Donate Now
কীবোর্ড সিলেক্টরঃ ফনেটিক বিজয় ইউনিজয়   ইংরেজী
হাদিস প্রশ্নোত্তর/দু'আ/গ্রন্থ প্রশ্নোত্তর (বাংলা হাদিস) গুগল হুবুহু সার্চ
 
 
Donate Now!

প্রশ্ন করেছেনঃ Rana Ahamed | তারিখঃ 2014-01-05

প্রশ্ন নম্বরঃ
20

আস-সালামু আলাইকুম।

বিতের নামাজ কি সুন্নাত না ওয়াজিব? এই নামাজ এর নিয়ম কি এবং দোয়া ই কুনুত পড়া কি বাধ্যতামূলক কিনা?

উপযুক্ত দলিল চাই হাদিস নাম্বার ও অধ্যায় সহ......... ধন্যবাদ। 

উত্তরঃ

বিতর নামাযের হুকুমঃ

 অধিকাংশ আলেমের মতে বিতর নামায ওয়াজিব নয়। বরং তা সুন্নাত। ওয়াজিব না হওয়ার দলীলগুলো নিম্নে বর্ণনা করা হলঃ 

১) আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ “বিতর নামায তোমাদের ফরয নামাযের মত আবশ্যক নয়; বরং সে নামাযকে রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নত করেছেন। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তা’আলা বেজোড়। তিনি বেজোড়কে পছন্দ করেন। সুতরাং হে কুরআনের অনুসারীগণ তোমরা বিতরের (বে-জোড়) নামায পড়।” (তিরমিজী) এই হাদীছটি দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, বিতর নামায সুন্নাত।

২) একজন গ্রাম্য লোক নবী (সাঃ)এর কাছে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য আগমণ করল। সে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে বলুন আল্লাহ আমার উপর কী পরিমাণ নামায ফরয করেছেন? তিনি বললেনঃ তোমার উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করা হয়েছে। সে জিজ্ঞেস করলঃ আমার উপর আরও কোন নামায আছে কী? তিনি বললেনঃ তোমার উপর আর কোন নামায নেই। তবে যদি নফল নামায আদায় করতে চাও সে কথা ভিন্ন। হাদীছের শেষের দিকে রয়েছে, গ্রাম্য লোকটি বললঃ আমি এর কমও করবনা, বেশীও করবানা। নবী (সাঃ) তখন বললেনঃ লোকটি সত্যবাদী হয়ে থাকলে অবশ্যই সাফল্য লাভ করবে। (বুখারী, হাদীছ নং- ১৭৯২, মুসলিম হাদীছ নং- ১০৯) এই হাদীছ প্রমাণ করে যে, পাঁচ ওয়াক্ত নামায ব্যতীত আর কোন ফরয (ওয়াজিব) নামায নেই। তিনি আরও সংবাদ দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি এই পাঁচ ওয়াক্ত আদায় করবে, সে সফল হবে। এর বেশী আর কোন নামায আবশ্যক হওয়ার কথা বলেন নি।

৩) উদাবাদাহ বিন সাবেত (রাঃ) হতে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, একদা তাকে বিতর নামায সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেনঃ এটি একটি সুন্দর আমল। রাসূল (সাঃ) এই আমলটি করেছেন। তাঁর পরে মুসলিমগণও তা করেছেন। এটি ওয়াজিব নয়। 

এই মর্মে আরও অনেক সহীহ হাদীছ রয়েছে। যা প্রমাণ করে যে, বিতর নামায ওয়াজিব নয়।

বিতরের নামাযের নিয়মঃ

বিতর নামাযের সর্ব নিম্ন কআত সংখ্যা এক। এক রাকআত বিতর পড়ার নিয়ম হচ্ছে প্রথমে সূরা ফাতিহার পর অন্য একটি সূরা পড়ে রুকু-সিজদা সম্পন্ন করে তাশাহুদ ও দুরুদ পড়ে সালাম ফিরাবে। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের হাদীছ দ্বারা এটি প্রমাণিত।

রাসূল (সাঃ) বলেনঃ রাতের নামায দুই দুই রাকআত করে পড়তে হবে। যখন ফজর হয়ে যাওয়ার ভয় করবে, তখন এক রাকআত বিতর পড়ে নিবে। (বুখারী, হাদীছ নং- ১০৮৬)  

রাসূল (সাঃ) বলেনঃ রাতের শেষ প্রহরে বিতর নামায এক রাকআত। (সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং-১৫৩।  

আর যদি তিন রাকআত বিতর পড়া হয়, তাহলে এ ক্ষেত্রে সুন্নাত হচ্ছে দু'টি পদ্ধতির যে কোন একটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। প্রথমে দুই রাকআত পড়ে সালাম ফিরাবে। তারপর পূর্বোক্ত নিয়মে আরেক রাকআত পড়বে। মক্কা ও মদীনায় এই নয়িমটিই অনুসরণ করা হয়। দ্বিতীয় পদ্ধতি হচ্ছে মাগরিবের মত মাঝখানে বৈঠক না দিয়ে একাধারে তিন রাকআত পড়ে শেষে সালাম ফিরাবে। নবী (সাঃ) মাগরিবের নিয়মে তিন রাকআত পড়তে নিষেধ করেছেন। (হাকেম, হাদীছ নং- ১০৮৭)

বিতর নামাযে দুআ কুনুত বাধ্যতামূলক নয়। বরং তা বিতর নামাযের মতই সুন্নাত। দেখুনঃ আবু দাউদ, হাদীছ নং- ১৪২৫, তিরমিজী হাদীছ নং- ৪৬৪। (আল্লাহই ভাল জানেন। 

 

 

উত্তর দিয়েছেনঃ আবদুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী / 2014-01-07



Fatal error: Cannot redeclare EPCNTR_Go_Error() (previously declared in /home4/hadithbd/public_html/counter/counter.php:614) in /home4/hadithbd/public_html/counter/counter.php on line 637