (পালন করবে) এবং এ বিষয়ে তোমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদেরকে জানিয়ে দিবে। (বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ১৫ | 15 | ۱۵

১৫। মুগীরা বিন আবদিল্লাহ আল-ইয়াশকুরী তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একদা আমি খচ্চর ক্রয় করার উদ্দেশ্যে কূফা গমন করি। বাজারে গিয়ে দেখলাম বাজার বসেনি। তখন আমি আমার একমাত্র সঙ্গীকে বললাম, চল, আমরা মসজিদে প্রবেশ করি। ঐ সময় মসজিদটি ছিল খেজুরের আড়ৎদারদের এলাকায় অবস্থিত।মসজিদে গিয়ে দেখলাম, কায়েস গোত্রের এক লোক তাঁর নাম ইবনুল মুস্তাফিক বললেন, আমাকে জনৈক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এরগুণ-বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। আমি (সেই সূত্র ধরে) তাঁকে মিনায় তালাশ করলাম। আমাকে বলা হলো যে, তিনি আরাফাতে আছেন। আমি সেখানে দ্রুত পৌঁছে গেলাম এবং তাঁকে ভিড়ের মধ্যে পেয়ে গেলাম। (আমি ভিড় ঠেলে তাঁর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করলাম) তখন আমাকে বলা হলো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাস্তা থেকে সরে দাঁড়াও। (কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার অবস্থা দেখতে পেয়ে) বললেন, একে আসতে দাও, বেচারা (ধ্বংস করেছে নিজেকে) সে কি চায়? তখন আমি ভিড় ঠেলে এগিয়ে গেলাম এবং তাঁর কাছে পৌঁছে গেলাম এবং আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাহনের লাগাম ধরলাম। অথবা বললেন, তাঁর উষ্ট্রের লাগাম ধরলাম। এভাবেই মুহাম্মদ বিন জুহাদা (হাদীসটি) বর্ণনা করেন, আমি বললাম, দু’টি বিষয়ে আমি আপনার নিকট প্রশ্ন করবো (এক) দোযখ থেকে কিসে আমার মুক্তি? এবং (দুই) আমি জান্নাতে প্রবেশ করবো কী করে? বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করেন, এরপর মাথা নোয়ান এবং আমার দিকে তার মুখমন্ডল ফিরিয়ে বলেন, তোমার জ্ঞাতব্য প্রশ্নটি সংক্ষিপ্ত বটে কিন্তু এর অন্তর্নিহিত বক্তব্য বিরাট ও বিস্তৃত। সুতরাং শোন (এবং বুঝতে চেষ্টা কর) তা হলঃ আল্লাহর এবাদত করবে, তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করবে না। ফরয সালাত কায়েম করবে, ফরয যাকাত আদায় করবে, রমযানের সিয়াম পালন করবে এবং মানুষের কাছ থেকে তুমি যে ধরনের আচরণ প্রত্যাশা কর, তাদের সাথে সেই আচরণ করবে; আর মানুষের কাছ থেকে তুমি যে ধরনের আচরন ও ব্যাবহার অবাঞ্চিত মনে কর, সে ধরনের আচরন তুমি অন্যের সাথে পরিহার করবে। এরপর বলেলন, এবার উটের রাস্তা ছেড়ে দাও। (একই বর্ণনাকারী থেকে অন্য সূত্রে অনুরূপ বক্তব্যই এসেছে) তবে তাতে আরও বলা হয়েছে, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাকে এমন এক আমলের কথা বাত্লে দিন, যা আমাকে জন্নাতে প্রবেশ করাবে এবং অগ্নি থেকে মুক্তি দেবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বাহ বাহ, চমৎকার! যদিও তুমি তোমার ভাষন সংক্ষিপ্ত করেছ, কিন্তু তোমার জ্ঞাতব্য প্রশ্ন চুড়ান্ত করেছ। “আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহর সাথে শরীক করবে না, সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, বায়তুল্লাহর হজ্জ করবে, রমযানের সিয়াম পালন করবে। (এবার) বাহনের রাস্তা ছেড়ে সরে দাঁড়াও।”



