Donate Now
কীবোর্ড সিলেক্টরঃ ফনেটিক বিজয় ইউনিজয়   ইংরেজী
হাদিস প্রশ্নোত্তর/দু'আ/গ্রন্থ প্রশ্নোত্তর (বাংলা হাদিস) গুগল হুবুহু সার্চ
 
 
Donate Now!

প্রশ্ন করেছেনঃ md. nazmul islam | তারিখঃ 2014-01-21

প্রশ্ন নম্বরঃ
135

আস্সালামু আলামু আলাইকুম

তোমরা কিছুই চাইবেনা যদি জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালা না চান।(সুরা তাকভীর-২৯)

এর ব্যাখা বূঝিতে চাই। কেননা আমাদের দেশের একটি দায়াতি দল বলছে যা কিছু হয় তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়। মাখলুক কোন কিছুই করতে পারে না। এ কথা দ্বারা আমি জানতে চাচ্ছি, মানুষ যদি জেনা/চুরি/শির্ক করে তাহলে আল্লাহ কেন তাকে শাস্তি দিবেন? ইনশাআল্লাহ দলিল সহ ব্যাখ্যা করবেন। আল্লাহ আপনাদের উত্তম যাজা দান করুন (আমিন)

উত্তরঃ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

পৃথিবীতে আল্লাহর অবগতি ব্যতীত কিছুই হয়না। ন্যায়-অন্যায় সবই আল্লাহর অবগতিতে হয়। কিন্তু আল্লাহ তাআলা অন্যায়কে পছন্দ করেন না। তিনি ন্যায়-অন্যায় উভয় পথই দেখিয়েছেন। ন্যায় ও সত্যের পথে চলার আদেশ দিয়েছেন এবং অন্যায় পথে চলতে নিষেধ করেছেন। তিনি এও বলেছেন যে, ভাল পথে চললে পুরস্কার দিবেন আর অন্যায় পথে চললে মানুষ দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষতির সম্মুখীন হবে। আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ অমান্য করার কারণেই শাস্তি হবে। আল্লাহর ইচ্ছার কারণে নয়। মূলত বান্দা তার ইচ্ছায় যে কাজ করে, তার কারণেই পুরস্কার বা শাস্তি পাবে। যেখানে বান্দার কোন ইচ্ছা থাকেনা, সেই কাজ বান্দার দ্বারা হলে তাকে শাস্তি দেয়া হবেনা। 

আল্লাহর ইচ্ছা মূলত দুই প্রকার। একটি হচ্ছে সৃষ্টগত ইচ্ছা। অর্থাৎ দুনিয়ার সকল বস্তু এমনকি ন্যায়-অন্যায় সবই আল্লাহর সৃস্টি। তাই সবই আল্লাহর সৃষ্টির অধীন। আল্লাহর সৃষ্টিগত ইচ্ছা অবশ্যই বাস্তবায়িত হয়। এতে আল্লাহর পছন্দ ও ভালবাসা থাকুক আর নাই থাকুক। আল্লাহ সকল মানুষকে ঈমান আনয়নের আদেশ দিয়েছেন। তিনি ঈমান আনয়ন করাকে পছন্দ করেন, ভালবাসেন এবং কুফরী করাকে ঘৃণা করেন।

আল্লাহর আরেকটি ইচ্ছা হচ্ছে সৃষ্টিগত ও শরীয়তগত ইচ্ছা। এই প্রকার ইচ্ছাতে আল্লাহর পছন্দ ও আদেশ রয়েছে। সুতরাং মুমিনের ঈমান আনয়নে বাস্তবায়িত হয়েছে আল্লাহর সৃষ্টিগত ইচ্ছা ও শরীয়তগত ইচ্ছা (আদেশ)। অপর পক্ষে কাফেরের কুফরীতে ও চুরের চুরি করাতেও রয়েছে আল্লাহর সৃষ্টিগত ইচ্ছা অর্থাৎ তিনি এই কাজগুলোর সৃষ্টিকর্তা। কিন্তু তাতে তাঁর পছন্দ ও আদেশ নেই, তিনি এগুলোকে ভালোবাসেন না।

আপনাকে বুঝানোর জন্য আরেকটু পরিস্কার করে বলতে চাই। কারণ আপনার প্রশ্নটি একটু কঠিন। এটির সম্পর্ক তাকদীরের সাথে। আপনি যেই আয়াতের দিকে ইংগিত করেছেন, সেই রকম আয়াত কুরআন মজীদে অনেক রয়েছে। যা বুঝতে অনেকেই ভুল করে থাকেন।

