Donate Now
কীবোর্ড সিলেক্টরঃ ফনেটিক বিজয় ইউনিজয়   ইংরেজী
হাদিস প্রশ্নোত্তর/দু'আ/গ্রন্থ প্রশ্নোত্তর (বাংলা হাদিস) গুগল হুবুহু সার্চ
 
 
Donate Now!

প্রশ্ন করেছেনঃ Jabir Hossain | তারিখঃ 2014-01-19

প্রশ্ন নম্বরঃ
114

Assalamualaikum. Amar prosno holo daba,carrom,tas,ludo, ai khela gulo ki islame haram, abong keno, ami jodi amni kheli arthat kono taka na logni kore tobuoo ki haram...

উত্তরঃ

যখন দাবা খেলা অভ্যন্তরীন এবং বাহ্যিক কর্তব্য সমূহ থেকে আমাদের উদাসীন রাখে তখন এটা উলামাদের সর্বসম্মতিক্রমে  হারাম – যখন এটা আমাদের কোন ফরজ কাজ করা থেকে উদাসীন রাখে যেমনঃ যদি নামায থেকে উদাসীন রাখে অথবা আমাদের নিজেদের জন্য বা আমাদের পরিবারের জন্য আবশ্যকীয় কোন কাজ করা থেকে যদি  আমাদের উদাসীন রাখে, অথবা সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ করা থেকে যদি আমাদের উদাসীন রাখে বা আত্নীয়তার বন্ধন বজায় রাখার ব্যাপারে যদি উদাসীন রাখে বা পিতামাতার সেবা যত্ন করা  থেকে যদি আমাদের উদাসীন রাখে বা যে কোন কর্তব্য যা পদমর্যাদা বা নেতৃত্বের কারনে আমাদের করা জরুরী তা করা থেকে যদি আমাদের উদাসীন রাখে তাহলে এটা উলামাদের সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। ঠিক অনুরুপ যদি এটাতে কোন হারাম কাজ জড়িত থাকে যেমন মিথ্যা বলা, মিথ্যা শপথ করা, প্রতারণা করা, অন্যায় কাজ করা বা অন্যায় কাজে সহযোগিতা করা অথবা অন্য যে কোন নিষিদ্ধ কাজ, তাহলে এটা মুসলিমদের ইজমা (সর্বসম্মতিক্রমে) অনুসারে হারাম ।

(মাজমু’ আল ফাতওয়া,৩২/২১৮,২৪০)

কিন্তু এটা যদি আমাদের কর্তব্য থেকে উদাসীন না করে এবং এতে যদি কোন হারাম জড়িয়ে না পরে তাহলে এই ক্ষেত্রে ইমামদের মধ্যে মতভেদ আছে । অধিকাংশ উলামা (ইমাম আবু হানীফাহ, মালিক, আহমাদ এবং শাফেয়ীর কিছু সাথী ) কোরান, হাদীস ও সাহাবীদের জীবনী রিসার্চ করে বলেন যে, এই ক্ষেত্রেও দাবা খেলা হারাম ।

এই ক্ষেত্রে কোরানের দলিলগুলো হলঃ

“হে ঈমানদারগন! মদ (সব ধরনের মাদকদ্রব্য) ও জুয়া , আল-আনসাব( প্রতিমা) ও আল-আজলাম (তীর যা ব্যবহার করে ভাগ্য গননা করা হয় বা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়)  হচ্ছে  শয়তানের অপবিত্র কাজ, সুতরাং এই গুলো ত্যাগ কর যাতে তোমরা সফল হতে পার।

শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শুত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামায থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখতে। অতএব, তোমরা এখনও কি নিবৃত্ত হবে না ? [সূরা মা'ইদাহ৫:৯০-৯১]

