• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


গ্রন্থের নামঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম
বিভাগের নামঃ ঈমান
লেখক/সঙ্কলক/অনুবাদকের নামঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ)

(৩৩) আল্লাহ তাআ’লার শানে যেভাবে প্রযোজ্য, তিনি সেভাবেই আরশের উপরে আছেন এটাই কি সালাফে সালেহীনের ব্যাখ্যা?

আল্লাহর ক্ষমতা ও মর্যাদা অনুযায়ী যেভাবে আরশের উপরে সমুন্নত হওয়া শোভা পায়, তিনি সেভাবেই আরশের উপর প্রতিষ্ঠিত।

মুফাস্‌সিরগণের ইমাম আল্লামা ইবনে জারীর বলেন, ইসতিওয়া অর্থ হল সমুন্নত হওয়া, উপরে হওয়া। আল্লাহর বাণী,

)الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى(

এর অর্থ বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন যে, “আল্লাহ আরশের উপরে সমুন্নত।” এই অর্থ ব্যতীত সালাফে সালেহীন হতে অন্য কোন অর্থ বর্ণিত হয়নি। তদুপরি ইসতিওয়া শব্দটি ভাষাগত দিক থেকে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার হয়ে থাকে।

১) অন্য কোন শব্দের সাথে যুক্ত না হয়ে এককভাবে ব্যবহার হলে অর্থ হবে, পরিপূর্ণ হওয়া। আল্লাহ বলেনঃ

)وَلَمَّا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَاسْتَوَى(

“যখন তিনি প্রাপ্ত বয়স্ক হলেন এবং পরিপূর্ণতায় পৌঁছলেন।” (সূরা ক্বাছাছঃ ১৪)

২) ইসতিওয়া শব্দটি আরবী অক্ষর (واو) এর সাথে মিলিত হয়ে ব্যবহার হলে অর্থ হবে সমান সমান হওয়া, একটি জিনিষ অন্যটির বরাবর হওয়া। যেমন বলা হয় (استوى الماء والعتبة) পানি কাষ্ঠের সমান হয়ে গেছে।

৩) আরবী অব্যয় (إلى) এর সাথে মিলিত হয়ে আসলে অর্থ হবে, ইচ্ছা করা, মনোনিবেশ করা। যেমন আল্লাহ বলেনঃ

)ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ(

“অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করলেন।” (সূরা বাকারাঃ ২৯)

৪) আরবী অব্যয় (على) এর সাথে মিলিত হয়ে আসলে অর্থ হবে, সমুন্নত হওয়া, উপরে হওয়া। যেমন আল্লাহ বলেন,

)الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى(

“আল্লাহ আরশের উপরে সমুন্নত।”

আবার কোন কোন সালাফ বলেন ইসতিওয়া শব্দটি  إلى  এবং على এর মধ্যে থেকে যে কোন একটির সাথেই মিলিত হয়ে আসুক না কেন, অর্থের দিক থেকে কোন পার্থক্য নেই। একটি অন্যটির অর্থে ব্যবহার হয়। তাই উভয় ক্ষেত্রে অর্থ হবে আল্লাহ আরশের উপর সমুন্নত।