• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [42] টি | অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ | দেখানো হচ্ছে   [1]  থেকে  [10]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ১ | 1 | ۱

০১। . ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নাবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা’য়ালা, ’না’মান,’ অর্থাৎ আরাফাত নামক স্থানে অদম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট থেকে (তথাসমগ্র বনী আদমের নিকট থেকে) একটি বিশেষ প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেন। (প্রতিশ্রুতি গ্রহণের পদ্ধতি এরূপ ছিল যে,) আল্লাহ্ আদম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর পৃষ্ঠদেশ থেকে তাঁর প্রতিটি সন্তানকে (অর্থাৎ তাদের রূহকে) বের করে নিয়ে আসেন এবং তাঁর সম্মুখে (লাল) পিপীলিকার ন্যায় ছড়িয়ে দেন। অতঃপর তাদের মুখোমুখি হয়ে সরাসরি কথা বলেন, অর্থাৎ আমি কি তোমাদের রব নই? তারা বললো, অবশ্যই। আমরা সাক্ষী রইলাম। এ স্বীকৃতি গ্রহণ এ জন্য যে, তোমরা যেন কিয়ামতের দিন বলতে না পার, ”আমরা এ বিষয়ে গাফিল ছিলাম কিংবা তোমরা যেন না বল, আমাদের পূর্বপুরুষগণই শিরক করেছে আর আমরা তাদের পরবর্তী বংশধর, তবে কি পথভ্রষ্টদের কৃতকর্মের জন্য তুমি আমাদেরকে ধ্বংস করবে?* *টিকাঃ নাসায়ী ও হাকিম। তিনি বলেন, হাদীসটির সনদ সহীহ্, তবে বুখারী ও মুসলিম কেউ তা সংকলন করেন নি, যাহাবী তাঁর এ মত সমর্থন করেছেন।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ২ | 2 | ۲

০২। (যা) (১) রুফাই ’আবূল’ আলিয়া থেকে বর্ণিত, তিনি উবাই বিন কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, (বিষয়টি) মহান আল্লাহর বাণী, (এখন তোমার প্রভু বনী আদমের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন) সম্পর্কিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা’য়ালা তাদেরকে একত্রিত করেন, এবং তাদের কে আত্মা ও আকৃতি প্রদান করেন। অতঃপর তাদের কথা বলার নির্দেশ দেন। অতঃপর তারা কথা বলে। এরপর তিনি তাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি ও মজবুত ওয়াদা গ্রহণ করেন, এবং তাদের সত্তাকে এ ব্যাপারে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করেন এই মর্মে যে, আমি কি তোমাদের প্রভু নই? তিনি আরও বলেন, নিশ্চয় আমি তোমাদের উাপর সাক্ষ্য স্থির করেছি সপ্তাকাশ ও সপ্তবক মৃত্তিকাকে, আরও সাক্ষ্য রাখছি তোমাদের মূল পিতা আদম কে যেন তোমরা কিয়ামতের দিবসে এ কথা বলতে না পার যে, আমরা এ বিষয়ে অবগত ছিলাম না; জেনে রাখ, আমি ব্যতীত কোন ইলাহ বা উপাস্য নেই; আমি ভিন্ন কোন রব বা প্রভ’ নেই; সুতরাং তোমরা আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক বা অংশীদার করো না, আমি অবশ্যই তোমাদের কাছে আমার রাসূলগণকে প্রেরণ করবো তাঁরা তোমাদেরকে আমার এই প্রতিশ্রুতি ও ওয়াদার কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন। উপরন্তু, আমি তোমাদের উদ্দেশ্যে আমার কিতাবসমূহও অবতীর্ণ করবো। (এতদশবণে) তারা বলেছিল, (আদম সন্তানেরা) আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি অবশ্যই আমাদের প্রভু ও ইলাহ। আপনি ছাড়া অন্য কোন প্রভু নেই। (১) যা, চিহ্নিত হাদীসগুলো ইমাম আহমদের ছেলে কর্তৃক ”মুসনাদ” গ্রন্থে পরবর্তীতে সংযোজিত।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ৩ | 3 | ۳

