• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


মাস'আলা / মাসায়েল - প্রশ্নোত্তর

(৫০৪) ওমরা শেষ করার পর ইহরামের কাপড়ে নাপাকী দেখতে পেলে কি করবে?

কোন মানুষ ওমরার তওয়াফ ও সাঈ শেষ করার পর যদি ইহরামের কাপড়ে নাপাকী দেখতে পায়, তবে তার তওয়াফ বিশুদ্ধ, সাঈ বিশুদ্ধ তথা ওমরা বিশুদ্ধ। কেননা কারো কাপড়ে যদি তার অজানাতে কোন নাপাকী লেগে থাকে অথবা জানে কিন্তু তা পরিস্কার করতে ভুলে যায় এবং সেই কাপড়ে নামায আদায় করে, তবে তার নামায বিশুদ্ধ। অনুরূপভাবে ঐ কাপড়ে যদি তওয়াফ করে তবে তওয়াফও বিশুদ্ধ। একথার দলীল আল্লাহ্‌র বাণীঃ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا “হে আমাদের পালনকর্তা আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুলক্রমে কোন কিছু করে ফেলি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না।” (সূরা বাক্বারাঃ ২৮৬) এটি একটি সাধারণ দলীল। ইহা ইসলামের বিরাট ও গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি। এখানে একটি বিশেষ দলীল আছে, একদা রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে জুতা পরিহিত অবস্থায় ছালাত আদায় করছিলেন। হঠাৎ তিনি জুতা খুলে ফেললেন। লোকেরাও জুতা খুলে ফেললেন। নামায শেষ করে তিনি তাদেরকে বললেন, “তোমাদের কি হয়েছে? কেন তোমরা জুতা খুলে ফেললে? তারা বললেন, আপনি জুতা খুলে ফেলেছেন, আপনার দেখাদেখি আমরাও জুতা খুলে ফেললাম। তিনি বললেন, “জিবরীল (আঃ) এসে আমাকে সংবাদ দিলেন যে, আমার জুতায় নাপাকী আছে। তাই আমি ইহা খুলে ফেলেছি।” কিন্তু নবী (সাঃ) নতুন করে আর নামায আদায় করলেন না। অথচ তাঁর নামাযের প্রথম দিকের কিছু অংশ নাপাকী নিয়েই হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা জানতেন না। অতএব ভুলক্রমে অথবা না জানার কারণে কেউ যদি কাপড়ে নাপাকী নিয়ে নামায আদায় করে বা তওয়াফ করে তবে তা বিশুদ্ধ হবে।

একটি মাসআলাঃ কোন মানুষ যদি ছাগলের গোশত মনে করে উটের গোশত খায় এবং এ ভিত্তিতে ওযু না করেই ছালাত আদায় করে। যখন বিষয়টি সে জানবে তখন তাকে কি নামায পুনরায় পড়তে হবে? হ্যাঁ, ওযু করে তাকে নামায পুনরায় পড়তে হবে।

কেউ যদি প্রশ্ন করে, এটা কেমন কথা অজ্ঞতা বশতঃ নাপাকী নিয়ে নামায আদায় করলে তা দোহরাতে হবে না; কিন্তু অজ্ঞতা বশতঃ উটের গোশত খেয়ে ওযু না করে নামায আদায় করলে তা দোহরাতে হবে?

এর জবাবঃ একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি (ঃযবড়ৎু) হচ্ছে, [নির্দেশ মূলক বিষয় অজ্ঞতা ও ভুলের কারণে রহিত হয় না। কিন্তু নিষিদ্ধ বিষয় অজ্ঞতা ও ভুলের কারণে রহিত হয়ে যায়।] এই মূলনীতির দলীল হচ্ছেঃ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বাণীঃ তিনি বলেন, “কোন ব্যক্তি যদি নামায আদায় না করে ঘুমিয়ে থাকে বা ভুলে যায়, তবে স্মরণ হলেই সে যেন উহা আদায় করে নেয়।” কোন এক সময় নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভুলক্রমে দু’রাকাত নামায পড়ে সালাম ফিরিয়ে দিলেন, বিষয়টি তাঁকে স্মরণ করানো হলো, তিনি তখন শুধুমাত্র ছুটে যাওয়া দু’রাকাতই আদায় করলেন। এথেকে বুঝা যায় নির্দেশিত বিষয় ভুলে যাওয়ার কারণে রহিত হয় না। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদেশ করেছেন নামায ভুলে গেলে স্মরণ হলেই আদায় করে নিতে হবে। তা ছেড়ে দেয়া যাবে না।

অনুরূপভাবে অজ্ঞতার কারণে নির্দেশ মূলক রহিত হয় না তার দলীল হচ্ছে, জনৈক ব্যক্তি এসে খুব তাড়াহুড়া করে নামায আদায় করলো, তারপর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিকট এসে সালাম দিলো, তিনি তাকে বললেনঃ ফিরে যাও আবার নামায আদায় করো, কেননা তুমি নামাযই আদায় করো নি। এভাবে তিন বার তাকে ফেরালেন। প্রতিবারই সে নামায আদায় করে তাঁর কাছে আসলে তিনি তাকে বললেন, “ফিরে গিয়ে নামায আদায় কর। কেননা তুমি নামাযই আদায় করো নি।” শেষ পর্যন্ত নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে নামায শিখিয়ে দিলেন, ফলে সে বিশুদ্ধ পদ্ধতিতে নামায আদায় করল। এই লোকটি নামাযের গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব ‘ধীরস্থিরতা’ অজ্ঞতার কারণে পরিত্যাগ করেছিল। সে বলেছিল, ‘শপথ সেই সত্বার যিনি আপনাকে সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, আমি এর চাইতে সুন্দর ভাবে নামায আদায় করতে জানি না। আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন।’ অজ্ঞতার কারণে যদি ওয়াজিব রহিত হয়ে যেত, তবে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার ওযর গ্রহণ করতেন এবং বারংবার তাকে নামায পড়তে বলতেন না।