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ১৬ | 16 | ۱٦

১৬। আমর বিন আবাসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, ইয়া রাসূলুল্লাহ, ইসলাম কি? তিনি বললেন, ইসলাম হচ্ছে তোমার অন্তর সমর্পিত হবে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য এবং মুসলিমগণ তোমার জিহ্বা ও হাত থেকে নিরাপদ থাকবে। লোকটি বললো, কোন ইসলাম সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ঈমান (অন্য বর্ণনায় উত্তম চরিত্র), সে বললো, ঈমান কি? তিনি বললেন, বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর এবং তাঁর ফিরিশতায়, তাঁর কিতাবসমূহে, তাঁর রাসূলগণে এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থানে। অন্য বর্ণনায় সে বললো, ঈমান কি? তিনি বললেন, সবর (ধৈর্য) ও সামাহাত (ক্ষমা)। সে বললো, কোন ঈমান উত্তম? তিনি বললেন, হিজরত। সে বললো, হিজরত কি? তিনি বললেন, খারাপ পরিত্যাগ করা। সে বললো, কোন হিজরত সর্বোত্তম? তিনি বললেন, জিহাদ। সে বললো, জিহাদ কি? তিনি বললেন, কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে তাদের মুকাবিলার সময়। সে বললো, কোন জিহাদ উত্তম? তিনি বললেন, যার সম্পদ লুন্ঠিত হয়েছে এবং যার রক্ত প্রবাহিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, এছাড়াও আরো দু’টি আমল আছে যা অত্যন্ত উত্তম তা হচ্ছে, ‘হজ্জ-মাবরুর’ (কবুল হজ্জ) অথবা ‘উমরাহ্। (তিবরানী, হাদিসের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ১৭ | 17 | ۱۷

১৭। রিব‘য়ী বিন হিরাশ বনী ‘আমির গোত্রের জনৈক সাহাবী (রাঃ)-এর নিকট থেকে বণূনা করেন, সে নাবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট সাক্ষাতের অনুমতি প্রার্থনা করলো এবং বললো, আমি প্রবেশ করবো কি? তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খাদেমকে বললেন, বের হয়ে লোকটিকে বলে দাও, সে অনুমতি প্রার্থনার পদ্ধতি সঠিকভাবে অনুসরণ করছে না। তাকে বলে দাও, সে যেন বলে, আস্সালামু আলাইকুম, আমি প্রবেশ করবো কি? বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাকে ঐরূপই বলতে শুনলাম। তখন আমি বললাম, আস্সালামু আলাইকুম, আমি প্রবেশ করবো কি? তখন তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন, অথবা বললেন, আমি প্রবেশ করলাম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি আমাদের কাছে কি নিয়ে আগমন করেছেন? তিনি বললেন, আমি তোমাদের কাছে যা কিছু নিয়ে এসেছি, তা সবই কল্যাণকর। আমি তোমাদের কাছে (বার্ত) নিয়ে এসেছি যে, তোমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে। তাঁর কোন শরীক নেই। শু‘বা বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছেন (তিনি একক এবং তাঁর কোন শরীক নেই) এবং তোমরা লাত ও উয্যাকে পরিত্যাগ করবে এবং তোমরা রাত-দিনে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত কায়েম করবে, বছরে এক মাস সিয়াম পালন করবে, বায়তুল্লাহর হজ্জ পালন করবে। তোমাদের ধনীদের নিকট থেকে তাদের সম্পদের কিছু অংশ আদায় করে তোমাদের দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করবে। লোকটি বললো, আরো কোন ইল্ম জানার বাকী আছে কি? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে কল্যাণকর ইল্ম শিক্ষা দিয়েছেন এবং কিছু ইল্ম এমন আছে যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ অবগত নয়। কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকট আছে। তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনি জানেন যা জরায়ুতে আছে। কেউ জানে না সে আগামীকাল কি অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন স্থানে তার মৃত্যু ঘটবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ব বিষয়ে অবহিত। (আল কোরআন)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ১৮ | 18 | ۱۸