৩। আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, কিয়ামতে দিবসে জহান্নামে শাস্তি প্রাপ্তদের মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তিকে বলা হবে তোমার কী মনে হয়, যদি ভ’-ভাগের উপরিস্থিত সবকিছু তোমার আয়ত্ত্বাধীন করে দেওয়া হয়। তবে, তুমি সবকিছুর বিনিময়ে জাহান্নাম থেকে নিস্কৃতি কামনা করবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তভন সে বলবে, হ্যাঁ অবশ্যই। আল্লাহ বলবেন, আমি (বরং) তোমার কাছে এর চেয়ে অধিক সহজ ও সস্তা (জিনিস) চেয়েছিলাম। আমি তোমার কাছ থেকে আদমের পৃষ্ঠদেশে অবস্থানকালীন সময়ে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছিলাম এই মর্মে যে, তুমি আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক বা অংশীদার সাব্যস্ত করবে না। (পরবর্তীতে তুমি তা অস্বীকার করলে এবং আমার সাথে শরীক সাব্যস্ত করলে। ” (বুখারী,মুসলিম ও অন্যান্য) [হাকিম, তিনি বলেন হাদীসটির সনদ সহীহ তবে বুখারী ও মুসলিম কেউ হাদীসটি বর্ণনা করেন নি। যাহাবী তার বক্তব্য সমর্থন করেছেন। আর হাতিম, ইবনুু্ জারীর ও ইবনুু্ মারদাওয়াহও তাঁদের তাফসীরে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ৪ | 4 | ٤

৪। আব্দুর রহমান বিন গানাম (রাঃ) থেকে তিনি হচ্ছে সেই সৌভাগ্যশালী ব্যক্তি যাঁকে . উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) সিরিয়ায় প্রেরণ করেছিলেন মানুষকে ধর্মীয় জ্ঞান শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে, তিনি বলেন, . ম’য়ায বিন জাবাল (রাঃ) তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর থেকে এরূপ (হাদীস) বর্ণনা করেছেন যে, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ইয়া’ফর’ নামক গর্দভের পৃষ্ঠে আরোহণ করেন। এ গর্দভের লাগামটি ছিল খেজুর গাছের থাকার এর তৈরী। তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হে মু’আয, আরোহণ কর; আমি বললাম, ’আপনি চলুন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। ’ কিন্তু তিনি আবার বললেন , আরোহণ কর। সুতরাং আমি তাঁর পেছনে বসলাম। কিন্তু গর্দভ আমাদেরকে আসনসহ ফেলে দিল। আল্লাহর রাসূল হাসতে হাসতে ওঠে দাঁড়ালেন, আর আমি মনে মনে দুঃখিত হয়ে দন্ডায়মান হলাম। অতঃপর গর্দভ দ্বিতীয়বার এবং তৃতীয়বারও ঐরূপ করল। এবার গর্দভ আমাদেরকে বহন করে নিয়ে চললো। (কিছক্ষণ পর) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত পিছনের দিকে ফিরিয়ে চাবুক অথবা দ্বারা (যা তাঁর হাতে ছিল) আমার পৃষ্ঠদেশে (মৃদু) আঘাত করলেন এবং বললেন, হে মু’আয তুমি কি জান বান্দার উপর আল্লাহর হক বা অধিকার কী? আমি বললাম আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, বান্দার উপর আল্লাহর অধিকার হচ্ছে যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করবে না। . মু’আয বলেন, (ইত্যবসরে) আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা বেশ কিছুদূর অগ্রসর হলাম। আল্লাহর রাসূল (পূর্বের ন্যায়) তাঁর হাত পেছনে ফিরিয়ে আমার পৃষ্ঠে (মৃদু) আঘাত করলেন (স্পষ্টতই) বুঝা যায় যে, এইরূপ আঘাতের উদ্দেশ্য হচ্ছে শ্রোতাকে কর্তব্য বিষয়ে আকৃষ্প করা।) এবং বললেন , মু’আয, ওহে মু’আযের মায়ের সন্তান (স্নেহ মধূর সম্বোধন), তুমি কি জান, বান্দারা যদি এইরূপ করে, তবে আল্লাহর উপর বান্দার ’হক’ বা অধিকার কী? আমি বললাম। আল্লাহ ও তদীয় রাসূল সর্বেত্তম জ্ঞাত। তিনি বললেন, বান্দারা যদি ঐরূপ করে, তবে আল্লাহর উপর তাদের অধিকার হচ্ছে যে, তিনি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (বুখারী, মুসলিম, বায়হাকী ও অন্যান্য)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ৫ | 5 | ۵

