Donate Now
কীবোর্ড সিলেক্টরঃ ফনেটিক বিজয় ইউনিজয়   ইংরেজী
হাদিস প্রশ্নোত্তর/দু'আ/গ্রন্থ প্রশ্নোত্তর (বাংলা হাদিস) গুগল হুবুহু সার্চ
 
 
Donate Now!
Google Play

Google App Google Play

প্রশ্নঃ

আসসালামু আলাইকুম,

আমি আপনাদের সাইটির নিয়মিত দর্শক। এটি আমার একটি প্রিয় সাইট। আশা করি আপনারা আল্লাহর দরবারে আপনাদের কর্ম এর উত্তম প্রতিদান পাবেন।

নিচে আমার কিছু প্রশ্ন করলাম আসা করি উত্তরদিবেনঃ

১/বেতের নামাজ কত রাকাত?  ৩ রাকাত নাকি, ১ রাকাত ......তারাবীহ নামাজ কত রাকাত ২০ নাকি ১২?

২/ সহীহ হাদিস নাকি ৪ ইমাম কে আনুসরন করবো? হাদিস অনুসারে যদি ইমাম এর বক্তব্য না মেলে তাহলে কি করবো......কেউ কেউ বলে ৪ ইমাম এর একটাকে মানলেই হাদিস মানা নাকি হয়ে যাবে?

৩/আপনাদের ওয়েব সাইট এ নামাজের যে ছবি বা চিত্র দেখানো হয়েছে সেটাই রাফাআয়েন এর মাধ্যমে নামায দেখানো হয়েছে। তাহলে আমরা যারা রাফাআয়েন ছাড়া নামায় পরি তাদের নামায কি আল্লহর দরবারে কবুল হবে না?  

সহী হাদীসের আলোকে উত্তর চাই।

                                                  "আল্লহ হাফেয"

উত্তরঃ

বিসমিল্লাহ ওয়াস-সালাতু ওয়াস-সালামু আলা রসূলিল্লাহ ওয়া বা'দ।

১। বিতর

বিতর [الوتر]  সালাত রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া-সাল্লাম) বিভিন্নভাবে আদায় করেছেন। তিনি কখনও এগারো, কখনো নয়, কখনো সাত, কখনো পাঁচ, আবার কখনো তিন রাকা'আত আদায় করেছেন। সহীহ মুসলিমের এক বর্ণনা নিম্নরূপঃ

"সা'দ ইব্ন হিশাম ইবন আমির বর্ণণা করেন যে তিনি আ'ইশাকে (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, "হে বিশ্বাসীদের মাতা। আপনি আমাকে রসূলুল্লাহর (সঃ) বিতর সালাত সম্পর্কে বলুন। তিনি (রাঃ) বললেন, "আমি তাঁর (সঃ) মিসওয়াক ও অজুর পানি প্রস্তুত করতাম; আর আল্লাহ রাতে যখন চাইতেন তখন তাঁকে (সঃ) জাগিয়ে দিতেন। তিনি মিসওয়াক করতেন ও অজু করতেন। এরপর তিনি নয় রাকা'আত সালাত আদায় করতেন যাতে তিনি অষ্টম রাকাআতের আগে বসতেন না। এতে তিনি আল্লাহর স্মরণ করতেন, তাঁর প্রশংসা আদায় করতেন ও তাঁর কাছে দু'আ করতেন। এরপর তিনি সালাম না বলেই উঠে গিয়ে নবম রাকা'আত আদায় করে বসতেন। এতে তিনি আল্লাহর স্মরণ করতেন, তাঁর প্রশংসা আদায় করতেন ও তাঁর কাছে দু'আ করতেন এবং এরপর আমাদের শোনার মত উচ্চঃস্বরে সালাম বলতেন। এরপর তিনি দু'রাকা'আত পড়ে আবার বসে তারপর সালাম ফিরাতেন। এই হল মোট এগার রাকা'আত। হে বৎস! রসূলুল্লাহ (সঃ) এর যখন বয়স ও ওজন বেড়ে যায় তখন তিনি সাত রাকা'আতে বিতর করতেন এবং আরো দুই রাকা'আত পড়তেন [অর্থাৎ তিনি ৬ষ্ঠ রাকা'আতে বসে তাশাহহুদ পড়ে সালাম না ফিরিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে ৭ম রাকা'আত পড়ে তারপর বসে তাশাহহুদ ও দরুদ এবং দু'আ পড়ে তারপর সালাম ফিরাতেন এবং এরপর দুই রাকা'আত পড়তেন]। এই হল নয় রাকা'আত।" [আল-মুনজিরীর মুখতাসার সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৯০, মূল কিতাবের হাদীস নং ৭৪৬]

আয়িশা (রাঃ) থেক বুখারীতে এসেছে তিনি (সঃ) চার রাকা'আত চার রাকা'আত পড়তেন এরপর তিন রাকা'আত পড়তেন।

অন্যদিকে রসূলুল্লাহ (সঃ) সাহাবীদেরকে রাতের সালাত শিক্ষা দেয়ার সময় বলেছেন, রাতে দুই দুই রাকাত করে সালাত আদায় করতে এবং এরপর কেউ সকাল হয়ে যাবার আশংকা করলে যেন এক রাকাত দিয়ে বিতর করে নেয়। [বুখারী ও মুসলিমে ইবনে উমর রাঃ থেকে।]

এজন্য বিতরের ব্যাপার হচ্ছে কেউ রাতের সালাত দুই রাকাআত করে পড়তে থাকবে এবং পরিশেষে এর সাথে এক রাকা'আত যোগ করে বিতর করবে। এটা শুধু এক রাকাত সালাত নয়। আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) দুই রাকাত পড়ে সালাম ফিরাতেন এরপর কাউকে হয়তো কোন নির্দেশ দিতেন এবং এরপর এক রাকা'আত পড়তেন।