বান্দার প্রতিটি কাজেই আল্লাহর ইচ্ছা রয়েছে। বান্দারও ইচ্ছা রয়েছে। বান্দার ইচ্ছাতেই বান্দা ভাল মন্দ সব কিছুই নির্বাচন করে। তবে বান্দার স্বতন্ত্র কোন ইচ্ছা নেই। তার ইচ্ছা আল্লাহর ইচ্ছার অনুগামী ও পরে হয়। আপনি যেই আয়াত উল্লেখ করেছেন, সেখানে এদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। আল্লাহ বান্দাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার মধ্যে ইচ্ছা শক্তিও সৃষ্টি করেছেন। যেই ইচ্ছা দ্বারা সে কাজ কর্ম করে থাকে। আল্লাহ বান্দাকে ইচ্ছা শক্তি দিয়েছেন। সেই ইচ্ছায় সে ভাল-মন্দ করে বলেই তাকে পুরস্কার বা শাস্তি দেয়া আল্লাহর পক্ষে ইনসাফ পূর্ণ হবে। 

আল্লাহ যদি বান্দার ইচ্ছা ও স্বাধীনতাকে খর্ব করতেন এবং সে যদি নিজের ইচ্ছায় কোন কিছু না করত, তাহলে তাকে পুরস্কার অথবা শাস্তি দেয়া আল্লাহর পক্ষে একটি জুলুম, বাজে ও বেহুদা কাজ বলে গণ্য হত। অথচ আল্লাহ তাআলা জুলুম ও অর্থহীন কাজ থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র।  

আমি আপনাকে আরও পরিস্কার করে বলতে চাই। মনে করুন, কারও একটি ছেলে আছে। সে অন্ধ, কানেও শুনেনা। পিতা যদি এক্ষেত্রে তার অন্ধ ও বধির ছেলেকে বলেঃ তুমি ছিনেমা দেখতে গেলে একশটি বেত মারবো। আর না গেলে একশ টাকা পুরস্কার দিব। এবার যদি ছেলে ছিনেমা দেখতে যায় এবং পিতা যদি তার ছেলের শরীরে একটি বেতও মারে, তাহলে সম্পূর্ণ অন্যায় হবে। কারণ সে চোখেও দেখেনা। কানেও শুনেনা। আর না গেলে ছেলেকে একই কারণে একশ টাকা পুরস্কার দেয়াও হবে অন্যায়। এতে বুঝা গেল স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে কাজ না করলে পুরস্কার ও শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর পরিপূর্ণ ইনসাফ বাস্তবায়িত হবেনা। 

বান্দার কাজে বান্দার যে ইচ্ছা রয়েছে তা আরও সুস্পষ্ট করে বলার জন্য আরও কিছু কথা আপনাকে বলতে চাই। মনে করুন দু্‌ইজন লোক দু'টি দুর্ঘটনায় মারা গেল। একজন গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করল। আরেকজন যানবাহনে চলা অবস্থায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মারা গেল। এখন আপনি কি বলবেন? যে আত্মহত্যা করল তাকে আপনি দোষারোপ করবেন। তাই না? কারণ সকেলেই তাকে দোষে। কারণ সে স্ব-ইচ্ছায় গলায় রশি দিয়ে অথবা বিষ পানে আত্মহত্যা করেছে। রাসূল (সাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি যা দিয়ে আত্মহত্যা করবে, তাকে কিয়ামতের দিন তা দিয়েই শাস্তি প্রদান করা হবে। কারণ সে নিজের ইচ্ছায় কাজটি করেছে। এ বিষয়ে আপনি এবং সকলেই দুনিয়াতে আল্লাহর সাক্ষী। সুতরাং পাপ কাজ করার পর কিছু মানুষ শুধু শুধু আল্লাহর ইচ্ছায় পাপ হয়েছে বলে আল্লাহকে দোষারোপ করে পাপের বোঝা আরও ভারী করছে।

