Donate Now
কীবোর্ড সিলেক্টরঃ ফনেটিক বিজয় ইউনিজয়   ইংরেজী
হাদিস প্রশ্নোত্তর/দু'আ/গ্রন্থ প্রশ্নোত্তর (বাংলা হাদিস) গুগল হুবুহু সার্চ
 
 
Donate Now!
Google Play

Google App Google Play

প্রশ্নঃ

আসসালামু আলাইকুম,

একটা মেয়ের সাথে আমার সম্পর্ক ছিল। আমি মেয়েটিকে কথা দিয়েছিলাম যে যদি কখনো বিয়ে করি তবে তাকেই করব ,অন্য কাওকে নয়।

আমরা পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে দুজন দুজনাকে স্বামী স্ত্রী হিসেবে অঙ্গীকার বদ্ধ হই।কিন্তু আমাদের মধ্যে কোন সাখখি ছিল না।আমাদের মধধে শারীরিক সম্পর্কও হয়েছে।আমার চাচা একজন মুফতি।তিনি আমাকে বলেন যে আমাদের বিয়ে হইনি,কিন্তু সে মেয়েটিকে একবার বলেছে আমাদের বিয়ে হয়নি  আবার একবার বলেছে যে আমি তাকে তালাক দিয়ে দিব।বরতমানে আমাদের মধধে কোন রকম যোগাজোক নাই। আমারা এখন দুজনী ইসলামি বিধান মেনে চলি,এবং আমরা আমাদের আগের জীবন জাপনের জন্য আল্লাহ্‌র কাছে তওবা করেছি।আমি এখন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, দাড়ি রাখি যেটা  আগে করতাম না।সেও এখন নামাজ পড়ে ,পরদা করে।কিন্তু সে যে কোন মুল্লে আমাকেই স্বামী হিসেবে পেতে চায়।তার বিয়ের বয়স হয়েছে অনেক আগেই ,আর আমি এখনও উপার্জন করি না।তাছারা আমার চাচা এবং আমার পরিবার চায়না আমি তাকে বিয়ে করি।কিন্তু সে বলে যদি সে আমাকে ছাড়া অন্য কাওকে বিয়ে করে তাহলে সেটা হবে তার মনের বিরুধধে,আর তার নিজের উপর জুলুম করা হবে এবং জাকে বিয়ে করবে তাকেও ঠকান হবে।তার বিশ্বাস আল্লাহ্‌ চাইলে আমাদের মিলন সম্ভব পুনরায় বিয়ের মাধ্যমে।এবং সে আল্লাহ্‌র কাছে এর জন্য দোয়াও করে,সে যেকোনো পরিস্থিতিতে আমার সাথেই থাকতে চায়,।সে ধৈর্য সহকারে(সকল পাপ কাজ থেকে বিরত থেকে)আমার জন্য অপেখখা করতে চায়।সে বলে আমি যদি তাকে বিয়ে না করি তাহলে সে আল্লাহ্‌র এছছাএ সারা জীবন একা থাকবে। এখন আমার প্রশ্ন হল ঃ ১/ আমাদের সম্পর্কটা কি আসলেই বৈধ নাকি অবৈধ ?যদিও আমাদের মধধে এখন কোন যোগাযোগ নেই। যদি অবৈধ হয় তাহলে আমাদের কি করা উচিত?

  ২/ মেয়েটি যদি তার মনের বিরুধধে, শুধু মাত্র বাবা মার কথা রাখতে অন্য কাওকে বিয়ে করে, যদিও সে আমার সাথে অঙ্গীকার বধধ সেটা  কি ঠিক হবে ?এ ক্ষেত্রে কথা রাখার গুরুত্ব কততুকু?

৩/ সে যে আমাদের পুনরায় বিয়ের জন্য আল্লাহ্‌র কাছে  দোয়া করে সেটা কততুকু জায়েজ ?