আল-কুরতুবি ( আল্লাহ উনার উপর রহম করুন ) বলেন, “এই আয়াত  নির্দেশ দেয় যে,জুয়া জড়িত থাকুক না বা থাকুক ডাইস এবং দাবা খেলা হারাম। কারন যখন আল্লাহ মদ হারাম করেন তখন তিনি এর কারনও উল্লেখ করেন, কারণটি হচ্ছে, ‘শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শুত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামায থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখতে। সুতরাং সকল ধরনের খেলা, যেগুলো সামান্য হলেও ভাগ্যের উপর নির্ভর করে এবং যেগুলো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শত্রুতা এবং বিদ্ধেষ তৈরি করে এবং যেগুলো আল্লাহর স্মরণ এবং নামায থেকে মানুষদের বিরত রাখে,সেগুলো হচ্ছে মদ পানের মত , যেটা নির্দেশ করে যে  এইগুলিও হারাম হতে হবে যেমন মদ পান করা হারাম ।“

(আল- জা'মিলি আহকাম আল-কুরান ,৬/২৯১)।

এই ব্যাপারে সাহাবীদের দৃষ্টিভংগীঃ

এক বর্ণনায় এসেছে, আলী ইবনে আবী তালিব (আল্লাহ উনার প্রতি সন্তুষ্ট থাকুক) কিছু লোককে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন যারা দাবা খেলছিল , তখন তিনি  বললেনঃ এইগুলো কিসের ছবি যেগুলোর প্রতি তোমরা নিমগ্ন থেকেছ? [cf আল-আম্বিয়া ২১;৫২] ।  ইমাম আহমাদ বলেন, দাবার বিরুদ্ধে আলী (রাঃ) এর মন্তব্যই সবচেয়ে জোরালো ।

আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ( আল্লাহ উনার প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন )  কে দাবা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে উনি বলেন, এটা ‘ডাইস’ এর চেয়েও খারাপ “

বর্তমানে ব্যাকগেমন ( যেটা একটা  নির্দিষ্ট টেবিলে খেলা হয় ) যে ধরনের খেলা ডাইসটাও অনেকটা সে ধরনের খেলা । হাদীসে এটাকে হারাম ঘোষনা করা হয়েছে ।

আবু দাউদ (৪৯৩৮) আবু মূসা আল-আশয়ারী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে , রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন , “যে ব্যক্তি ‘ডাইস’ খেলল সে আল্লাহ ও তাঁর রসূল কে অমান্য করল। “( আলবানী ‘সহীহ আবু দাউদ’ এ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন)।

মুসলিম ( ২২৬০) বর্ণনা করেন যে, আলাহর রসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন , “যে ব্যক্তি ডাইস খেলে সে তার হাত কে শুকরের রক্ত এবং গোস্ত দিয়ে মলিন করে ”। আল-নাওয়াওয়ী ( আল্লাহ উনার প্রতি রহম করুন) বলেন, ডাইস খেলা যে হারাম সেটা প্রমাণ করার জন্য ইমাম শাফেয়ী এবং অধিকাংশ  ইমামগন এই হাদীস টি   দলিল হিসেবে ব্যবহার করেন।
‘তার হাত কে শুকরের রক্ত এবং গোস্ত দিয়ে মলিন করে’ এই বাকধারা দিয়ে বুঝানো হয়েছে শুকর খাওয়াকে ,এবং এই উপমা দেয়া হয়েছে এটা বুঝানোর জন্য যে , শুকর খাওয়া যেমন হারাম ঠিক তেমন এই খেলাটাও হারাম ।

দাবা খেলা হারামের ব্যাপারে ইমামরা যা বলেছেনঃ

ইবনে কুদামাহ ( আল্লাহ উনার প্রতি রহম্ করুন) বলেন , দাবা হচ্ছে ‘ডাইস’ খেলার মত হারাম। “ ( আল-মুগনী, ১৪/১৫৫)

ইবনুল কাইয়িম (আল্লাহর উনার প্রতি রহম করুন) বলেন, “ ‘ডাইস’ খেলার অপকারিতার চেয়ে দাবা খেলার অপকারিতা বেশি, ডাইস খেলা হারাম হওয়ার পেছনে যে সব কারন আছে  তা দাবা খেলায়ও বিদ্যমান বরং ডাইসের চেয়ে এই কারন গুলো দাবা খেলায় বেশি বিদ্যমান ।

