• ৫৬৬৯৯ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


গ্রন্থের নামঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম
বিভাগের নামঃ পবিত্রতা
লেখক/সঙ্কলক/অনুবাদকের নামঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ)

বিগত দিনগুলোতে ব্যাপক আকারে দু’নামাযকে একত্রিত করা এবং এক্ষেত্রে মানুষের অতিরিক্ত শিথীলতা লক্ষ্য করা গেছে। অত্যধিক ঠান্ডাই কি এর কারণ? আপনি কি মনে করেন? আল্লাহ্‌ আপনাকে উত্তম বিনিময় প্রদান করুন।

অলসতা করে দু’নামাযকে একত্রিত করা কারো জন্য বৈধ নয়। কেননা আল্লাহ্‌ তাআলা নামায সমূহকে নির্দিষ্ট সময়েই আদায় করা আবশ্যক করেছেন। আল্লাহ্‌ বলেন,

]إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا[

“নিশ্চয় নির্দিষ্ট সময়ে নামায আদায় করা মু’মিনদের উপর ফরয করা হয়েছে।” (সূরা নিসাঃ ১০৩) তিনি আরো বলেন,

]أَقِمْ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا[

“সূর্য হেলে পড়বার পর হতে রাত্রির ঘন অন্ধকার পর্যন্ত নামায কায়েম করবে এবং কায়েম করবে ফজরের নামায; ফজরের নামায পরিলক্ষিত হয় বিশেষভাবে।” (সূরা বনী ইসরাঈলঃ ৭৮) নামায যখন নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা ফরয, তখন প্রত্যেক নামাযকে তার বেঁধে দেয়া সময়-সীমার মধ্যেই আদায় করতে হবে। উল্লেখিত আয়াতে “সূর্য হেলে পড়বার পর হতে... নামায কায়েম করবে।” কথাটি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ। বিস্তারিতভাবে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সময়-সীমা সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন,

وَقْتُ الظُّهْرِ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ وَكَانَ ظِلُّ الرَّجُلِ كَطُولِهِ مَا لَمْ يَحْضُرِ الْعَصْرُ وَوَقْتُ الْعَصْرِ مَا لَمْ تَصْفَرَّ الشَّمْسُ وَوَقْتُ صَلَاةِ الْمَغْرِبِ مَا لَمْ يَغِبِ الشَّفَقُ وَوَقْتُ صَلَاةِ الْعِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ الْأَوْسَطِ وَوَقْتُ صَلَاةِ الصُّبْحِ مِنْ طُلُوعِ الْفَجْرِ مَا لَمْ تَطْلُعِ الشَّمْسُ

“সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলার পর থেকে শুরু হয় যোহর নামাযের সময় এবং কোন ব্যক্তির ছায়া তার সমপরিমাণ হলে তথা আসরের নামাযের সময় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত হচ্ছে আসর নামাযের সময়। সূর্যাসে-র পর থেকে পশ্চিমাকাশে লাল রেখা অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত মাগরিবের সময়। আর অর্ধরাত্রি পর্যন্ত হচ্ছে এশা নামাযের সময়। রাতের এক তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর যদি এ নামায আদায় করা সম্ভব হয় তবে তা উত্তম। ফজর নামাযের সময় হচ্ছে সুবহে সাদেক (পূর্বাকাশে সাদা রেখা) উদিত হওয়ার পর থেকে সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত।”

নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন নামাযের সময় সমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন, তখন কোন নামায নির্ধারিত সময়ের বাইরে আদায় করা আল্লাহ্‌র বেঁধে দেয়া সীমারেখা লঙ্ঘনের শামিল। আর আল্লাহ্‌ বলেন,

] وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُوْلَئِكَ هُمْ الظَّالِمُونَ [

“যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সীমা লঙ্ঘন করবে, তারাই অত্যাচারী।” (সূরা বাক্বারাঃ ২২৯) অতএব জেনেশুনে ইচ্ছাকৃতভাবে যে ব্যক্তি সময় হওয়ার পূর্বে নামায আদায় করবে, সে গুনাহগার হবে এবং পুনরায় তাকে নামায পড়তে হবে। কিন্তু যদি অজ্ঞতা বশতঃ অনিচ্ছাকৃতভাবে এরূপ করে থাকে, সে গুনাহগার হবে না তবে নামায তাকে পুনরায় পড়তে হবে। আর এটা হচ্ছে শরঈ কোন ওযর ছাড়াই বর্তমান নামাযের সাথে পরবর্তী নামাযকে অগ্রীম আদায় করার ক্ষেত্রে। কেননা নামায অগ্রীম আদায় করলে তা বিশুদ্ধ হবে না। তাকে পুনরায় তা আদায় করতে হবে।

আর বিনা ওযরে জেনেশুনে ইচ্ছাকৃতভাবে যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম করে নামায আদায় করবে, সে গুনাহগার হবে এবং বিশুদ্ধ মতানুযায়ী তার নামায কবূল হবে না। আর এটা হচ্ছে শরঈ কোন ওযর ছাড়াই বর্তমান নামাযের সাথে পূর্ববর্তী নামাযকে দেরী করে একত্রিত আদায় করার ক্ষেত্রে। কেননা সময় পার করে দিয়ে নামায আদায় করলে বিশুদ্ধ মতানুযায়ী তার নামায কবূল হবে না।

অতএব মুসলিম ব্যক্তির উপর আবশ্যক হচ্ছে আল্লাহ্‌কে ভয় করা আর এই গুরুত্বপূর্ণ বিরাট বিষয়টিতে কোন ধরণের শিথীলতা না করা। কিন্তু ছহীহ্‌ মুসলিমে আবদুল্লাহ্‌ বিন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন,

جَمَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِالْمَدِينَةِ فِي غَيْرِ خَوْفٍ وَلَا مَطَرٍ

“নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদ্বীনায় বৃষ্টি বা ভয়-ভীতির কারণ ছাড়াই যোহর ও আছর একত্রে এবং মাগরিব ও এশা নামাযকে একত্রে আদায় করেছেন।” এ হাদীছে দু’নামাযকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে শিথীলতার কোন অবকাশ নেই। কেননা ইবনু আব্বাসকে প্রশ্ন করা হল, কেন তিনি এরূপ করেছেন? তিনি বললেন, তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মতকে সংকটে ফেলতে চাননি। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় মুহূর্তে দু’নামাযকে একত্রিত না করলে যে সংকট হওয়ার কাথা তিনি তা চাননি। সুতরাং দু’নামাযকে একত্রিত করে পড়া বৈধ হওয়ার কারণ হচ্ছে প্রত্যেক নামাযকে সময়মত আদায় করলে অসুবিধা হওয়া। কোন লোক যদি সময় মত নামায আদায় করলে অসুবিধায় পড়ে তবে তার জন্য দু’নামাযকে একত্রিত আদায় করা জায়েয বরং সুন্নাত। কোন অসুবিধা না থাকলে প্রত্যেক নামাযকে নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করাই ওয়াজিব।

এই ভিত্তিতে শুধুমাত্র ঠান্ডার কারণে দু’নামাযকে একত্রিত করা বৈধ হবে না। কিন্তু ঠান্ডা যদি অতিরিক্ত হয় এবং সেই সাথে এমন বাতাস প্রবাহিত হয় বা বরফ পড়ে যে, মসজিদে গমণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে, তবে দু’নামাযকে একত্রিত করতে কোন বাধা নেই।

মুসলিম ভাইদের প্রতি আমার বিশেষ নসীহত বিশেষ করে ইমামদের প্রতি তারা যেন এ বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করেন এবং আল্লাহ্‌ সন্তুষ্ট হন এমনভাবে এই ফরয ইবাদতটি সম্পাদন করেন।