১৮। জারীর বিন আবদিল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে (কোন এক সফরে) বের হলাম। যখন আমরা মদিনা থেকে বের হয়েছি তখন দেখলাম, একজন উষ্ট্রারোহী আমাদের দিকে দ্রুত বেগে এগিয়ে আসছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই আরহী মনে হচ্ছে তোমাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে। লোকটি (অল্পক্ষনের মধ্যেই) আমাদের কাছে এসে পৌঁছালো এবং আমাদেরকে সালাম জানালো। আমরা তার সালামের উত্তর দিলাম এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথা থেকে এসেছো? সে বলল, আমি পরিবার, সন্তানাদি ও গোত্র থেকে। বলেলন, কোথায় যাচ্ছ? সে বললা, আমি আল্লাহর রাসূল-কে চাই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেলন, তুমি তাঁকে পেয়ে গিয়েছ। বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ঈমান কি আমাকে শিখিয়ে দিন, তিনি বলেলন, তুমি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কয়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমযানের সিয়াম পালন করবে, বায়তুল্লাহর হজ্জ করবে। সে বলল, আমি তা স্বীকার করে নিয়েছি। এরপর এই লোকটির উটের সম্মুখস্থ পা ইঁদুরের গর্তে ঢুকে পড়ে, ফলে উটটি উপুড় হয়ে পড়ে যায় এবং লোকটিও উপুড় হয়ে পড়ে যায়। (শুধু তাই নয়) লোকটির মাথা নিচের দিকে পড়াতে তার মৃত্যু হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, লোকটির কর্তব্য আমার উপর (বর্তেছে)। অতঃপর আম্মার বিন ইয়াসির (রাঃ) ও হুযায়ফা (রাঃ) তার দিকে ছুটে গেলেন এবং লোকটিকে ধরে ফেলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! লোকটির মৃত্যু হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন, তোমরা কি লক্ষ্য করনি যে, আমি লোকটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি, কারণ আমি দেখতে পেলাম, দুইজন ফিরিশতা লোকটির মুখে জান্নাতের ফলাদি তুলে দিচ্ছে। তখনই আমি বুঝতে পারলাম, লোকটি ক্ষুধার্ত অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছে। এরপর আল্লাহর রাসূল বললেন, এ হচ্ছে আল্লাহর শপথ, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, যারা ঈমান আনয়ন করেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের (শিরক) সাথে সংমিশ্রিত করে না তাদের জন্য রয়েছে নিরাপত্তা এবং তারাই হিদায়াত প্রাপ্ত (তাদের অন্তর্ভুক্ত)। অতঃপর বললেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের দাফন-কাফনের ব্যবস্থা কর। অতঃপর আমরা তাকে পানির কাছে নিয়ে গোসল করালাম, সুগন্ধি লাগালাম, কাফন পরালাম এবং কবরের দিকে নিয়ে গেলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও সেখানে গমন করলেন এবং কবরের পার্শ্বে উপবেশন করে বললেন, তোমরা একে ‘লাহাদ’ (কবর) দাও। সাধরণ কবর দিও না। কেননা, ‘লাহাদ’ পার্শ্বকবর আমাদের এবং সোজা কবর অন্যদের জন্য। (একই বর্ণনাকারী থেকে অন্য সূত্রে এসেছে) আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে (সফরে) বের হলাম এবং রাস্তা অতিক্রম করে চলছিলাম এমন সময় একজন লোকের সাথে দেখা হলো। এরপরের বর্ণনা পূর্বানুরূপ। তবে এখানে বলা হয়েছে, উটের হাত (সম্মুখের পা) ইঁদুর যেসব গর্ত করে থাকে তার একটিতে পড়ে গেল এবং এতে মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এ হচ্ছে ঐসব লোজেকর অন্তর্ভুক্ত, যারা আমল করেছে কম কিন্তু প্রতিদান পেয়েছে বেশী। (একই বর্ণনাকারী থেকে তৃতীয় একটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে) এক ব্যক্তি আগমন করলো এবং ইসলামে প্রবেশ করলো এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে চলতি পথে ইসলাম শিক্ষা দিয়ে চলছিলেন। এমতাবস্থায় ঐ লোকটির উটের ক্ষুর নেউলের গর্তে প্রবেশ করলো এবং তার উট তাকে ফেলে দিয়ে গর্দান মটকে দিল, লোকটির মৃত্যু হলো। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে এসে বললেন, এ (মৃত ব্যক্তি) আমল করেছে কম কিন্তু প্রতিদান পেয়েছে অনেক বেশী। মুহাম্মাদ এ কথাটি তিনবার উচ্চারণ করেছেন। ‘লাহাদ’ (সোজা কবর) আমাদের এবং ‘শাক’ (পার্শ্ব কবর) অন্যদের জন্য। (তাবারানী ইবনুু্ আবূ হাতিম, হাদীসটির সনদ ত্রুটিযুক্ত)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ১৯ | 19 | ۱۹

