Donate Now
কীবোর্ড সিলেক্টরঃ ফনেটিক বিজয় ইউনিজয়   ইংরেজী
হাদিস প্রশ্নোত্তর/দু'আ/গ্রন্থ প্রশ্নোত্তর (বাংলা হাদিস) গুগল হুবুহু সার্চ
 
 
Donate Now!

প্রশ্ন করেছেনঃ Sayed Mizan | তারিখঃ 2014-01-31

প্রশ্ন নম্বরঃ
176

আসসালামু-আলাইকুম!

প্রশ্ন-:

ধৈর্য ধারন করার প্রকৃত সঙ্গা কি?

আমি ধৈর্য ধারন করার মানে বুঝতেছি না।

ধৈর্য ধারন করার মানে কি সকল প্রকার জাহেলিয়াত আর ইসলাম বিরোধি কাজ মুখ বুজে সহ্য করা?

উত্তরঃ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

সবর (ধৈর্যধারণ) করার অর্থ এবং এ সম্পর্কে অন্যান্য বিষয় বুঝতে আপনাকে নিম্ন বর্ণিত প্রবন্ধটি সহায়তা করবে। জাহেলিয়াত আর ইসলাম বিরোধী কাজে মুখ বুজে সহ্য করার নাম সবর ধৈর্য ধারণ নয়। বরং যেখানেই অন্যায় কাজ হতে দেখা যাবে সেখানেই সাধ্যানুযায়ী প্রতিবাদ করতে হবে। প্রতিবাদ করতে গেলে আপনার উপর কষ্ট আসবে। যেমন এসেছিল নবী রাসূল ও তাদের অনুসারীদের উপর। যখন কষ্ট আসবে তখন আপনাকে সবর করতে হবে হবে সেই দুঃখ-কষ্ট বরদাশত করতে হবে এবং সবর ও ধৈর্যসহকারে সেই দাওয়াতী কাজ চালিয়ে যেতে হবে। 

এবার প্রবন্ধটি মন দিয়ে পড়ুন। আশা করি আপনি যে বিষয়ে জানতে চেয়েছেন, প্রবন্ধটি তা বুঝতে সহায়ক হবে।

