• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [24] টি | অধ্যায়ঃ ২৩/ মানত ও কসম
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ) | দেখানো হচ্ছে   [1]  থেকে  [10]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৩/ মানত ও কসম
হাদিস নম্বরঃ ১৫৩০ | 1530 | ۱۵۳۰

১৫৩০। কুতায়বা (রহঃ) আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পাপ কার্যে মানত করা যাবে না। আর এর কাফফারা হল কসমের কাফফারার অনুরূপ। এই বিষয়ে ইবনু উমার, জাবির ও ইমরান ইবনু হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি সহীহ নয়। কেননা যুহরী (রহঃ) এ হাদীসটি আবূ সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে শোনেন নি। আমি মুহাম্মদ (ইমাম বুখারী (রহঃ) -কে বলতে শুনেছি যে, মূসা ইবনু উকবা, ইবনু আবী আতীক প্রমুখ (রহঃ) থেকে যুহরী-সুলায়মান ইবনু আরকাম-ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাছীর-আবূ ছালামা-আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে রিওয়অয়াত পাওয়া যায়। মুহাম্মদ (ইমাম বুখারী) বলেন, হাদীসটি মূলত এটই।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৩/ মানত ও কসম
হাদিস নম্বরঃ ১৫৩১ | 1531 | ۱۵۳۱

১৫৩১। আবূ ইসমাঈল মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল ইবনু ইউসুফ তিরমিযী (রহঃ) আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর নাফরমানীতে কোন রূপ মানত নেই আর এর কাফফারা হল কসমের কাফফারার অনুরূপ। এই হাদীসটি গারীব। এটি আবূ সাফওয়ান-ইউনুস সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি (১৫৩০ নং) থেকে অধিকতর সহীহ। সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের এক সম্প্রদায় বলেছেন, আল্লাহর নাফরমানীতে কোনরূপ মানত নেই এবং এর কাফফারা হল কসমের কাফফারার অনুরূপ। এ হল ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) -এর অীভমত। তারা যুহরী-আবূ সালামা- আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে বর্ণিত হাদীসটিকে দলীল হিসাবে পেশ করেন। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম বলেন, পাপ কার্যের ক্ষেত্রে মানত নেই এবং এতে কাফফারাও নেই। এ হল এমাম মালিক ও শাফিঈ (রহঃ) -এর অভিমত।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৩/ মানত ও কসম
হাদিস নম্বরঃ ১৫৩২ | 1532 | ۱۵۳۲

১৫৩২। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, কেউ যদি আল্লাহর ফরমাবরদারী করার মানত করে তবে সে অবশ্যই তা করবে আর কেউ যদি আল্লাহর নাফরমানীর মানত করে তবে সে যেন তাঁর নাফরমানী না করে। হাসান ইবনু আলী খাললাল (রহঃ) আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাছীর (রহঃ) ও এটিকে কাসিম ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। এ হল কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিমের অভিমত। ইমাম মালিক ও শাফিঈ (রহঃ) ও এই মত প্রদান করেছেন।তারা বলেন, সে আল্লাহর নাফরমানী করবে না। আর নাফরমানীর ক্ষেত্রে মানত করলে তাতে কসমের অনুরূপ কাফফারাও ধার্য হয় না।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৩/ মানত ও কসম
হাদিস নম্বরঃ ১৫৩৩ | 1533 | ۱۵۳۳

১৫৩৩। আহমাদ ইবনু মানী‘ (রহঃ) ছাবিত ইবনুয যাহহাক রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সে বিষয়ে বান্দার মানত হয় না যে বিষয়ে তার মালিকানা নেই। এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও ইমরান ইবনু হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। অনুচ্ছেদঃ মানত করা কালে কিছু নির্ধারণ করা হলে এর কাফফারা প্রসঙ্গে।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৩/ মানত ও কসম
হাদিস নম্বরঃ ১৫৩৪ | 1534 | ۱۵۳٤

১৫৩৪। আহমাদ ইবনু মানী‘ (রহঃ) উকবা ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানতের ক্ষেত্রে যদি কোন কিছু নির্ধারণ করা না হয় তবে এর কাফফারা হল কসমের কাফফারার অনুরূপ। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৩/ মানত ও কসম
হাদিস নম্বরঃ ১৫৩৫ | 1535 | ۱۵۳۵

১৫৩৫। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ‘লা (রহঃ) আবদুর রহমান ইবনু সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে আবদুর রহমান, শাসন ক্ষমতাধিকারী হওয়ার যাঞ্চা করবে না। কেননা যদি যাচঞার কারণে তা তোমার কাছে আসে তবে এর ভাল মন্দের দায়িত্ব তোমার প্রতই সোপর্দ করা হবে। আর যদি যাচঞা ছাড়া তোমার কাছে তা আসে তবে এই বিষয়ে (আল্লাহর পক্ষ থেকে ) তুমি সাহায্য প্রাপ্ত হবে। কোন বিষয়ে কসম করার পরে অন্য একটি বিষয়কে যদি তা থেকে ভাল দেখতে পাও তবে ঐ ভাল কাজটি করবে এবং তোমার কসমের কাফফারা দিয়ে দিবে। এই বিষয়ে আদী ইবনু হাতিম। আবূদ-দারদা, আনাস, আয়িশা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবূ হুরায়রা, উম্মু সালামা ও আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবদুর রহমান ইবনু সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৩/ মানত ও কসম
হাদিস নম্বরঃ ১৫৩৬ | 1536 | ۱۵۳٦