তারাবীহ

তারাবীহর রাকাআত নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে। রসূলুল্লাহ (সঃ) রমজানে বা রমজানের বাইরে এগার রাকা'আতের বেশি পড়েন নি বলে আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা এসেছে। আবার আমাদের উপরে বর্নিত হাদীস থেকে দেখতে পাই রসূলুল্লাহ (সঃ) সাহাবীদেরকে রাতের সালাত দুই দুই করে আদায় করতে বলেছেন এবং ভোর হবার আশঙ্কা করলে এক রাকাত দিয়ে বিতর করতে বলেছেন। অর্থাৎ তিনি কোন রাকা'আত নির্দিষ্ট করেন নি। পরবর্তী কালের লোকেরা উমর ইবন খাত্তাবের (রাঃ) সময়ে ২১  রাকা'আত [২০+১] বা ২৩ রাকা'আত [২০+৩]  পড়েছে। আবার মদীনাবাসী উমর ইবন আব্দুল আজীজ [রহিমাহুল্লাহ] এর নেতৃত্বে ৩৯ রাকাআত [৩৬+৩] আদায় করেছে। দীর্ঘকাল ধরে উম্মাহ ২৩ রাকাতই পড়ে এসেছে। এগার রাকা'আত রসূলুল্লাহ (সঃ) এর ব্যক্তিগত আমল যাতে তিনি দীর্ঘ তিলাওয়াত করতেন এমনকি ফজর হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে যেত। আবার যেহেতু তিনি লোকদের জন্য কোন রাকা'আত নির্দিষ্ট করেন নি তাই লোকদের সুবিধার জন্য কিয়ামকে সংক্ষিপ্ত করে রাকা'আত বাড়িয়ে উমর (রাঃ) উবাই ইবন কা'আব (রাঃ) নেতৃত্বে ২৩ রাকা'আতের ব্যবস্থা করেছেন। এজন্য এটাকে ছেড়ে দেয়া উচিৎ।  যারা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে এক রাকা'আতে রসূলুল্লাহর (সঃ)  মত দীর্ঘ তিলাওয়াত করতে পারবে  মনে করে তারা তাঁর মত ১১ রাকা'আত পড়ুক। আর যারা উমরের (রাঃ) সময়ে সাহাবাদের ইজমার ভিত্তিতে ২১/ ২৩ পড়েছে তারা সেভাবে পড়ুক। যে যেভাবে আদায় করে তাদের সেভাবে আদায় করতে দিন।

আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে নীচের লিঙ্কে যানঃ

http://islamqa.info/en/82152

২। হাদীস না ইমাম

একজন সাধারণ মানুষ ফিক্বহের ক্ষেত্রে অবশ্যই ইমামদের অনুসরণ করবে, কারণ তাঁরা উলুল আমর।  কিন্তু কোন ইমামের ফয়সালা সহীহ সুন্নতের বিপরীত হলে সে ক্ষেত্রে একজন মু'মিন সুন্নতকেই অনুসরণ করবে। শাহ ওয়ালীউল্লাহ (রহিঃ) এ ব্যাপারে সুন্দর কথা বলেছেনঃ "তোমরা কি জানো না যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা বলেছেন, সেটিই একমাত্র হুকুম ? তোমাদের অধিকাংশ লোকের অবস্থা হলো যে, নবীর কোনো হাদীস যখন তাদের নিকট পৌঁছুয়, তখন তারা তার ওপর আমল করে না। তারা বলেঃ আমরা তো অমুক মযহাবের ওপর আমল করি , হাদীসের ওপর নয়। অতঃপর তারা বাহানা পেশ করে যে, জনাব! হাদীস বুঝা ও সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা বিশেষজ্ঞ ও পূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী লোকদের কাজ, তা ছাড়া এ হাদীসটি পূর্ববরতী ইমামগণের দৃষ্টিসীমার বাইরে ছিল না নিশ্চয়ই। তাহলে তাদের এ হাদীসটি পরিত্যাগ করার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো কারণ থাকবে। জেনে রেখ! এটি আদৌ দ্বীনের পথ নয়। যদি তোমরা তোমাদের নবীর (স) প্রতি ঈমান এনে থাকো, তাহলে কোনো মযহাবের বিপক্ষে বা স্বপক্ষে যাই হোক না কেন, তাঁর ইত্তেবা করো।….’’

৩। রফ'উল ইয়াদাইন

সালাতে রফউল ইয়াদাইন করা প্রমাণিত। কিন্তু কখন করতে হবে এ নিয়ে রয়েছে মতভেদ। সালাতে রুকুতে যাওয়া ও রুকু থেকে উঠার সময় রফ'উল ইয়াদাইন করা সুন্নত। এটা আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) সহ আরো বেশ কিছু সাহাবা থেকে প্রমাণিত। অন্যদিকে আব্দুল্লাহ ইবন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে শুধু তাকবীর তাহরিমার সময় রফ'উল ইয়াদাইন করার কথা বর্ণনা করা আছে। যে রুকুতে যাওয়া ও এ থেকে উঠার সময়  রফউল ইয়াদাইন করল সে একটা  সুন্নত আমলের সওয়াব লাভ করল। কেউ রফউল ইয়াদাইন না করলেও তার সালাত আদায় হবে এবং তা কবুলযোগ্য। তবে সে কিছু সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। মনে রাখতে হবে রফউল ইয়াদাইন সালাতের কোন রুকন নয়। সে সমস্ত সালাত কবুলযোগ্য নয় যার ফরজ ও ওয়াজিব লংঘন করা হয়েছে।

 
Type the characters you see in the picture below.