Donate Now
কীবোর্ড সিলেক্টরঃ ফনেটিক বিজয় ইউনিজয়   ইংরেজী
হাদিস প্রশ্নোত্তর/দু'আ/গ্রন্থ প্রশ্নোত্তর (বাংলা হাদিস) গুগল হুবুহু সার্চ
 
 
Donate Now!
Google Play

Google App Google Play

প্রশ্নঃ

আমাদের বর্তমান প্রচলিত বিয়েশাদী ও এইসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ কতটা শরীয়তসম্মত। বিশেষ করে নিম্নের বিষয়গুলির বেপ্যারে শরীয়ত কি বলে?
১. গায়ে হলুদ ও এর কার্যাবলী
২. বিয়ের কয়েকদিন আগে থেকেই অতসবাতি, গানবাজনা, আলোকসজ্জা
৩. বিয়ের অনুষ্ঠানে গানবাজনা, ছেলেমেয়ের মেলামেশা (শেজেশুজে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন), একসাথে (ছেলেমেয়ে) টেবিলে বসে খাওয়াদাওয়া
৪. এইরূপ অনুষ্ঠানে যোগদানের বেপারে শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কি?
 
পরিশেষে এইসবের বেপারে আল্লাহর রাসুল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)  এর বিধানগুলির উল্লেখ করে বাধিত করবেন।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথের সন্ধান দিক।  
 

উত্তরঃ

বিসমিল্লাহ ওয়াস-সালাতু ওয়াস-সালামু আলা রসূলিল্লাহ ওয়া আলা আলিহি ওয়া মান ওয়ালা।

বিয়ের দুটো দিক আছে। একটা হচ্ছে শর'ঈ দিক; আরেকটা হল সামাজিক সাংস্কৃতিক দিক। শর'ঈ দিকটা নিতান্তই কুর'আন ও সুন্নাহ নির্গত। অন্যদিকে সামাজিক-সাংস্কৃতিক দিকগুলো বিভিন্ন স্থান ও কালের প্রেক্ষিতে মুসলিমদের বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির আলোকে বিকাশ লাভ করেছে। ইসলাম মানুষের সংস্কৃতিকে পরিশীলিত করতে এসেছে। কোথাও কোথাও ইসলাম পূর্ব থেকে চলে আসা কিছু সাংস্কৃতিক উপাদানকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দিয়েছে, কোথাও কোথাও এগুলোর কিছু পরিশোধন করে চালু রেখেছে এবং কোথাও কোথাও এগুলোকে সম্পূর্ণ রূপে বহাল রেখেছে। 

গায়ে হলুদ বা হেন্না/মেহেন্দী পার্টি বিয়ের একটা সামাজিক সাংস্কৃতিক দিক। শরীয়তের সীমার মধ্যে থেকে যদি এ পার্টি করা হয় তাহলে ইসলামের এতে কোন আপত্তি নেই। এতে ছেলে বা মেয়েকে এমন কেউ হেন্না/মেহেন্দী বা হলুদ লাগাবে না যারা তাদের মাহরাম [এমন আত্মীয় যাদের সাথে বিয়ে নাজায়েজ় ] নয়। ছেলেকে ছেলের মা, বোন, খালা, ফুপু, দাদী, নানী, ইত্যাদি মাহরাম আত্নীয়ারা হলুদ লাগাতে পারেন। অন্য কোন গায়র মাহরাম আত্মীয়া যেমন ভাবী, খালাত/চাচাত/মামাত/ফুপাত বোন অথবা অনাত্মীয়া অথবা মেয়ের পক্ষের কোন গায়র মাহরাম আত্মীয়া বা অনাত্মীয়া [যেমন মেয়ের ভাবী/বোন ও অন্যান্য এরকম যারা] কেউ হলুদ লাগাবে না। একই ভাবে মেয়েকেও কোন ধরণের কোন গায়র মাহরাম পুরুষ আত্মীয় বা অনাত্মীয় হলুদ বা হেন্না/মেহেন্দী লাগাবে না। তবে বাপ, চাচা, মামা, ভাই, ভাতিজা বা বোনপুত লাগাতে পারে। একই ভাবে খেয়াল রাখতে হবে এ জন্য বড় রকমের খরচ করে কোন অনুষ্ঠান করা ইসলামে অর্থহীন কাজ।

বিয়ের কদিন আগে থেকেই গান বাজনা, আলোকসজ্জা, ইত্যাদি অর্থহীন কাজ। ইসলামে এগুলোর কোন শর'ঈ মর্যাদা নেই।

ইসলামে বিয়ে হতে হবে সহজ। বিয়ের জন্য শরীয়ত থেকে যা প্রমাণিত তা হলঃ ছেলে ও মেয়ের রাজী হওয়া, মেয়ের অভিভাবকের অনুমতি, দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম স্বাক্ষী, মেয়ে রাজী হয়েছে এমন পরিমান মাহর [দেন মোহর]। এগুলো থাকলেই বিয়ে সম্পন্ন হবে। সেখানে কোন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম খুতবাহ পড়বে। এতেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়ে যাবে। এরপর শরীয়তে আরো একটা বিষয় আমরা দেখতে পাই। আর তা হল ওয়ালিমা [বিবাহোত্তর ভোজ], যা বিয়ের একটা সুন্নত। স্ত্রীর সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের পর স্বামী এই ওয়ালিমার আয়োজন করবে।  রসূলুল্লাহ (সঃ) যখন জানলেন আব্দুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ) বিয়ে করেছেন তখন তিনি তাকে ওয়ালিমা দিতে বলেছেন, এমনকি একটা ছাগল/ভেড়া দিয়ে হলেও। [আল-বুখারী]।আমাদের দেশে বিয়ের দিন মেয়ের বাপের পয়সায় যে খাওয়া দাওয়া করা হয় তার বিধান আমাদের শরীয়তে নেই। শরীয়তে খাওয়া/দাওয়ার অনুষ্ঠান সম্পর্কে যা আছে তা হল ওয়ালিমা। আর ওয়ালিমা দেয়ার দায়িত্ব যে বিয়ে করেছে তার। তাকে তার অভিভাবকগণ সাহায্য করতে পারেন।

ওয়ালিমার দিন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেতে পারে, যাতে মেহমানদের দা'ওয়াত দেয়া হবে। মেহমানরা এতে সেজে-গুজে আসলে কোন সমস্যা নেই। সাজা-গুজার মানে এই নয় যে নারীরা জাহিলী-যুগের ন্যায় সৌন্দর্য প্রদর্শন করবে এবং পুরুষরা নারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের নিয়্যত রাখবে। মেহমানরা নারী-পুরুষ সবাই হতে পারে। তবে গায়র মাহরাম নারী-পুরুষের অবাধ মিশ্রণ যাতে হয়ে না যায় সে দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। গায়র-মাহরাম কোন পুরুষ বা মহিলার একই টেবিলে বসে খাওয়া নিঃসন্দেহে গর্হিত কাজ হবে। তবে মাহরাম নারী ও পুরুষরা একই টেবিলে বসতে পারে।

 
Type the characters you see in the picture below.