১৯। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক বেদুঈন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাকে এমন আমলের কথা বলে দিন, যা করলে পরে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবো। তিনি বললেন, আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করবে না। ফরয সালাত কায়েম করবে, ফরয যাকাত প্রদান করবে, রমযানের সিয়াম পালন করবে। লোকটি বললো, মুহাম্মাদের জীবন যাঁর হাতে সেই সত্তার শপথ, আমি এর উপর আর কিছুই কখনও অতিরিক্ত করবো না এবং এর চেয়ে কমও করবো না। যখন লোকটি চলে গেল, নাবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি কোন জান্নাতবাসীকে দেখতে পছন্দ করে সে যেন এই লোকটিকে দেখে নেয়। (বুখারী ও মুসলিম)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ২০ | 20 | ۲۰

২০। আবূ সুয়াইদ আল-আবদি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা . ইবনুু্ উমর (রাঃ) এর নিকট আসি এবং তাঁর ঘরের দরজার কাছে বসে অনুমতির অপেক্ষা করতে থাকি। (কিন্তু) অনুমতি পেতে বেশ বিলম্ব হতে থাকে। তখন (এক পর্যায়ে) আমি দরজায় ফুটো পাই এবং তা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করি। তখন তিনি আমাকে লক্ষ করেন। অনুমতি পাওয়া গেলে আমরা গৃহে গিয়ে বসলাম। তিনি বললেন, একটু আগে তোমাদের মধ্যে কে আমার গৃহে উঁকি দিচ্ছিল? বললাম, আমি। তিনি বললেন, তুমি কিসের বলে আমার গৃহে উঁকি দেওয়া বৈধ মনে করলে? আমি বললাম, অনুমতি পেতে বেশ বিলম্ব হচ্ছিল তাই একটু খোঁজ নেওয়ার জন্য দেখছিলাম। এটা আমি ইচ্ছাকৃতভাবে (গোপন বিষয় জানার জন্য) করিনি। (যা হোক) অতঃপর তাঁকে লোকজন বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নাদি করে। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল কে বলতে শুনেছি, ইসলামের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে পাঁচটি বিষয়ের উপর। (এক) সাক্ষ্য দেওয়া এই মর্মে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। (দুই) সালাত কায়েম করা, (তিন) যাকাত প্রদান করা, (চার) বায়তুল্লাহর হজ্জ করা এবং (পাঁচ) রমযানের সিয়াম পালন করা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া আবা ‘আবদির রহমান, জিহাদ সম্পর্কে আপনি কি বলেন? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি জিহাদ করে, সে তার নিজের (সত্তার কল্যাণার্থেই) করে। (অন্য বর্ণনায় আছে) . ইয়াজিদ বিন বিশর ইবনুু্ উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন ইসলামের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে পাঁচটি বিষয়ের উপর। (১) লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর সাক্ষ্য দান, (২) সালাত কায়েম করা, (৩) যাকাত প্রদান করা, (৪) বায়তুল্লাহর হজ্জ করা এবং (৫) রমযানের সিয়াম রাখা। তখন তাঁকে জনৈক ব্যক্তি বললেন এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। ইবনুু্ উমর (রাঃ) বললেন, জিহাদ খুবই ভাল, আল্লাহর রাসূল আমাদেরকে এরূপই বর্ণনা করেছেন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ ও অন্যান্য, তিরমিযী হাদীসটি সহীহ ও হাসান বলে মন্তব্য করেছেন।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [11]  থেকে  [20]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [109]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।