Donate Now
কীবোর্ড সিলেক্টরঃ ফনেটিক বিজয় ইউনিজয়   ইংরেজী
হাদিস প্রশ্নোত্তর/দু'আ/গ্রন্থ প্রশ্নোত্তর (বাংলা হাদিস) গুগল হুবুহু সার্চ
 
 
Donate Now!

প্রশ্ন করেছেনঃ Md. Ibrahim Khalil | তারিখঃ 2014-01-20

প্রশ্ন নম্বরঃ
117

আসসালামু আলাইকুম।

জৈনেক ভাই আমাকে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছেন ইসলামের দাস প্রথা সম্পর্কে। প্রশ্নগুলো নিম্নরুপঃ

১. দাস  প্রথা কখন থেকে চালু হয় এবং এখনও চালু আছে কিনা?

২. দাসদের সাথে যৌনমিলন বৈধ ছিল কিনা এবং এখনও বৈধ আছে কিনা?

৩. নবী (সাঃ) এর নবুওত প্রাপ্তির পর দাস প্রথা বন্ধ হয়ে যায়। কথাটা সঠিক কিনা?

উত্তরঃ

বিসমিল্লাহ ওয়াস-সলাতু ওয়াস-সালামু আলা রসূলিল্লাহ, ওয়া'আলা আলিহি ওয়া মান ওয়ালাহ।

  1. দাস প্রথার ইতিহাস

দাস প্রথা কখন চালু হয়েছে তা কেউ বলতে পারবে না। মানুষ যখন বিভিন্ন স্থানে বসতি স্থাপন করে সভ্যতা গড়ে তোলে তখন থেকেই দুনিয়ার বিভিন্ন জাতি সমূহের মধ্যে এই প্রথার উদ্ভব হয়। নিজেদের শ্রমিকের প্রয়োজন পূরনার্থেই মূলত একদল মানুষ আরেক দলকে দাসে পরিণত করে।

বিভিন্নভাবে মানুষকে দাসে পরিণত করা হয়েছেঃ

  • যখন একটা জনপদের লোকেরা অন্য কোন জনপদের সাথে যুদ্ধে জিতত, তখন তারা বন্দীদেরকে দাসে পরিণত করত।
  • কোন জনপদে কেউ কারো বিরুদ্ধে কোন অপরাধ [যেমন চুরি]  করলে তখন  অপরাধীকে ঐ ব্যক্তির দাস বানিয়ে দেয়া হত।
  • কিছু অসাধু মানুষ হয়ত কাউকে জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে অথবা অপহরণ করে নিয়ে তাকে দাস হিসেবে বিক্রি করে দিত।

যেভাবেই হোক, দাস প্রথা বৈধ একটা সিস্টেম হিসেবে মানুষের সমাজে প্রচলিত হয়ে গিয়েছিল। এই দাসদের সাথে বিভিন্ন জাতি বিভিন্নরূপ আচরণ করেছে। কোথাও কোথাও তাদেরকে কিছু কিছু অধিকার দেয়া হত; আবার কোথাও কোথাও তাদেরকে সাধারণ পন্য-সামগ্রীর বা অন্য কোন অস্থাবর সম্পত্তির ন্যায় গণ্য করা হত।

২। ইসলামে দাস প্রথাঃ

ইসলাম যখন মুহাম্মদ (সলাওয়াতুল্লাহি ওয়া সালামুহু আলায়হি) প্রচার করা শুরু করেন তখন দাস প্রথা সমাজে চালু ছিল। ইসলাম হঠাৎ করেই এই ব্যবস্থাটাকে একটা আইন করে বন্ধ করে দেয় নি। কিন্তু ইসলামের শিক্ষা মানুষের মধ্যে সাম্যের ব্যবস্থা করে। মানুষের মধ্যে ব্যবধান করতে নিষেধ করে। ইসলাম শিক্ষা দেয় যে মানুষের মধ্যে একমাত্র ব্যবধান হচ্ছে তাক্বওয়ার। আর তাক্বওয়া বাইরে থেকে দেখা যায় না। আল্লাহ তা'আল বলেনঃ

يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ‌ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَ‌فُوا ۚ إِنَّ أَكْرَ‌مَكُمْ عِندَ اللَّـهِ أَتْقَاكُمْ ۚ إِنَّ اللَّـهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ‌

হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন। [49:13]

রসূলুল্লাহ (সঃ) নিজের বক্ষের দিকে ইশারা করে বলেছেন, "তাক্বওয়া হচ্ছে এখানে, তাক্বওয়া হচ্ছে এখানে।" [ইবন আবী শায়বা ও আহমদ, আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে]

এভাবেই ইসলাম মানুষের মধ্যকার বিভেদ দূর করার ধারণা ও শিক্ষা দিয়েছে। দাস মুক্ত করাকে ইসলাম অনেক সওয়াবের কাজ হিসেবে নির্ধারিত করেছে। এবং অনেক গুনাহের কাফফারা হিসেবে দাস মুক্ত করার বিধান দিয়েছে। দাসদের সাথে পোশাক ও খাবারের পার্থক্য না করতে নির্দেশ দিয়েছেন রসূলুল্লাহ (সঃ)। এভাবে ইসলামের স্পিরিট ছিল দাসত্বের ধারণামূক্ত একটা সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু যুদ্ধ-বিগ্রহ ও অন্যান্য সমস্যা থেকে যাওয়ায় ইসলাম এ ব্যবস্থাটিকে একটা আইন করে নিষেধ করে দেয় নি।

স্বাধীন মানুষকে দাস বানানোকে ইসলাম সম্পূর্ণরূপে নিষেধ করে দিয়েছে। যারা আগে থেকেই দাস ছিল অথবা যারা যুদ্ধে বন্দী হয়ে দাস হয়েছে তাদেরকে তখনই আইন করে স্বাধীন করে দেয়া হয় নি ইসলামে। কিন্তু ইসলামের সামাজিক আইন কানুন যখন স্থায়ী রূপ লাভ করতে থাকে তখন এ সমস্ত বিষয়ে আইন কানুনও তৈরি হতে থাকে। উমর ইবন আল-খাত্তাব (রাঃ) প্রত্যেক দাস-মালিক মুসলিমকে তাদের দাসের সাথে মুক্তির চুক্তি-পত্র লিখে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও মানুষের সাথে দাসের মত আচরণের তীব্র ভাষায় তিরষ্কার করেছেন তিনি। মিসরের গভর্ণর আমর ইবন আল-আস (রাঃ) এর ছেলে মুহাম্মদ এক মিসরীকে প্রহার করলে তিনি আমরের ছেলের কাছ থেকে প্রতিশধ গ্রহণ করেন এবং এমনকি আমরকেও (রাঃ) বেত্রাঘাত করার জন্য মিসরীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর তিনি যে কথা আমরকে লক্ষ্য করে বলেছেন তা আজতক ইতিহাসের পাতায় সোনালী হরফে লিখা হয়ে আছেঃ

متى استعبدتم الناس وقد ولدتهم أمهاتهم أحراراً؟

"কখন থেকে তোমরা মানুষদেরকে দাস বানাতে শুরু করেছ, অথচ তাদের মায়েরা তাদেরকে স্বাধীন হিসেবে প্রসব করেছে?"

তাই ইসলামের লক্ষ্য ছিল মানুষের সমাজ থেকে দাস-প্রভূর পার্থক্য ঘোচানো। সে লক্ষ্যে ইসলাম কাজ করেছে। আর সে জন্য আপনি দেখতে পাবেন আমাদের দ্বিতীয় প্রজন্মের অনেক বড় বড় মুফাসসির, ফকীহ, মুহাদ্দিস, ও অন্যান্য আলিমরা হয় নিজেরা দাস ছিলেন অথবা দাসদের সন্তান। কিন্তু উম্মাহ এদেরকে বিরাট মর্যাদার আসনে আসীন করেছে তাদের অর্জনের জন্য। তাদের পথে বাধা সৃষ্টি করে নি। অনেক সেনাপতি ছিলেন যারা ছিলেন আনুষ্ঠানিকভাবে শাসকদের দাস। আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে দিল্লী সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা কুতবুদ্দীন আইবেক ছিলেন মুহাম্মদ ঘোরীর দাস ও সেনাপতি।  মিসরের একটা পুরো শাসক শ্রেণী ছিলেন দাস বংশোদ্ভূত - এরা মামলুক হিসেবে পরিচিত। মোঙ্গলদেরকে প্রথম পরাজিত যাঁরা করেছিলেন, এঁরা ছিলেন তাঁরা।