আল্লাহর তাকদীরের (ফয়সালার) উপর ধৈর্যধারণ করা ঈমানের অঙ্গ
................................................
ব্যাখ্যাঃ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রঃ) বলেনঃ আল্লাহ তাআলা স্বীয় কিতাবে (কুরআনে) নব্বইবার সবরের (ধৈর্যের) উল্লেখ করেছেন। সহীহ হাদীছে রয়েছে, সবর হচ্ছে জ্যোতি স্বরূপ। ইমাম আহমাদ ও ইমাম মুসলিম (রঃ) এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন। 
উমার (রাঃ) বলেনঃ সবরের মাধ্যমেই আমরা সর্বোত্তম জীবন পেয়েছি। ইমাম বুখারী এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।
আলী বিন আবু তালিব (রাঃ) বলেনঃ দেহের মধ্যে মাথার স্থান যেমন গুরুত্বপূর্ণ ঈমানের মধ্যে সবরের স্থান ঠিক সে রকমই। অতঃপর তিনি আওয়াজ উঁচু করে বললেনঃ যার সবর নেই, তার ঈমানও নেই। 
জেনে রাখা দরকার যে, সবর তিন প্রকার। (১) আল্লাহর বিধান ও হুকুম-আহকাম পালন করার ক্ষেত্রে (কষ্টের উপর) সবর করা। (২) আল্লাহর নিষেধ ও হারাম কাজগুলো থেকে বিরত থাকায় সবর করা। (৩) আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত যে সমস্ত বিপদাপদ আগমণ করে তা বরদাশত করতে গিয়ে সবর করা। 
শাইখুল ইসলাম আরও বাড়িয়ে বলেনঃ শরীয়ত বিরোধী খাহেশাতের (কুপ্রবৃত্তির) অনুসরণ থেকে বিরত থাকাও সবরের অন্যতম প্রকার। 
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَه“যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ঈমান রাখে, তিনি তার অন্তরকে হেদায়াত দান করেন”। (সূরা তাগাবুনঃ ১১)
...............................................
ব্যাখ্যাঃ আয়াতের শুরুতে রয়েছে,  مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِআল্লাহর হুকুম ব্যতীত মানুষকে কোন মুসীবতই আক্রমণ করেনা। অর্থাৎ আল্লাহর ইচ্ছা ও অনুমতি ব্যতীত। যেমন অন্য আয়াতে এসেছেঃ
مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ﴾
“পৃথিবীতে এবং তোমাদের নিজেদের যেসব মুসীবত আসে তার একটিও এমন নয় যে, তাকে আমি সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ করে রাখিনি। নিশ্চয়ই এটা আল্লাহ্র পক্ষে সহজ”। (সূরা হাদীদঃ ২২) 
আলকামা (রঃ) বলেছেন, আয়াতে যার আলোচনা হয়েছে, সে হচ্ছে ঐ ব্যক্তি (মুমিন) যে বিপদ আসলে মনে করে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। এর ফলে সে বিপদগ্রস্ত হয়েও সন্তুষ্ট থাকে এবং বিপদকে খুব সহজেই মেনে নেয়।
...................................................................
ব্যাখ্যাঃ ইবনে জারীর, ইবনে আবী হাতিম এই আছারটি বর্ণনা করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতেও এটি বর্ণিত হয়েছে। 
আলকামার পরিচয় হচ্ছে, তিনি হলে আলকামা বিন কাইছ বিন আব্দুল্লাহ আন-নাখঈ আল-কুফী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর জীবদ্দশায় তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি আবু বকর, উমার, উছমান, আলী, সা’দ, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ, আয়েশা এবং অন্যান্য সাহাবী থেকে হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন তাবেঈদের মধ্যে নির্ভরযোগ্য ও বিজ্ঞ একজন আলেম। ৬০ হিজরীর পর তিনি মৃত্যু বরণ করেন। 