এটা মালিক এবং তার সাথীদের মত , আবু হানীফাহ এবং তার সাথীদের মত , আহমাদ এবং তার সাথীদের মত এবং এটাই অধিকাংশ তাবেয়ীনের মত । কোন সাহাবী এই খেলাকে জায়েজ বলেছেন বা এই খেলা খেলেছেন মর্মে কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। আল্লাহ তাঁদের সবাইকে এটা থেকে হেফাজত করেছেন ।     

তাঁদের কারো প্রতি এই কথা আরোপ করা যে, তিনি এই খেলা খেলেছেন, যেমনঃ আবু হুরায়রা (রাঃ) সম্পর্কে বলা হয় , তাহলে এই কথা একটি বানোয়াট এবং মিথ্যা, এমন প্রত্যেকে যারা সাহাবীদের জীবন সম্পর্কে জানে তারা এই কথাকে প্রত্যাখ্যান করে এবং যারা কোনো বর্ণনার সমালোচনার যোগ্যতা রাখে তারাও এই ধরনের কথাকে প্রত্যাখ্যান করে। কিভাবে মানবজাতির ভালমানুষগুলো এবং আল্লাহর রসূল (সাঃ) এর পর সবচেয়ে বেশি মানুষের কল্যানকামী মানুষগুলো এই ধরনের খেলাকে অনুমতি দিতে পারে যেগুলো মানুষকে আল্লাহর স্মরণ এবং নামায থেকে উদাসীন রাখে এবং যে খেলা মদের চেয়েও খারাপ হয়ে যায় যখন মানুষ এর প্রতি আসক্ত হয়ে যায় (যেটা আমরা বাস্তবে দেখি)?

কিভাবে বিধানদাতা ডাইস কে হারাম করবেন অথচ দাবাকে হালাল করবেন অথচ দাবার কুফল ঐ খেলার চেয়েও অনেক বেশি । “(আল-ফুরুসিয়াহ, ৩০৩, ৩০৫, ৩১১)

আয-যাহাবী(আল্লাহ উনার উপর রহম করুন)  বলেন, “ দাবার সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয়, অধিকাংশ উলামা এই খেলাকে  হারাম বলেছেন, এটা টাকা দিয়ে খেলা হউক বা টাকা ছাড়াই খেলা হউক । যদি এটা টাকা দিয়ে খেলা হয় তাহলে এটা নিঃসন্দেহে জুয়া ,এমনকি যদি এটা টাকা দিয়ে খেলা নাও হয় তবুও এটা জুয়া এবং হারাম অধিকাংশের উলামার মতে । আল-নাওয়াওয়ী কে দাবা খেলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল যে , এই খেলা হালাল নাকি হারাম? তিনি উত্তর দিলেন  যদি এটা টাকা দিয়ে খেলা হয় বা এটা সময়মত নামায পড়তে বাধা দেয় তাহলে এটা হারাম , অন্যথায় এটা ‘মাকরুহ’, এটা ইমাম শাফেয়ীর মত কিন্তু  অন্য ইমামদের মতে এটা হারাম (আল-কাবা-ইর, ৮৯-৯০)

আরো অধিক তথ্যের জন্য আল-জুরি (মুহাম্মাদ সা’ঈদ ইদ্রীস কর্তৃক সম্পাদিত)  এর  ‘তাহরীম আল-নারদ ওয়া’ল শাতরাঞ্জ  ওয়া’ল মালাহি ‘ বইটি পড়ুন।  আল্লাহ আমাদের রসুল মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উপর শান্তি এবং কল্যান নাজিল করুক ।

ইংরেজী থেকে অনুবাদকৃতঃ http://islamqa.info/en/14095

উত্তর দিয়েছেনঃ এ্যাডমিন , বাংলা হাদিস / 2014-01-23



Fatal error: Cannot redeclare EPCNTR_Go_Error() (previously declared in /home4/hadithbd/public_html/counter/counter.php:614) in /home4/hadithbd/public_html/counter/counter.php on line 637