৩। দাসদের সাথে যৌন সম্পর্কঃ

দাসদের সাথে মালিক বা মালিকার কোন যৌন সম্পর্ক নেই। দাসীদের সাথে ইসলাম মালিকদেরকে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অনুমতি দেয়। এ ক্ষেত্রে মালিক যদি কোন দাসীকে নিজের জন্য নির্দিষ্ট করে নেন তবে তার সাথে মালিককে ইসলাম স্ত্রীর ন্যায় ব্যবহারের অনুমতি দেয়। এটাও তাদের জন্য মর্যাদার একটা বিষয় ছিল। ইসলাম পূর্ব সময়ে দাসীদেরকে তাদের মালিকরা পতিতা হিসেবে ব্যবহার করে তাদের দিয়ে টাকা কামাই করত। যেহেতু তারা দাসী তাই তাদের সাথে কে যৌন মিলন করল তা নিয়েও তারা মাথা ঘামাত না। ইসলাম দাসীদের সাথে এই অবাধ যৌন ব্যবহার বন্ধ করেছে এবং শুধু মালিককে অনুমতি দিয়েছে তার দাসীর সাথে মিলনের। কারো স্ত্রীর যদি যদি কোন দাসী থাকে তার সাথে সেই স্ত্রীর স্বামী মিলিত হতে পারত না। কে কার দাস বা দাসী তা নির্দিষ্ট। তাই পিতার দাসীর সাথে ছেলে যৌন মিলন করতে পারত না। এভাবে দাসীরা যদি তাদের মালিক দ্বারা গর্ভবতী হত তবে সে হত মালিকের সন্তান এবং ওই মালিকের অন্য সব সন্তানের মতই তার উত্তরাধিকারী। অথচ এর আগে এই দাসীদের গর্ভে জন্ম নেয়া সন্তানেরাও দাস হিসেবে গন্য হত এবং কোন সামাজিক অধিকার লাভ করত না। এইভাবে ইসলাম দাসীর গর্ভে জন্ম নেয়া সন্তানদেরকে বৈধ সন্তান হিসেবে তাদের পিতাদের সাথে সম্পৃক্ত করেছে ও সামাজিক মর্যাদা দিয়েছে। এই দাসীদের সন্তানেরা অনেকে বড় বড় শাসক হয়েছেন। আব্বাসী বংশের খলীফা আল-মামূন ছিলেন তাঁর পিতা হারুন আর-রশিদের ইরানী দাসীর ছেলে। অন্যদিকে তাঁর ক্বুরাইশি স্ত্রী জ়ূবাইদার গর্ভজাত ছেলে আল-আমীন শাসক হন নি।

দাস-দাসীদেরকে বিয়ে দিয়ে দেবার জন্য তাদের মালিক এবং অভিভাবকদেরও আল্লাহ তা'আলা নির্দেশ দিয়েছেন। কোন মালিক তার কোন দাসীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন না করলে তার উচিৎ ছিল এই দাসীর অন্য কারো সাথে বিয়ে দেবার ব্যবস্থা করা। সে ক্ষেত্রে ওই দাসীর সাথে মালিকের যৌন সম্পর্ক অবৈধ।

এভাবে ইসলাম দাস-প্রথার মূল ভিত্তিতে আঘাত হেনেছে। এবং এটা স্বাভাবিকভাবে রহিত হয়ে যাবার কথা মুসলিম সমাজে। কিন্তু কিছু দুষ্ট-চক্র নিজেদের হীন-স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য মুসলিম সমাজে এ ব্যবস্থাকে চালু রেখেছিল এবং দাস-দাসীদেরকে ইসলাম প্রদত্ত অধিকার থেকেও বঞ্চিত করেছিল।

দাসপ্রথা রহিত হওয়া সংক্রান্ত আরো বিস্তারিত জানতে পড়ুন, উস্তাজ় মুহাম্মদ কুতুবের লিখা "ভ্রান্তির বেড়াজালে ইসলাম।"

উত্তর দিয়েছেনঃ আবূসামীহাহ সিরাজুল ইসলাম / 2014-01-28



Fatal error: Cannot redeclare EPCNTR_Go_Error() (previously declared in /home4/hadithbd/public_html/counter/counter.php:614) in /home4/hadithbd/public_html/counter/counter.php on line 637