১৫৩৬। কুতায়বা (রহঃ) আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন বিষয়ে কসম করার পর অন্য বিষয় যদি তা থেকে ভাল দেখে তবে সে তার কসমের কাফফারা দিয়ে দিবে এবং ঐ কাজটি করবে। এ বিষয়ে উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। অধিকাংশ সাহাবী অপরাপর আলিমাতেদনুসারে আমল করেছেন যে, কসম ভাঙ্গার পূর্বে কাফফারা দেওয়া যায়। এ হল ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) -এর অভিমত। কতক আলিম বলেন, কসম ভাঙ্গার পর ছাড়া কাফফারা প্রদান করা যাবে না। সুফইয়ান ছাওরী (রহঃ) বলেন, কসম ভাঙ্গার পর কাফফারা প্রদান আমার নিকট অধিকতর পছন্দনীয়। তবে এর পূর্বেও যদি কাফফারা দিয়ে দেয় তবে তা তার জন্য যথেষ্ট বলে বিবেচ্য হবে।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৩/ মানত ও কসম
হাদিস নম্বরঃ ১৫৩৭ | 1537 | ۱۵۳۷

১৫৩৭। মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি কোন বিষয়ে কসম করতে ইনশা আল্লাহ বলে তবে তার উপর কসম ভাঙ্গার বিষয় প্রযোজ্য হবে না। (কেননা, তা কসম বলেই গন্য হবে না।) এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদীসটি হাসান। উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার প্রমুখ (রহঃ) এটিকে নাফি‘- ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে মাওকুফ রূপে বর্ণনা করেছেন। এমনিভাবে সালিম (রহঃ) ও বলেন, আয়্যূব রাদিয়াল্লাহু আনহ এটিকে কখনো মারফহ‘ রূপে বর্ণনা করেছেন আর কখনো কখনো মারফু‘ রূপে বর্ণনা করেন নি। অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন যে, ইনশা আল্লাহ যদি কসমের সঙ্গে একত্রিত করে বলে তবে তার উপর কসম ভাঙ্গার বিষয় প্রযোজ্য হবে না এ হল সুফইয়ান ছাওরী, আওযাঈ, মালিক ইবনু আনাস, আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) -এর অভিমত।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৩/ মানত ও কসম
হাদিস নম্বরঃ ১৫৩৮ | 1538 | ۱۵۳۸

১৫৩৮। ইয়াহইয়া ইবনু মূসা (রহঃ) আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি কসম করে আর ইনশা আল্লাহ বলে তবে তার জন্য কসম ভাঙ্গার বিষয় নেই। আমি মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল বুখারী (রহঃ) -কে হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, এই হাদীসটি ভুল। এতে রাবী আবদুর রাযযাক ভুল করেছেন। তিনি মা‘মার-ইবনু তাউস-তৎপিতা তাউস আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সংক্ষিপ্ত করে ফেলেছেন। রিওয়ায়অতটি হল নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সুলায়মান ইবনু দাউদ আলাইহিস সালাম একবার বলেছিলেন, আমি আজ রাতে অবশ্যই সত্তর জন স্ত্রীর শয্যা পরিভ্রমণ করব। প্রত্যেক মহিলাই একজন করে সন্তান প্রসব করবে। অনন্তর তিনি উক্ত স্ত্রীদের শয্যা পরিভ্রমণ করেন। কিন্তু তাদের মাঝে কেউ কোন সন্তান প্রসব করতে পারল না। কেবল একজন একটি অর্ধ বিকলাঙ্গ শিশু প্রসব করল। অনন্তর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি তিনি এতদসঙ্গে ইনশা আল্লাহ বলতেন তবে তার কথা অনুসারেই বিষয়টি ঘটত। আবদুর রাযযাক (রাঃ) মা‘মার-ইবনু তাউস-তৎপিতা তাউস (রহঃ) সূত্রে বিস্তারিতভাবে হাদীসটিকে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। তিনি এতে সত্তর জন স্ত্রীর কথা উল্লেখ করেছেন। হাদীসটি একাধিক সূত্রে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ-এর বরাতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেছেন, সুলায়মান ইবনু দাউদ (আঃ) বলেছেন, আজ রাতে একশত স্ত্রীর শয্যা পরিভ্রমণ করব।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৩/ মানত ও কসম
হাদিস নম্বরঃ ১৫৩৯ | 1539 | ۱۵۳۹

১৫৩৯। কুতায়বা (রহঃ) সালিম তৎপিতা ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমাম রাদিয়াল্লাহু আনহ-কে ‘‘কসম আমার পিতার, কসম আমার পিতার’’-এই কথা বলতে শুনলেন। তখন তিনি বললেন, সাবধান, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে তোমাদের পিতার কসম খেতে নিষেধ করেছেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেন, আল্লাহর কসম, এরপর আর আমি এর কসম খাইনি বা অন্যের বরাতেও তা উল্লেখ করেনি। এই বিষয়ে ছাবির ইবনু যাহহাক, ইবনু আব্বাস, আবূ হুরায়রা, কুতায়লা, আবদুর রহমান ইবনু সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ উবায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেন, অর্থ হল অন্যের বরাতেও আমি তা উল্লেখ করেনি।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [1]  থেকে  [10]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [24]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।