৫। আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা মু’অয বিন জবাল (রাঃ) -এর নিকট উপস্থিত হয়ে আরয করলাম, আপনি আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরল হাদীসসমূহ থেকে কিছু বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, ফিক আছে। (একদা) আমি রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গর্দভের উপর তাঁর পেছনে উপবিষ্ট ছিলাম। এমতাবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে মু’আয, আমি বললাম, লাব্বাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ (আমি হযির, ইয়া রাসূলাল্লাহ)। তিনি বলেন, তুমি কি জান কি বান্দার উপর আল্লাহর হক বা অধিকার কী? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সর্বোত্তম জ্ঞাত। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (উপরোক্ত হাদীসের) অনুরূপ বর্ণনা করেন, তবে পার্থক্য শুধু এতটুকু যে (তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেনন) - এর পরিবর্তে (তাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন না) বলেছেন। অন্য এক বর্ণনায় ভিন্ন সূত্রে অতিরিক্ত এতটুকু বর্ণিত আছে যে, মু’আয বলেন (এতদ শ্রবণে) আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি কি লেকদেরকে এ সুসংবাদ প্রদান করবো না? তিনি (উত্তরে) বলেন, ছেড়ে দাও, (প্রয়োজন নেই) তারা (অধিক পরিমাণে) আমল করতে থাকুক। [বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ৬ | 6 | ٦

৬। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল বলেন, হে আবূ হুরায়রা, তুমি কি জান আল্লাহর উপর মানুষের এবং মানুষের উপর আল্লাহর অধিকার কী? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বোত্তম জ্ঞাত। তিনি বলেন, মানুষের উপর আল্লাহর অধিকার হচ্ছে যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করবে না। যদি তারা তা (সঠিকভাবে) সম্পন্ন করে, তবে তাদেরকে শাস্তি প্রদান না করা আল্লাহর করণীয় হয়ে দাঁড়ায় (অর্থাৎ আল্লাহ দয়াপরবশ হয়ে তাদেরকে অবশ্যম্ভাবীরূপে শাস্তি থেকে মুক্তি প্রদান করেন)। [এ হাদীসটি অন্য কোন গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে আমাদের জানা নেই। তবে অনুরূপ একটি হাদীস বুখারীতে . মু’আয (রাঃ) থেকে চয়ন করেছেন।]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ৭ | 7 | ۷

৭। রিবয়ী ইবনু হিরাশ থেকে বর্ণিত তিনি তুফাইল (রাঃ), যিনি . ’আয়িশা (রাঃ) - এর বৈমাত্রীয় ভাই থেকে বর্ণনা করেন, তিনি একদা, নিদ্রিতাবস্থায় যেভাবে স্বপ্ন দেখে সে রকম দেখেন যে, তিনি ইয়াহুদীদের একটি দলের পাশ দিয়ে যচ্ছেন। তখন তিনি জিজ্ঞেস করেন, তোমাদের পরিচয় কী? তারা বললো, আমরা ইয়াহুদী। তিনি বলেন, তোমরা (ভাল) সম্প্রদায় যদি না তোমরা বিশ্বাস করতে . উযাইর (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর পুত্র। তখন তারা বললো, তোমরাও (ভাল) সম্প্রদায় - যদি না তোমরা বলতে অর্থাৎ যা কিছু আল্লাহচান এবং যা মহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চান তা-ই হয়। অতঃপর তিনি নাসারাদের একটি দলের পাশ দিয়ে গমন করেন এবং জিজ্ঞেস করেন তোমাদের পরিচয় কী? তারা বললো, আমরা নাসারা, তখন তিনি বলেন তোমরা নিঃসন্দেহে (একটি ভাল) সম্প্রদায় - যদি না তোমরা বলতে ’মাসীহ’ ও ঈসা আল্লাহর পুত্র। প্রতুত্তরে তারা বললো তোমরাও (ভাল) সম্প্রদায় যদি না তোমরা বলতে ”আল্লাহ যা চান এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা চান তা-ই হয়। রাত্রি ভোর হলে তিনি তুফাইল) দ’চার জনকে এ বিষয়ে অবহিত করেন এবং অবশেষে রাসূলুল্লাহ (রাঃ)- এর নিকটে উপস্থিত হয়ে তাঁর স্বপ্নের বৃত্তান্ত বর্ণনা করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করেন, তুমি এ বিষয়ে অন্য কাউকে কি অবহিত করেছ? তিনি বলেন, হ্যাঁ। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত (ফজর) আদায় করেন, তখন উপস্থিত সবাইকে সম্বোধন করেন, আল্লাহর উদ্দেশ্যে প্রসংসা প্রতি (হাম্দ ও ছানা পাঠ) করেন এবং বলেন, তুফাইল একটি স্বপ্ন দেখেছে এবং তোমাদের মধ্যে কারো কারো কাছে বর্ণনাও করেছে। নিশ্চয় তোমরা এমন একটি কালেমা বা বাক্য উচ্চারণ করে থাক (যা বলা সমীচীন নয়), যা থেকে আমি লজ্জার কারণে তোমাদেরকে বিত থাকতে বলতে পারিনি। (এবার আমি তোমাদেরকে বলছি) তোমরা (আর কখনো) ”যালাল্লাহ চান এবং যা মহাম্মদ চান তা-ই হয়” বলবে না। [আবূ ইয়া’লা, বলেছনঃ এ হাদীসের সনদ উত্তম]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ৮ | 8 | ۸