এবার যেই লোকটি অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনার কবলে পড়ে কিংবা পানিতে ডুবে অথবা অগ্নিকান্ডে নিপতিত হয়ে মারা গেল, আপনি এবং দুনিয়ার মানুষ তার ব্যাপারে কি বলে? সকলেই তার জন্য আফসোস করে, দুআ করে। হাদীছের ভাষায় তাকে শহীদ বলা হয়েছে। কারণ এতে তার কোন ইচ্ছা ছিলনা। সম্পূর্ণ আল্লাহর নির্ধারণ ও ইচ্ছা অনুপাতে হয়েছে। ঐ দিকে আত্মহত্যাকারীর ক্ষেত্রে আল্লাহর (সৃষ্টি, নির্ধারণ, মহাবিশ্বের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনাগত) ইচ্ছার সাথে সাথে তার ইচ্ছাও যুক্ত হয়েছে বলেই মানুষ তাকে ঘৃণা করে এবং পরকালে রয়েছে তার জন্য কঠিন শাস্তি।

আপনাকে এ মর্মে আরেকটি ঘটনা শুনাতে চাই। আশা করি আপনাকে আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে উপকৃত করবেন। কোন খলীফার কাছে এক চোরকে আনা হল। খলীফা চোরের হাত কাটেত চাইলেন। চোর তাকদীর দ্বারা দলীল গ্রহণ করে বলতে চাইলো, আপনি আমার হাত কাটবেন কেন? আপনি কি জানেন না ভাল-মন্দ সব কিছুই হয় আল্লাহর পক্ষ হতে? সুতরাং আমি আল্লাহর ইচ্ছাতেই চুরি করেছি। আমার হাত কাটা যাবেনা।

এবার খলীফা বললেনঃ তুমি কি জাননা যে, আমিও আল্লাহর ইচ্ছা ও আদেশেই তোমার হাত কাটতে চাচ্ছি? হাত কাটায় তোমার আপত্তি কেন?

মোট কথা পাপ কাজ করে তাকদীর দিয়ে দলীল পেশ করা যথার্থ নয়। আপনি যে সমস্ত কল্যাণ অর্জন করতে গিয়ে প্রচুর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তা অর্জিত হয়নি অথবা অনিচ্ছাকৃত বিপদাপদে পড়েছেন তাতেই কেবল তাকদীর দ্বারা দলীল গ্রহণ করা এবং সবর করা আবশ্যক। কেননা এতে বান্দার কোন ত্রুটি থাকেনা। 

অন্যদিকে যে সমস্ত কাজে বান্দার ইচ্ছা যুক্ত হয়, ভাল কাজ হোক আর খারাপ কাজ হোক, তাতে বান্দা প্রশংসিত হয় কিংবা নিন্দিত হয়। 

বিষয়টি ভাল করে বুঝানোর জন্য কথা আরও রয়ে যাচ্ছে। কিছু মানুষ শুধু খামাখা পরকালের বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে তাকদীর দিয়ে দলীল দিতে চায়। বিশেষ করে এক শ্রেণীর লোক এর দ্বারা দলীল দিয়ে নিজের ইসলাম বিরোধী ও পাপকাজগুলোর পক্ষে অত্যন্ত দুর্বল ও অসার যুক্তি উপস্থাপন করতে চায়। অথচ সে দুনিয়াবী বিষয়ে  এ কথা বলেনা যে, তাকদীরে থাকলে ঘরেই আমার রিযিক চলে আসবে। কাজ করতে যাবোনা বা চাকরী করবোনা কিংবা বিদেশ যাবোনা। 

ভাল করে ভেবে দেখুন সে নিজেই স্ববিরোধীতায় লিপ্ত। একদিকে আখেরাতের কাজ না করে তাকদীর দিয়ে দলীল দিচ্ছে। আমল না করে তাকদীর নিয়ে বসে আছে। অন্যদিকে দুনিয়ার কাজে সে তাকদীরকে আকড়ে ধরে বসে থাকছেনা। ছুটছে দুনিয়ার পিছনে।

সার কথা হচ্ছে ভাল-মন্দ দু'টোই আল্লাহর সৃষ্টি। বান্দা স্ব-ইচ্ছায় দু'টোর যে কোন একটি অর্জন করে। এ জন্যই কাজটি তার দিকে সম্পৃক্ত করা হয়।  

যেটুকু বললাম আশা করি এতটুকুই যথেষ্ট হবে। সন্দেহ দূর না হলে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করা যেতে পারে। ফোনঃ ০৫০৩০৭৬৩৯০ ashahed1975@gmail.com

উত্তর দিয়েছেনঃ আবদুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী / 2014-01-23



Fatal error: Cannot redeclare EPCNTR_Go_Error() (previously declared in /home4/hadithbd/public_html/counter/counter.php:614) in /home4/hadithbd/public_html/counter/counter.php on line 637