৪/আমি যদি মেয়েটিকে বিয়ে না করি,আমার দেয়া কথা না রাখি বা কোরআন ছুয়ে করা অংগিকার পালন না করি তাহলে কি আমার গুনা হবে? এবং আমার কারনে যদি মেয়েটি ক্ষতি গ্রস্ত হয়, এবং কখনো বিয়ে না করে,আমাকে ক্ষমা না করে তাহলে কি আমি তার গুনাগার হব? যদি বাবা মায়ের এছছাই অন্য কোন মেয়েকে বিয়ে করি তাহলে কি তার প্রতি অন্যায় কারা হবে?

৫/ এক্ষেত্রে আমি কি সিধধান্ত নিতে পারি? দয়া করে আমার প্রশ্নের উত্তর গুলো জানিয়ে আমাকে সঠিক সিধধান্ত নিতে সাহায্য করবেন।আমি কোন ভাল মাধ্যম পাচ্ছিলাম না যে আমাকে সঠিক সিধধান্ত নিতে সাহায্য করবে তাই আমি আপনাদের কাছে জানালাম।আপ্নারা আপনাদের সাইটে আমার উত্তর গুলো দিতে পারেন অথবা আমাকে ইমেইল করতেও পারেন।তাহলে আমি খুবি উপক্রিত হব।

   

উত্তরঃ

(১) আপনারা দুজন পরস্পরের সাথে যে ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে দুজন দুজনাকে স্বামী স্ত্রী হিসেবে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন তা সম্পূর্ণ অবৈধ। ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম। কেননা কুরআন ছুঁয়ে শপথ করে কখনো স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক গড়া যায় না। এর জন্যে আবশ্যক হচ্ছে ইসলামী নিয়মে অভিভাবকের অনুমতিতে বা তার উপস্থিতিতে ইজাব ও কবুলের মাধ্যমে দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ স্বাক্ষী রেখে মোহরানা নির্ধারণ করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। 

রাসূল সা. বলেছেন, “অভিভাবক ব্যতীত কোন বিবাহ নেই।” (তিরমিযিী) তিনি আরো বলেন, “যে নারী নিজে নিজের বিবাহ করবে তার বিবাহ বাতিল বাতিল বাতিল।” (আবু দাউদ, তিরমিযি, ইবনে মাজাহ)

(২) যেহেতু আপনাদের ওটা বিবাহই হয়নি, তাই শারীরিক সম্পর্ক বা সহবাস ব্যভিচরা হিসেবে গণ্য হবে।

(৩) যেহেতু আপনাদের বিবাহই হয়নি তাই এক্ষেত্রে তালাকের কোন প্রশ্নই উঠে না।

(৪) ঐ মেয়েটিকে যদি তার পিতামাতা একজন সৎ ও দ্বীনদার ছেলের সাথে বিবাহ দেয়, তবে তার জন্য ওয়াজিব হচ্ছে পিতামাতার কথা মেনে নেয়া। তাদের নাফরমানী না করা।

(৫) আপনাদের উভয়ের উপর আবশ্যক হচ্ছে ব্যভিচারের অপরাধ থেকে খাঁটিভাবে আল্লাহর কাছে তাওবা করা। আর পরস্পরের সাথে কোনরূপ যোগাযোগ প্রিতষ্ঠিত না রাখা।

(৬) যদি প্রস্তাবের মাধ্যমে আপনাদের মধ্যে বিবাহ দেয়া সম্ভব হয়, তবে শরীয়তে তা নাজায়েয নয়। এই উদ্দেশ্যে আপনারা আল্লাহর কাছে দুয়া করলে তাও নাজায়েয নয়।

(৭) যেহেতু আপনাদের পরস্পরের মাঝে অঙ্গিকারের বিষয়টি শরীয়ত সম্মত নয়, তাই তা রক্ষা করার কোন গুরুত্ব নেই। 

(আল্লাহই সঠিক জ্ঞান রাখেন, তিনি যেন আমাদের সকলের চরিত্রকে হেফাযত করেন)

 
Type the characters you see in the picture below.