৮। হুযাইফা ইবনু আল - য়ামান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর নিকট আগমন করে বলেন, আমি নিদ্রিতাবস্থায় (স্বপ্নে) দেখতে পাই যে, আমি আহলে কিতাবের (ইয়াহুদ ও নাসারা) জনৈক লোকের সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তিনি বলেন, তোমরা কতই না চমৎকার একটি সম্প্রদায় যদি না তোমরা বলতে যা কিছু চান আল্লাহ এবং যা চান মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা-ই হয়। (এতদ শ্রবণে) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের এই কথটি আমি (মূলত) অপছন্দ করে আসছিলাম। সুতরাং (এখন থেকে) তোমরা বলবে, যা কিছু আল্লাহ চান এরপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা’ই হয়।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ৯ | 9 | ۹

৯। আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) - থেকে বর্ণিত, একদা জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- কে উদ্দেশ্য করে বলে, ”যা কিছু আল্লাহ চান এবং আপনি চান”। এতদশ্রবণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন, তুমি কি আমাকে এবং আল্লাহকে সমান সমান (বরাবর) করে দিলে? বরং বলবে ” যা কিছু একমাত্র আল্লাহ চান”। [আহমদ আবদুর রহমান বলেন, আহমদ ছাড়া অন্য কোন গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। হাদীসটির সনদ ভাল এ হাদীসটি নাসাঈতেও বর্ণিত আছে। সেখানে আছে মহনাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লেকটির কথা শুনে বললেন, তুমি কি আল্লাহর সাথে আমাকে শরীক করলে?]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ১০ | 10 | ۱۰

১০। আবূ মূসা আল আশ’আরী (রাঃ) তৈকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে (দুই হাতে ভর দিয়ে শক্ত হয়ে) দন্ডায়মান হলেন এবং বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ জাল্লা শানুহু নিদ্রা যান না, এবং নিদ্রা যাওয়া তাঁর জন্য শোভনও নয়। তিনি মীযান, (বা আমল মাপার মানদন্ড) নীচু করেন এবং উঁচু করেন। দিবসের শুরুতে তাঁর কাছে (সারা) রাত্রির আমলসমূহ (অর্থাৎ বান্দার কৃতকর্মসমূহ) এবং দিবসের আমলসমূহ রাত্রিতে পেশ করা হয়। (একই বর্ণনাকারী থেকে ভিন্ন ধারায় বর্ণিত আছে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা নিদ্রা যান না এবং নিদ্রা যাওয়া তাঁর পক্ষে শোভনও নয়। তিনি ন্যায়দন্ড নীচু করেন এবং উঁচু করেন। তাঁর হিজাব বা পর্দা হচ্ছে অগ্নি (অন্য বর্ণনায় ’নূর’ বা জ্যোতি), যদি তিনি তাঅপনেদন করেন। তাঁর চেহারার ঔজ্জ্বল্য দৃষ্টি শক্তির আওতাধীন সবকিছু ভষ্মিভ’ত করে ফেলবে। অতঃপর আবূ উবাইদা (রাঃ) এই আয়াত পাঠ করেন - ”অতঃপর সে যখন সেখানে আসল তখন ঘোষিত হল, ধন্য সে ব্যক্তি, যে আছে এ অগ্নির মধ্যে এবং যারা আছে এর চতুষ্পার্শ্বে জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ পবিত্র ও মহিমান্বিত।” (নামলঃ ৮) [ মুসলিম ও ইবনু মাজাহ।]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [1]  থেকে  [10]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [42]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।