• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


মাস'আলা / মাসায়েল - প্রশ্নোত্তর

(৫০০) অনেক তওয়াফকারীকে দেখা যায় ভীড়ের মধ্যে ঠেলে ঠেলে তাদের নারীদেরকে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করার জন্য পাঠায়। তাদের জন্য কোনটি উত্তম হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা? নাকি পুরুষদের ভীড় থেকে দূরে অবস্থান করা।

প্রশ্নকারী যখন এই আশ্চর্য বিষয় দেখেছে, আমি এর চাইতে অধিক আশ্চর্য জনক বিষয় দেখেছি। আমি দেখেছি কিছু লোক ফরয নামাযানে- এক দিকে সালাম ফেরানো হলে দ্বিতীয় সালাম ফেরানোর পূর্বে হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করার জন্য দৌড় দেয়। এতে তো তার ফরয নামাযই বাতিল হয়ে গেল। যে নামায কিনা ইসলামের অন্যতম প্রধান রুকন। অথচ সে এমন একটি কাজ করতে ছুটেছে যা ওয়াজিব নয়। এমনকি তওয়াফ অবস্থায় না থাকলে হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা শরীয়ত সম্মতও নয়। নিঃসন্দেহে এটি একটি বিরাট ধরণের দুঃখ জনক অজ্ঞতা। তওয়াফ ছাড়া হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা সুন্নাত নয়। এব্যাপারে আমার কোন দলীল জানা নেই। আমি এই স্থান থেকে আহ্বান জানাচ্ছি যে, আমার জ্ঞানের বাইরে যদি কারো কাছে এমন কোন দলীল জানা থাকে যে, তওয়াফ না করলেও হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা শরীয়ত সম্মত, তবে সে যেন আমাদের কাছে তা পৌঁছিয়ে দেয়। আল্লাহ্‌ তাকে উত্তম প্রতিদান দিবেন।

অতএব হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা তওয়াফের সুন্নাতের অন্তর্গত। তাছাড়া এটা তখনই সুন্নাত হিসেবে সাব্যস্ত হবে যখন উহা চুম্বন করতে গিয়ে তওয়াফকারী কষ্ট পাবে না বা অন্য কাউকে কষ্ট দেয়া হবে না। যদি তওয়াফকারীর কষ্ট হয় বা অন্য কাউকে কষ্ট দেয়া হয়, তবে দ্বিতীয় পদক্ষেপ অবলম্বন করবে এবং তা হাত দ্বারা স্পর্শ করে হাতকে চুম্বন করবে। যেমনটি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে শিখিয়েছেন। যদি একাজও কষ্ট করা ও কষ্ট দেয়া ছাড়া আদায় করা সম্ভব না হয়, তবে আমরা তৃতীয় স্তরে উপনীত হয়ে দূর থেকে হাজরে আসওয়াদকে এক হাত দ্বারা ইশারা করব। কিন্তু সে হাতকে চুম্বন করব না। এটাই হচ্ছে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করার সুন্নাতী পদ্ধতি।

হাজরে আসওয়াদকে চুম্বনের বিষয়টি আরো জটিল ও কঠিন হবে- যেমনটি প্রশ্নকারী উল্লেখ করেছেন্ত নারীদেরকে পাথর চুম্বন করার জন্য ঠেলে দেয়া, হতে পারে সে নারী গর্ভবতী বা বৃদ্ধা বা দুর্বল যুবতী অথবা শিশুকে উপরে উঠিয়ে চুম্বনের জন্য এগিয়ে দেয়া, তবে এসব কাজ গর্হিত ও নাজায়েয। কেননা এতে দুবর্ল লোকদেরকে ভয়ঙ্কর এক অবস্থার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, যেখানে আছে সংকীর্ণতা ও পুরুষদের ভীড়ের প্রচন্ডতা। তাই বিষয়টি মাকরূহ অথবা হারামের অন্তর্গত। আল্লাহ্‌র রহমতে অন্য ব্যবস্থা থাকতে কোন মানুষের পক্ষে এদিকে অগ্রসর হওয়া উচিৎ নয়। আপনি যদি কঠিনভাবে ইসলামের বিধান পালন করতে চান, তবে পরাজিত হবেন।