উপরোক্ত হাদীছ প্রমাণ করে যে, সৎ আমল ঈমানের অন্তর্ভূক্ত এবং আয়াতে এ কথার বিবরণ রয়েছে যে, সবরের অন্যতম ছাওয়াব হচ্ছে আল্লাহ তাআলা সবরকারীর অন্তরকে হেদায়াত করেন।     
সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল¬াম বলেনঃ
 ্রاِثْنَتَانِ فِيْ النَّاس هُمَا بِهِمْ كُفْرٌ الطَّعْنُ فِى الأَنْسَابِ وَالنِّيَاحَةُ عَلَى الْمَيِّتِগ্ধ
“মানুষের মধ্যে এমন দু’টি (মন্দ) স্বভাব রয়েছে যার দ্বারা তাদের কুফরী প্রকাশ পায়। একটি হচ্ছে, মানুষের সম্মান ও বংশের মধ্যে দোষ লাগানো আর অপরটি হচ্ছে মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করা” 
.........................................................
ব্যাখ্যাঃ মানুষের মধ্যে এ দু’টি আমল হচ্ছে কুফরী আমল। এ দু’টি ছিল জাহেলী যামানার আমল, যা মানুষ এখনও ছাড়তে পারেনি। আল্লাহ যাদেরকে এ থেকে বাঁচিয়েছেন, সে ব্যতীত অন্য কেউ বাঁচতে পারেনি। যার মধ্যে উপরোক্ত স্বভাব দু’টির যে কোন একটি স্বভাব রয়েছে, তার মধ্যে কুফরীর একটি স্বভাব রয়েছে বলে উল্লেখ  করা হয়েছে। কিন্তু সঠিক কথা হচ্ছে, যার মধ্যে কুফরীর কোন স্বভাব রয়েছে, সে নিরেট কাফের হয়ে যায়নি। এমনি যে ব্যক্তির মধ্যে ঈমানের কোন বৈশিষ্ট রয়েছে, সেও খাঁটি ঈমানদার হয়ে যায়নি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণীঃ ليس بين العبد وبين الكفر أو الشرك إلا ترك الصلاة এর মধ্যে আলিফ-লামযুক্ত মারেফা (নির্দিষ্ট)  الكفرশব্দটি এবং আলিফ-লাম ছাড়া নাকেরা (অনির্দিষ্ট) كفر শব্দটির মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। যেখানে كفر শব্দটির সাথে আলিফ-লাম যুক্ত হয়ে الكفر হবে, সেখানে উদ্দেশ্য হচ্ছে ইসলাম থেকে সম্পূর্ণ বের হয়ে যাওয়া। আর আলিফ-লাম ছাড়া আসলে সে রকম অর্থ হবেনা এবং সেই কুফরী মুসলিমকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়না। 
 الطَّعْنُ فِى الأَنْسَابِ মানুষের বংশে দোষ লাগানোঃ তাতে এ কথাও অন্তর্ভূক্ত যে, কারও ব্যাপারে এ কথা বলা, অমুক অমুকের পুত্র নয়। অথচ তার বংশ প্রমাণিত।
وَالنِّيَاحَةُ عَلَى الْمَيِّتِ মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করাঃ অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির জন্য ক্রন্দন করার সময় আওয়াজ উঁচু করা, মৃত ব্যক্তির ফজীলত গণনা করা এবং তা মানুষের সামনে তুলে ধরা। এ রকম করার মধ্যে আল্লাহর ফয়সালার প্রতি বিরক্তি প্রকাশ পায় এবং তা সবরের (ধৈর্যের) খেলাফ (পরিপন্থী)।
বুখারী ও মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে মারফু সূত্রে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ 
্রلَيْسَ مِنَّا مَنْ لَطَمَ الْخُدُودَ وَشَقَّ الْجُيُوبَ وَدَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِগ্ধ
“যে ব্যক্তি (মুসীবতে পড়ে) স্বীয় গালে আঘাত করে, বুকের জামা ছিড়ে এবং জাহেলী যুগের ন্যায় চিৎকার করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়”। 
.................................................................
ব্যাখ্যাঃ হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রঃ) বলেনঃ এখানে গালকে খাস (নির্দিষ্ট) করার কারণ হল, অধিকাংশ সময় মুসীবতে পড়ে মানুষ গালেই আঘাত করে। অন্যথায় চেহারার (শরীরের) অন্যান্য স্থানে আঘাত করার হুকুম একই।
وَدَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِগ্ধ জাহেলী যুগের ন্যায় চিৎকার করেঃ শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) বলেন, এখানে মৃত ব্যক্তির জন্য বিলপ করার কথা বলা হয়েছে। 
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রঃ) বলেনঃ জাহেলী যামানার চিৎকার বলতে এখানে জাতীয়তাবাদ এবং স্বগোত্রীয়বাদের দিকে আহবান করার কথা বলা হয়েছে। এমনি মাজহাব, দল এবং শাইখদের জন্য গোঁড়ামি করাও জাহেলিয়াতের আহবানের অন্তর্ভূক্ত। অনুরূপ কাউকে (কোন শাইখকে) অন্য কারও উপর প্রাধান্য দিয়ে তার দিকে আহবান করা, এর উপর ভিত্তি করেই কাউকে বন্ধু বানানো, কাউকে শত্র“ বানানো। এ সবগুলোই জাহেলিয়াতের দাওয়াতের অন্তর্ভূক্ত।
তবে উপরোক্ত বিষয়গুলো থেকে কিছু কিছু বিষয় গ্রহণ করা যেতে পারে, যখন তা সত্য হয়। যেমন মৃত ব্যক্তির জন্য ক্রন্দন করা জায়েয, যখন তা বিলাপ আকারে না হবে এবং তাতে আল্লাহর ফয়সালার উপর অসন্তুষ্টি প্রকাশ না পায়। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রঃ) সুস্পষ্ট করেই এ কথা বলেছেন।  
আনাস বিন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ 
্রإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدِهِ الْخَيْرَ عَجَّلَ لَهُ الْعُقُوبَةَ فِى الدُّنْيَا وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدِهِ الشَّرَّ أَمْسَكَ عَنْهُ بِذَنْبِهِ 
حَتَّى يُوَفَّى بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِগ্ধ
“আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর কোন বান্দার মঙ্গল করতে চান, তখন দুনিয়াতেই তার (অপরাধের) শাস্তি দিয়ে থাকেন। পক্ষান্তরে তিনি যখন তাঁর কোন বান্দার অমঙ্গল করতে চান, তখন দুনিয়াতে তার পাপের শাস্তি দেয়া থেকে বিরত থাকনে, যেন কেয়ামতের দিন তাকে পূর্ণরূপে শাস্তি দেন”।  
....................................................
ব্যাখ্যাঃ তিরমিজী ও হাকেম এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম তিরমিজী হাদীছটি বর্ণনা করার পর হাসান বলেছেন। 
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া (রঃ) বলেনঃ মুসীবত (বিপদাপদ) এক প্রকার নেয়ামত। কেননা এগুলো মানুষের গুনাহএর কাফ্ফারা স্বরূপ। মুসীবত মানুষকে সবরের শিক্ষা দেয়। বান্দা যদি মুসীবতে পড়ে সবর করে, তাহলে এর বিনিময়ে তাকে ছাওয়াব প্রদান করা হয়। সেই সাথে বিপদাপদ ও মুসীবতের কারণে বান্দাগণ আল্লাহ তাআলার দিকে ফিরে আসে, আল্লাহর সামনে নত হয় এবং মাখলুকের (সৃষ্টির) কাছে নিজের প্রয়োজন পেশ করা থেকে বিরত থাকে। মুসীবতে পতিত বান্দার জন্য আরও অনেক দ্বীনী স্বার্থ হাসিল হয়। মূলত মুসীবতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহ মিটিয়ে দেন। সুতরাং এটি বান্দার জন্য এক বিরাট নেয়ামত। 
