• ৫৬৫১৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


ইমাম বুখারী'র সংক্ষিপ্ত জীবনী - তৃতীয় পাতা [সমাপ্ত]

বুখারী শরীফ সংকলনের পর থেকে আজ পর্যন্ত পৃথিবীর সকল দেশের সকল শ্রেণীর মুসলিম মনীষীগণ যেভাবে এর প্রতি গুরুত্বারোপ করে আসছেন আল্লাহ্‌র কালাম কুরআন মজীদ ছাড়া আর কোন গ্রন্থের প্রতি এরূপ ঝুঁকে পড়েন নি। একমাত্র ইমাম বুখারী (রঃ) থেকে নব্বই হাজারেরও অধিক সংখ্যক লোক এ গ্রন্থের হাদীস শ্রবণ করেছে। তারপর প্রত্যেক যুগেই অসংখ্য হাদীস শিক্ষার্থী এ অধ্যয়ন করে আসছে। এ গ্রন্থের ভাষ্য পুস্তকের সংখ্যাও অগণিত। এ সব এর মধ্যে হাফিয ইবন হাজার আসকালানী (র) (জ. ৭৬২ হি. মৃ. ৮৫৫ হি. )-এর ‘উমদাতুল-কারী ও আল্লামা শিহাবুদ্দীন আহমদ কাসতালানী (রঃ) (জ. ৮৫১ হি. মৃ.  ৯২৩ হি. )-এর ‘ইরশাদুস-সারী’ সমধিক প্রসিদ্ধ। এঁরা তিনজনই মিসরের অধিবাসী ছিলেন। এ ছাড়া বর্তমান যুগে সহীহ বুখারী অধ্যয়নের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা হিসেবে মওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী (রঃ) ( জ. ১২৪৪ হি. মৃ. ১৩২৩ হি.) কৃত ‘লামেউদ দারারী’ এবং মওলানা সৈয়দ আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (জ. ১২৯২ হি. মৃ. ১৩৫২ হি. ) কৃত ‘ফয়যুল বারী’ বিশেষভাবে সমাদৃত। ইমাম বুখারী (রঃ) ও তাঁর সংকলিত বুখারী শরীফের যে উচ্ছাসিত প্রশংসা ও এর উপরে যে ব্যাপক ‘ইলমী চর্চা হয়েছে তাঁর সহস্র ভাগের এক ভাগ বর্ণনা করাও এ স্বল্প পরিসরে সম্ভবপর নয়।

মুসলিম জাহানের সর্বত্র সমাদৃত এর পবিত্র হাদীশগ্রন্থ থেকে বাংলা ভাষাভাষী পাঠক যাতে সরাসরি উপকৃত হতে পারে সে লক্ষ্যেই এ সংক্ষিপ্ত ভূমিকা সহ সরল বঙ্গানুবাদ পেশ করা হল। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ থেকে আমাদের উপকৃত হওয়ার তওফীক দান করুন। আমীন।

অনুবাদ সম্পর্কে কিছু জ্ঞ্যাতব্যঃ

১। সনদের ক্ষেত্রে প্রথম রাবী এবং শেষে সাহাবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (রঃ)-- আবূ হুরায়রা (রঃ) থেকে। -----
২। সনদের যেখানে তাহবীল রয়েছে সেখানে প্রথম রাবীর সাথেই এই তাহবীলকৃত রাবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
৩। আরবী, ফার্সী, উর্দু বানানের ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত প্রতিবর্ণায়ন নির্দেশিকায় অনুমোদিত রূপটি যথাসম্ভভ গ্রহণ করা হয়েছে।
৪। সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের ক্ষেত্রে (সঃ), আলায়হিস সালাম-এর ক্ষেত্রে (আঃ), রাদীআল্লাহু তা’আলা আনহু, আনহুম ও আনহা-র ক্ষেত্রে (রঃ) এবং রাহমাতুল্লাহি আলায়হি, আলায়হিম, আলায়হা-এর ক্ষেত্রে (রঃ) পাঠ সংকেত গ্রহণ করা হয়েছে।
৫। একাধিক রাবীর নাম একত্রে এলে সর্বশেষ নামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্মানসূচক পাঠ সংকেত উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন- আনাস, আব্বাস, আবূ হুরায়রা (রঃ) ।
৬। কুরআন মজীদের আয়াতের ক্ষেত্রে প্রথম সূরা নম্বর, পরে আয়াত নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। জেমন-২: ১৩৮ অর্থাৎ সূরা বাকারার ১৩৮ নং আয়াত।

পরিশেষে সম্পাদনা পরিষদের পক্ষ থেকে ধর্ম মন্ত্রনালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশকে আন্তরিক মুবারকবাদ জ্জাপন করেছি যে, তারা এমন একটি মহান কাজের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এই মহাপ্রয়াসের সঙ্গে জড়িত সকল পর্যায়ের আলিম-উলামা-সুধী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের জন্য দু’আ করি, তিনি যেন এই ওয়াসীলায় তাঁদের ও আমাদের সকল গুনাহ-খাতা মাফ করে দেন এবং নেক জাযা দেন।

- সমাপ্ত -

আগের পাতা এখানে...