সুতরাং জানা গেল যে, মুসীবত হচ্ছে সমস্ত বনী আদমের ক্ষেত্রেই রহমত ও নেয়ামত স্বরূপ। তবে মানুষ যদি মুসীবতে পতিত হওয়ার পর তার পূর্বের গুনাহএর চেয়ে বড় গুনাহয় লিপ্ত হয়, তাহলে তার দ্বীনের জন্য মুসীবত আরও ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনে। কেননা কতক মানুষ আছে যখন তাদেরকে অভাব-অনটনে ফেলা হয়, অসুস্থতার ফেলা হয় অথবা ক্ষুধার্ত রাখা হয়, তখন সে অধৈর্য হয়ে যায় এবং সে নিফাকী, অন্তরের রোগ ও প্রকাশ্য কুফরীতে লিপ্ত হয়। সেই সাথে ওয়াজিব আমলসমূহও ছেড়ে দেয় এবং এমন হারাম কর্মে লিপ্ত হয়, যা তার দ্বীনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। 
এই শ্রেণীর লোকদের জন্য মুসবীতে পতিত হওয়ার চেয়ে নিরাপদ থাকাই ভাল। এটি মূলত মুসীবতের কারণে নয়; বরং মুসীবতে পতিত ব্যক্তির দুর্বলতার কারণেই। পক্ষান্তরে মুসীবতে পতিত হয়ে ধৈর্যধারণকারী এবং আল্লাহর এবাদত ও আনুগত্যকারীর জন্য মুসীবত একটি নেয়ামত ও রহমত। সুতরাং জানা গেল যে, বান্দাকে মুসীবতে ফেলা আল্লাহর কাজ এবং বান্দার জন্য তা রহমত। এ জন্য আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করা উচিৎ। 
 মুসীবতে পতিত যেই ব্যক্তিকে সবর করার তাওফীক দেয়া হয়েছে, সবর তার জন্য একটি দ্বীনি নেয়ামত। গুনাহসমূহ থেকে ক্ষমা পাওয়ার সাথে সাথে তার জন্য আল্লাহ তাআলার রহমতও অর্জিত হবে। মুসীবতে পড়ে যে স্বীয় প্রভুর প্রশংসা করল, আল্লাহ তাআলা বিনিময়ে তাঁর তার উপর রহমত করবেন। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ﴾
 “তারা সে সমস্ত লোক, যাদের প্রতি আল্লাহ্র অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এসব লোকই হেদায়াতপ্রাপ্ত”। (সূরা বাকারাঃ ১৫৭) অর্থাৎ তাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হবে এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। যে ব্যক্তি পূর্ণ সবর করবে তার জন্যই ইহা অর্জিত হবে। শাইখুল ইসলামের কথা এখানেই শেষ।  
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল¬াম বলেনঃ
 ্র إِنَّ عِظَمَ الْجَزَاءِ مَعَ عِظَمِ الْبَلاَءِ وَإِنَّ اللَّهَ إِذَا أَحَبَّ قَوْمًا ابْتَلاَهُمْ فَمَنْ رَضِىَ فَلَهُ الرِّضَا وَمَنْ سَخِطَ فَلَهُ السَّخَطُ গ্ধ
“পরীক্ষা যত কঠিন হয়, পুরস্কার তত বড় হয।” আল্লাহ তাআলা যখন কোন জাতিকে ভালবাসেন, তখন সে জাতিকে তিনি পরীক্ষা করেন। এতে যে ব্যক্তি সন্তুষ্ট থাকে, তার উপর জন্য রয়েছে সন্তুষ্টি। আর যে ব্যক্তি অসন্তুষ্ট হয়, তার প্রতিও রয়েছে অসন্তুষ্টি”।  ইমাম তিরমিজী (রঃ) এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন এবং হাসান বলেছেন।
......................................................
ব্যাখ্যাঃ عِظَم শব্দটির আইন বর্ণে যের দিয়ে এবং যোয়া বর্ণে যবর দিয়ে পড়তে হবে। আইন অক্ষরে পেশ এবং যোয়া অক্ষরে সাকিন দিয়েও পড়া যায়। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রঃ) বলেনঃ নিশ্চয়ই বড় মুসীবতের ছাওয়াব বড় হবে তখনই, যখন বান্দা সবর করবে এবং ছাওয়াবের আশা করবে। মুসীবতে সবর করা অবস্থায় অন্যান্য যে সমস্ত নেকীর কাজ করা হবে তারও উত্তম বদলা দেয়া হবে। এ কথাটি খুবই সুস্পষ্ট।
 আল্লাহ তাআলা যখন কোন জাতিকে ভালবাসেন, তখন সে জাতিকে তিনি (মুসীবতে ফেলে) পরীক্ষা করেনঃ অন্য হাদীছে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলঃ
(أَىُّ النَّاسِ أَشَدُّ بَلاَءً قَالَ الأَنْبِيَاءُ ثُمَّ الأَمْثَلُ فَالأَمْثَلُ فَيُبْتَلَى الرَّجُلُ عَلَى حَسَبِ دِينِهِ فَإِنْ كَانَ دِينُهُ صُلْبًا اشْتَدَّ بَلاَؤُهُ وَإِنْ كَانَ فِى دِينِهِ رِقَّةٌ ابْتُلِىَ عَلَى حَسَبِ دِينِهِ فَمَا يَبْرَحُ الْبَلاَءُ بِالْعَبْدِ حَتَّى يَتْرُكَهُ يَمْشِى عَلَى الأَرْضِ مَا عَلَيْهِ خَطِيئَةٌ)
 “লোকদের মধ্যে কাকে সবচেয়ে কঠিন মুসীবতে ফেলা হয়? জবাবে তিনি বললেনঃ নবীগণকে। অতঃপর সর্বাধিক ভাল লোকদেরকে। এরপর অন্যান্য ভাল লোকদেরকে। ব্যক্তিকে তার দ্বীন অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। দ্বীন পালনে যদি সে মজবুত হয়, তার মুসীবতও কঠিন হয়। দ্বীন পালনে সে যদি দুর্বল হয়, তাহলে তার দ্বীন অনুযায়ীই তাকে মুসীবতে ফেলা হয়। বান্দাকে মুসীবতে ফেলে পরীক্ষা নেওয়া হতেই থাকে, এমন কি শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তকে এমন অবস্থায় রাখেন যে, সে যমীনে এমন অবস্থায় চলাফেরা করে যে, তার কোন গুনাহ্ থাকেনা।  ইমাম দারামী, ইবনে মাজাহ এবং তিরিমিজী এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজী হাদীছটি বর্ণনা করার পর হাসান সহীহ বলেছেন।  
যে ব্যক্তি সন্তুষ্ট থাকে, তার জন্য রয়েছে সন্তুষ্টিঃ অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ হতে রয়েছে তার জন্য সন্তুষ্টি। আর যে ব্যক্তি মুসীবতে পতিত হয়ে অসন্তুষ্ট হয়, তার জন্য রয়েছে আল্লাহর পক্ষ হতে অসন্তুষ্টি। এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়ঃ
১) সূরা তাগাবুনের ১১ নং আয়াতের তাফসীর জানা গেল। আল্লাহ তাআলা সেখানে বলেনঃ “আল্লাহ্র নির্দেশ ব্যতিরেকে কোন বিপদ আসেনা এবং যে আল্লাহ্র প্রতি বিশ্বাস করে (বিপদাপদ ও মুসীবতে পড়ে ধৈর্যধারণ করে এবং আল্লাহর উপর আস্থা রাখে), তিনি তার অন্তরকে সৎ পথ প্রদর্শন করেন। আল্লাহ্ সববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত”।
২) বিপদে ধৈর্য ধারণ ও আল্লাহর ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকা ঈমানের অঙ্গ।
৩) কারও বংশের প্রতি অপবাদ দেয়া বা দুর্নাম করা কুফরীর শামিল। 
৪) যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে, গাল থাবড়ায়, জামার আস্তিন ছিঁড়ে ফেলে এবং জাহেলী যুগের কোন রীতি নীতির প্রতি আহবান জানায়, তার প্রতি কঠোর শাস্তির ভয় প্রদর্শন। 
৫) আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর কোন বান্দার কল্যাণ চান এবং তাকে ভালবাসেন, তার আলামত কী, তাও জানা গেল। অর্থাৎ তিনি তখন তাঁর সেই বান্দাকে মুসীবতে ফেলেন এবং পরীক্ষা করেন।  
৬) আর আল্লাহ যখন তার কোন বান্দার অকল্যাণ চান, তার নিদর্শন কী, তাও জানা গেল। অর্থাৎ পাপ কাজ করার পরও তাকে শাস্তি দেন না; বরং তাকে নেয়ামতের মধ্যেই রাখেন।  
৭) বান্দার প্রতি আল্লাহর ভালবাসার নিদর্শন সম্পর্কে জানা গেল।
৮) আল্লাহর (ফয়সালার) প্রতি অসন্তুষ্ট হওয়া হারাম। 
৯) বিপদে আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকার ছাওয়াব।

 

উত্তর দিয়েছেনঃ আবদুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী / 2014-02-02



Fatal error: Cannot redeclare EPCNTR_Go_Error() (previously declared in /home4/hadithbd/public_html/counter/counter.php:614) in /home4/hadithbd/public_html/counter/counter.php on line 637